Dhaka ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
১০ বছরের শিশু অপহরণের পরের দিনই উদ্ধার পুলিশের জালে তিন মাদক কারবারি, উদ্ধার ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসায় ভাঙচুরের খবর পেয়ে তদন্তে গিয়ে হামলার শিকার ৫ পুলিশ, আটক ৭ মান্দায় পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে ভাঙচুর, সহস্রাধিক কলাগাছ কাটার অভিযোগ কেরানীগঞ্জে রেল চলাচল শুরু, নতুন যাত্রাপথে যুক্ত হলো দক্ষিণাঞ্চল মাগুরা পুলিশ লাইনস স্কুলে এসএসসিতে শতভাগ সাফল্য, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ৭ বছর পর আদালতের রায়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে জায়গা ফিরে পেলেন আতাউর রহমান বন মামলা থেকে বাঁচতে বন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে উসমান গণির মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজি ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে নাগরপুরে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন মনপুরা পার্কে কাশিমপুর বিএনপির মিলনমেলা, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে দিনব্যাপী আয়োজন

আকাশেই গতিপথ বদলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আইআরজিসির তৈরি নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শত্রুপক্ষের যেকোনো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে সহজেই ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিখুঁত আঘাত হানতে পুরোই সক্ষম দুশমনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত নজরদারি আর ক্ষেপণাস্ত্ররোধী ঢালকেপুরোপুরি ফাঁকি দিতে নতুন প্রযুক্তির পথ ধরেছে ইরান। দেশটির তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন আর আগের মতো নির্দিষ্ট এক বিন্দু থেকে ছুড়ে অন্য বিন্দুতে গিয়ে আছড়ে পড়ার সাধারণ অস্ত্র নয়। বরং উড্ডয়নরত অবস্থাতেই আকাশে নিজেদের গতিপথ নিজে নিজেই বদলে ফেলার ও গন্তব্য পুনর্নির্ধারণ করার এক অভাবনীয় সক্ষমতা অর্জনের ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি। সোমবার উত্তর ইরানের কাজভিন শহরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সামরিক ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে অগ্রগতির বিস্তারিত তুলে ধরেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহাবি। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আইআরজিসির তৈরি নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শত্রুপক্ষের যেকোনো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে সহজেই ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিখুঁত আঘাত হানতে পুরোই সক্ষম।সংবাদ পরিবেশনা প্রযুক্তিগত এই উত্তরণকে আধুনিক যুদ্ধকৌশলের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছে তেহরান। মহাবি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পরিচালিত ‘প্রযুক্তি যুদ্ধ’-এর মূল উদ্দেশ্য কেবল প্রতিপক্ষের ইট-পাথরের দালানকোঠা কিংবা যুদ্ধের সামরিক সরঞ্জাম গুঁড়িয়ে দেয়া নয়। বরং এর চেয়েও বড় লক্ষ্য হলো শত্রুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং গোটা নিরাপত্তা নেটওয়ার্ককে ভণ্ডুল ও অকার্যকর করে দেয়া। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্মিলিত সামরিক আগ্রাসনের সময়েও শত্রুর শক্তিশালী বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে আঘাত হানতে ইরানের এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সাফল্যের সাথে ব্যবহার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  দেখতে একই হলেও এই মাছ ইলিশ নয়

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকার মার্কিন দোসরদের অঞ্চলে অবস্থিত ঘাঁটি তেহরানের এই সাম্প্রতিক কৌশলগত সামরিক চাপের মুখে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলা শুরু করলে পুরো অঞ্চলটিজুড়ে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই আক্রমণের কড়া জবাব হিসেবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালায়। পরবর্তীতে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে গত এপ্রিলে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে জুন মাসে এক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। তবে সমঝোতার সেই উদ্যোগ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রাজনৈতিক টানাপোড়েনে গত জুলাই মাসে সেই চুক্তি সম্পূর্ণ বানচাল হয়ে যায়। চুক্তি নস্যাৎ হওয়ার পর তেহরান ও ওয়াশিংটন আবারো টানা দুই সপ্তাহ ধরে একে অপরের সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি জোরালো হামলা শুরু করে। অবশ্য আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব সমাধানের আশ্বাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই এই বোমাবর্ষণ ও হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন। এদিকে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যাওয়ার সময় গতিপথ বদলে ফেলার এই আধুনিক ইরানি প্রযুক্তির খবর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গণভোটের অধিকার চুরি করেছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

