
কাজিপুর(সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের জমার খুকশিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিজ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির মতো আপত্তিকর ও বিপদসংকুল আচরণের অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ আগষ্ট বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া বিপদসংকুল আচরণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে স্থানীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী। শিশুদের জন্য নিরাপদ বিদ্যালয় পরিবেশ নিশ্চিতসহ প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে দারে দারে ফিরছেন ভুক্তভোগী পরিবার। সরেজমিনে, ২৪ আগষ্ট ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঐ শিক্ষার্থী চতুর্থ শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী এবং ২০ আগষ্ট দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলছিলো। পরীক্ষা শেষে শিক্ষক নজরুল শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থান স্পর্শ করে এবং জিজ্ঞাসা করে কেমন লাগছে। এতে করে ঐ শিক্ষার্থী ভয় পেয়ে যায় এবং দ্রুত বিদ্যালয় নিকটবর্তী বাড়িতে ফিরে তার মাকে জানায়।
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন মুরব্বি স্থানীয়দের কাছে ঘুরলেও ঘটনার ৪ দিনেও সমাধান আসেনি। এ ঘটনার পর থেকে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিদ্যালয়ে শিশুদের নিরাপত্তা ও নজরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় জনসাধারণ বিদ্যালয় তালাবদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে খুলে দেয়। ঘটনার পর থেকে ঐ শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়রা আরো জানান, নজরুলের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার যৌন হয়রানি সম্পৃক্ত ঘটনা ঘটায় এবং একাধিকবার তাকে নিয়ে গ্ৰামে বিচার শালিস হয়। অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপদ রাখতে ইতোমধ্যে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উঠে পড়ে লেগেছে। টাকার বিনিময়ে তারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। জমার খুকশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম আক্তার জানান, শিক্ষক নজরুল ঘটনার আগের দিন থেকে ছুটিতে রয়েছেন। স্থানীয়রা প্রশ্ন তোলেন তাহলে ঐ শিক্ষক পরীক্ষা হলে ডিউটি করে কিভাবে।
নজরুলকে বাঁচাতে এ প্রচেষ্টা। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ও সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খোশ মাহমুদ সরকর ( খুশু মাষ্টার) বলেন, বিদ্যালয়ের সম্মান ঠিক রাখতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করছি। কাজিপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত হবে, সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে সুপারিশ করা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং একজন শিক্ষকের নীতি নৈতিকতা নিয়ে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। উল্লেখ্য সামাজিক নিরাপত্তা জনিত কারণে ভুক্তভোগীর নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করা যায়নি।
প্রতিবেদকের নাম 


















