Dhaka ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভাঙ্গুড়ায় বিভিন্ন আয়োজনে শেষ হলো জগন্নাথ দেবের উল্টোরথযাত্রা উৎসব দেওয়ান হাট এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি হরিনাহাটা বিপ্লবী ফুটবল ক্লাবের উদ্যোগে ২২তম ফাইনাল ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত শাজাহানপুরে ১৩.৫ কেজি গাঁজাসহ নারী পুরুষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ মাঠে বৃক্ষরোপণ করেছে জেলা ছাত্রদল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জিয়া মঞ্চের এক, দুই, তিন ইউনিট কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন বগুড়ায় উত্তরের পাঁচ জেলার প্রতিনিধিদের নিয়ে ইতিহাস চর্চা ও গবেষণা সংস্থার দিনব্যাপী ওয়ার্কশপ নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৪১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, মেরামতে ২৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাব নাগরপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, উপস্থিত এমপি লাভলু

অপমান ঢাকতে’ দাদি-নাতনিকে হত্যা, চাচা গ্রেপ্তার

ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্যকর দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম। গ্রেপ্তার শরীফ সম্পর্কে হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোরী জামিলা আক্তারের চাচা। ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যৌন হয়রানির চেষ্টা এবং তাতে বাধা পেয়ে ক্ষোভ থেকেই শরীফ সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৬) হত্যা করে। গ্রেপ্তার শরীফ দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক।

নিহতরাও একই এলাকার বাসিন্দা। জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ ঘটনায় জামিলার বোন বাদী হয়ে গত শনিবার ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ কাজের সুবাদে প্রায়ই ঢাকার সাভারে বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করতেন। জামিলা তার দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতেই থাকত। ঘটনার সময় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে বলে জানান ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শরীফ বাজার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জামিলাদের বাড়িতে যায়। সে সময় দাদি বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামিলাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। এতে জামিলা প্রতিবাদ করে এবং তাকে চড় মারে। অপমানিত হয়ে সেদিন সে ফিরে যায়।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই বিপ্লবে শহীদদের স্মরণে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

 

বাড়ির উঠানে দাদির, সরিষাক্ষেতে নাতনির মরদেহ উদ্ধারবাড়ির উঠানে দাদির, সরিষাক্ষেতে নাতনির মরদেহ উদ্ধার এরপর গত শুক্রবার গভীর রাতে শরীফ পুনরায় ওই বাড়িতে যায়। প্রথমে আগের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলেও সুফিয়া খাতুন চিৎকার শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফ পাশে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা চিৎকার শুরু করে। এসময় শরীফ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি যন্ত্র দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করে। পরে জামিলাকে টেনে বাড়ির পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে যায়। পথে পুকুরপাড়ে তাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। শনিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ এবং পাশের সরিষাক্ষেতে জামিলার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জের মনুবেপারী ঢালে তোরণ ভেঙে পড়ে তীব্র যানজট, চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামান এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। স্থানীয় তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন হিসেবে শরীফুল ইসলামকে শনিবার রাতেই আটক করা হয়। ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে অপরাধ স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

আরও পড়ুনঃ  চন্দ্রগঞ্জ সাদারঘর ব্রিজ এখন যেন মৃত্যুফাঁদ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভাঙ্গুড়ায় বিভিন্ন আয়োজনে শেষ হলো জগন্নাথ দেবের উল্টোরথযাত্রা উৎসব

অপমান ঢাকতে’ দাদি-নাতনিকে হত্যা, চাচা গ্রেপ্তার

আপডেটের সময়: ০৬:৫০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্যকর দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম। গ্রেপ্তার শরীফ সম্পর্কে হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোরী জামিলা আক্তারের চাচা। ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যৌন হয়রানির চেষ্টা এবং তাতে বাধা পেয়ে ক্ষোভ থেকেই শরীফ সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৬) হত্যা করে। গ্রেপ্তার শরীফ দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক।

নিহতরাও একই এলাকার বাসিন্দা। জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ ঘটনায় জামিলার বোন বাদী হয়ে গত শনিবার ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ কাজের সুবাদে প্রায়ই ঢাকার সাভারে বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করতেন। জামিলা তার দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতেই থাকত। ঘটনার সময় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে বলে জানান ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শরীফ বাজার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জামিলাদের বাড়িতে যায়। সে সময় দাদি বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামিলাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। এতে জামিলা প্রতিবাদ করে এবং তাকে চড় মারে। অপমানিত হয়ে সেদিন সে ফিরে যায়।

আরও পড়ুনঃ  চন্দ্রগঞ্জ সাদারঘর ব্রিজ এখন যেন মৃত্যুফাঁদ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

 

বাড়ির উঠানে দাদির, সরিষাক্ষেতে নাতনির মরদেহ উদ্ধারবাড়ির উঠানে দাদির, সরিষাক্ষেতে নাতনির মরদেহ উদ্ধার এরপর গত শুক্রবার গভীর রাতে শরীফ পুনরায় ওই বাড়িতে যায়। প্রথমে আগের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলেও সুফিয়া খাতুন চিৎকার শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফ পাশে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা চিৎকার শুরু করে। এসময় শরীফ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি যন্ত্র দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করে। পরে জামিলাকে টেনে বাড়ির পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে যায়। পথে পুকুরপাড়ে তাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। শনিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ এবং পাশের সরিষাক্ষেতে জামিলার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই বিপ্লবে শহীদদের স্মরণে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামান এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। স্থানীয় তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন হিসেবে শরীফুল ইসলামকে শনিবার রাতেই আটক করা হয়। ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে অপরাধ স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

আরও পড়ুনঃ  ​অভাবের নির্মম গ্রাস: কেরানীগঞ্জের খোলামোরায় ৪ সন্তানকে রেখে বাবার চিরবিদায়