১০ বছরের শিশু অপহরণের পরের দিনই উদ্ধার

আকাশেই গতিপথ বদলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

আপডেটের সময়: ০৬:১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আইআরজিসির তৈরি নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শত্রুপক্ষের যেকোনো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে সহজেই ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিখুঁত আঘাত হানতে পুরোই সক্ষম দুশমনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত নজরদারি আর ক্ষেপণাস্ত্ররোধী ঢালকেপুরোপুরি ফাঁকি দিতে নতুন প্রযুক্তির পথ ধরেছে ইরান। দেশটির তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন আর আগের মতো নির্দিষ্ট এক বিন্দু থেকে ছুড়ে অন্য বিন্দুতে গিয়ে আছড়ে পড়ার সাধারণ অস্ত্র নয়। বরং উড্ডয়নরত অবস্থাতেই আকাশে নিজেদের গতিপথ নিজে নিজেই বদলে ফেলার ও গন্তব্য পুনর্নির্ধারণ করার এক অভাবনীয় সক্ষমতা অর্জনের ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি। সোমবার উত্তর ইরানের কাজভিন শহরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সামরিক ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে অগ্রগতির বিস্তারিত তুলে ধরেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহাবি। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আইআরজিসির তৈরি নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শত্রুপক্ষের যেকোনো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে সহজেই ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিখুঁত আঘাত হানতে পুরোই সক্ষম।সংবাদ পরিবেশনা প্রযুক্তিগত এই উত্তরণকে আধুনিক যুদ্ধকৌশলের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছে তেহরান। মহাবি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পরিচালিত ‘প্রযুক্তি যুদ্ধ’-এর মূল উদ্দেশ্য কেবল প্রতিপক্ষের ইট-পাথরের দালানকোঠা কিংবা যুদ্ধের সামরিক সরঞ্জাম গুঁড়িয়ে দেয়া নয়। বরং এর চেয়েও বড় লক্ষ্য হলো শত্রুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং গোটা নিরাপত্তা নেটওয়ার্ককে ভণ্ডুল ও অকার্যকর করে দেয়া। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্মিলিত সামরিক আগ্রাসনের সময়েও শত্রুর শক্তিশালী বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে আঘাত হানতে ইরানের এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সাফল্যের সাথে ব্যবহার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  বন মামলা থেকে বাঁচতে বন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে উসমান গণির মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজি

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকার মার্কিন দোসরদের অঞ্চলে অবস্থিত ঘাঁটি তেহরানের এই সাম্প্রতিক কৌশলগত সামরিক চাপের মুখে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলা শুরু করলে পুরো অঞ্চলটিজুড়ে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই আক্রমণের কড়া জবাব হিসেবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালায়। পরবর্তীতে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে গত এপ্রিলে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে জুন মাসে এক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। তবে সমঝোতার সেই উদ্যোগ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রাজনৈতিক টানাপোড়েনে গত জুলাই মাসে সেই চুক্তি সম্পূর্ণ বানচাল হয়ে যায়। চুক্তি নস্যাৎ হওয়ার পর তেহরান ও ওয়াশিংটন আবারো টানা দুই সপ্তাহ ধরে একে অপরের সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি জোরালো হামলা শুরু করে। অবশ্য আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব সমাধানের আশ্বাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই এই বোমাবর্ষণ ও হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন। এদিকে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যাওয়ার সময় গতিপথ বদলে ফেলার এই আধুনিক ইরানি প্রযুক্তির খবর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  হরমুজে দ্বিতীয় কোনো ‘করিডর’ হতে দেবে না ইরান

সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর