Dhaka ০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল সহ সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার ২ আটোয়ারীর বর্ষালুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে দুর্ধর্ষ চুরি আশ্বিনের হঠাৎ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হোসেনপুর, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নাটোর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনির্দিষ্টকালের ছুটি টঙ্গীতে ছিনতাইকারীর হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা আহত ধুনটে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের বিশেষ মোটরসাইকেল মহড়া কাউনিয়ায় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদারে প্রস্তুতি সভা যার যা আছে তাই নিয়ে মাঠে ঘোষণার পর ৪ গ্রামের সংঘর্ষ চট্টগ্রাম বন্দর এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই বৃহস্পতিবার একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

কাউনিয়ায় অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছেনা মৌসুমীর বাঁচার আকুতি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:৩৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৮ সময় দেখুন

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ বয়স মাত্র ১৭ বছর। যে বয়সে একটি মেয়ের স্বপ্ন থাকার কথা নতুন জীবন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার—সেই বয়সেই মৌসুমি আক্তারের দিন কাটছে বিছানায় শুয়ে শুয়ে, অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণায়। চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি। চোখে-মুখে একটাই আকুতি—“আমি বাঁচতে চাই, আমাকে চিকিৎসা করিয়ে বাঁচান। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিজ দর্পা গ্রামের দিনমজুর মাসুদার রহমানের মেয়ে মৌসুমি আক্তার। চার বোনের মধ্যে সে সবার বড়। পরিবারের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। অন্যের জমিতে বসবাস করে কোনো রকমে সংসার চালায় পরিবারটি। বাবা ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে ছয় সদস্যের সংসারের খাবার জোগাড় করাই কঠিন। সেখানে মেয়ের চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে গঙ্গাচড়া উপজেলায় মৌসুমির বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় আট মাস পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পায় সে। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ কষ্টের জীবন।

আরও পড়ুনঃ  শুদ্ধ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে স্বীকৃতি পেল রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন

 

 

মেয়ের চিকিৎসার জন্য দিনমজুর বাবা নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় সমাজের মানুষের সার্বিক সহযোগিতাও পেয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে একসময় নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। এখন আর মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো সামর্থ্য নেই তাঁর। পরিবারের অভিযোগ, মৌসুমি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনও তেমন খোঁজখবর রাখেননি। ফলে অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়েন তাঁর বাবা-মা। বর্তমানে প্রায় এক মাস ধরে নানার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন মৌসুমি। তাঁর নানাও একজন দিনমজুর। নাতনির চিকিৎসার খরচ জোগাড় করার মতো সামর্থ্য তাঁরও নেই। ফলে একদিকে অসহ্য যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার অর্থের অভাব—দুইয়ের মাঝে আটকে গেছে ১৭ বছরের এই কিশোরীর জীবন। পরিবারের দাবি, মৌসুমির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু এই টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন মৌসুমি।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

 

 

কথা বলতে গেলেই তাঁর চোখে-মুখে ফুটে ওঠে বাঁচার আকুতি। বয়সের তুলনায় জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাঁকে যেন অনেকটাই নিঃশেষ করে দিয়েছে। তারপরও আশা ছাড়েননি তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষগুলো পাশে দাঁড়ালে হয়তো আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। মৌসুমির পরিবার সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, বিত্তবান মানুষ, সামাজিক সংগঠন ও দেশ-বিদেশে থাকা সহৃদয় মানুষের কাছে তাঁর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, একজন অসহায় মেয়ের জীবন বাঁচাতে সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য সহযোগিতাও হতে পারে মৌসুমির জন্য নতুন জীবনের দরজা। মৌসুমির পরিবার তাই মানুষের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ জানিয়েছে—সাধ্যমতো সহযোগিতা করে এই অসহায় মেয়েটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

আরও পড়ুনঃ  ​ফটিকছড়িতে উম্মুল আশেকীন হযরত মুনাওয়ারা বেগম (রা.)'র বেছাল দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী

