
মোঃ ইসমাইল হোসেন: চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের অতি পরিচিত সাদারঘর (হাদারঘর) ব্রিজটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ব্রিজের পশ্চিম পাশের নিরাপত্তা রেলিংয়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে আছে, পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সুরক্ষা স্ল্যাবও নেই। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থায় পড়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর হাজারো মানুষ।মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটির পশ্চিম পাশের মাঝামাঝি অংশের রেলিং সম্পূর্ণ ভেঙে খালে পড়ে রয়েছে। রেলিং না থাকায় সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো যানবাহন বা পথচারী নিচে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ব্রিজের দুই পাশে থাকা একাধিক সুরক্ষা স্ল্যাবও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে গভীর রাতে বালুবাহী একটি ভারী ট্রাক ব্রিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রেলিংয়ের বড় একটি অংশ ভেঙে খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও ভাঙা অংশ মেরামত করা হয়নি। এরই মধ্যে ব্রিজের পাশে থাকা কয়েকটি সুরক্ষা স্ল্যাবও রহস্যজনকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।সাদারঘর ব্রিজটি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগ সেতু। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে কিংবা বৃষ্টির সময় ভাঙা রেলিংয়ের কারণে যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুতগতির কোনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারালে সরাসরি খালে পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের প্রশ্ন, বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটার পরই কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে?স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থে অবিলম্বে ভাঙা রেলিং পুনর্নির্মাণ, নিখোঁজ সুরক্ষা স্ল্যাব পুনঃস্থাপন এবং ব্রিজটির প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ ও সরেজমিনে তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদকের নাম 



