সহযোগিতা ও যোগাযোগ
মোবাইল: 01926152039
নগদ, বিকাশ ও রকেট (পার্সোনাল)
মোস্তাফিজুর (মৌসুমির চাচা): 01723508709

মৌসুমির পরিবারের আকুতি—অর্থের অভাবে যেন একটি তরুণ প্রাণের চিকিৎসা থেমে না যায়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল সহ সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার ২

কাউনিয়ায় অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছেনা মৌসুমীর বাঁচার আকুতি

আপডেটের সময়: ০৬:৩৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ বয়স মাত্র ১৭ বছর। যে বয়সে একটি মেয়ের স্বপ্ন থাকার কথা নতুন জীবন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার—সেই বয়সেই মৌসুমি আক্তারের দিন কাটছে বিছানায় শুয়ে শুয়ে, অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণায়। চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি। চোখে-মুখে একটাই আকুতি—“আমি বাঁচতে চাই, আমাকে চিকিৎসা করিয়ে বাঁচান। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিজ দর্পা গ্রামের দিনমজুর মাসুদার রহমানের মেয়ে মৌসুমি আক্তার। চার বোনের মধ্যে সে সবার বড়। পরিবারের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। অন্যের জমিতে বসবাস করে কোনো রকমে সংসার চালায় পরিবারটি। বাবা ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে ছয় সদস্যের সংসারের খাবার জোগাড় করাই কঠিন। সেখানে মেয়ের চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে গঙ্গাচড়া উপজেলায় মৌসুমির বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় আট মাস পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পায় সে। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ কষ্টের জীবন।

আরও পড়ুনঃ  ​ফটিকছড়িতে উম্মুল আশেকীন হযরত মুনাওয়ারা বেগম (রা.)'র বেছাল দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী

 

 

মেয়ের চিকিৎসার জন্য দিনমজুর বাবা নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় সমাজের মানুষের সার্বিক সহযোগিতাও পেয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে একসময় নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। এখন আর মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো সামর্থ্য নেই তাঁর। পরিবারের অভিযোগ, মৌসুমি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনও তেমন খোঁজখবর রাখেননি। ফলে অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়েন তাঁর বাবা-মা। বর্তমানে প্রায় এক মাস ধরে নানার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন মৌসুমি। তাঁর নানাও একজন দিনমজুর। নাতনির চিকিৎসার খরচ জোগাড় করার মতো সামর্থ্য তাঁরও নেই। ফলে একদিকে অসহ্য যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার অর্থের অভাব—দুইয়ের মাঝে আটকে গেছে ১৭ বছরের এই কিশোরীর জীবন। পরিবারের দাবি, মৌসুমির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু এই টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন মৌসুমি।

আরও পড়ুনঃ  রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম

 

 

কথা বলতে গেলেই তাঁর চোখে-মুখে ফুটে ওঠে বাঁচার আকুতি। বয়সের তুলনায় জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাঁকে যেন অনেকটাই নিঃশেষ করে দিয়েছে। তারপরও আশা ছাড়েননি তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষগুলো পাশে দাঁড়ালে হয়তো আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। মৌসুমির পরিবার সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, বিত্তবান মানুষ, সামাজিক সংগঠন ও দেশ-বিদেশে থাকা সহৃদয় মানুষের কাছে তাঁর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, একজন অসহায় মেয়ের জীবন বাঁচাতে সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য সহযোগিতাও হতে পারে মৌসুমির জন্য নতুন জীবনের দরজা। মৌসুমির পরিবার তাই মানুষের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ জানিয়েছে—সাধ্যমতো সহযোগিতা করে এই অসহায় মেয়েটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

আরও পড়ুনঃ  ‎শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত শিশু অধিকার দিবসে বগুড়ায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত এমপি বাদশা

সহযোগিতা ও যোগাযোগ
মোবাইল: 01926152039
নগদ, বিকাশ ও রকেট (পার্সোনাল)
মোস্তাফিজুর (মৌসুমির চাচা): 01723508709

মৌসুমির পরিবারের আকুতি—অর্থের অভাবে যেন একটি তরুণ প্রাণের চিকিৎসা থেমে না যায়।