Dhaka ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
১০ বছরের শিশু অপহরণের পরের দিনই উদ্ধার পুলিশের জালে তিন মাদক কারবারি, উদ্ধার ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসায় ভাঙচুরের খবর পেয়ে তদন্তে গিয়ে হামলার শিকার ৫ পুলিশ, আটক ৭ মান্দায় পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে ভাঙচুর, সহস্রাধিক কলাগাছ কাটার অভিযোগ কেরানীগঞ্জে রেল চলাচল শুরু, নতুন যাত্রাপথে যুক্ত হলো দক্ষিণাঞ্চল মাগুরা পুলিশ লাইনস স্কুলে এসএসসিতে শতভাগ সাফল্য, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ৭ বছর পর আদালতের রায়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে জায়গা ফিরে পেলেন আতাউর রহমান বন মামলা থেকে বাঁচতে বন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে উসমান গণির মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজি ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে নাগরপুরে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন মনপুরা পার্কে কাশিমপুর বিএনপির মিলনমেলা, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে দিনব্যাপী আয়োজন

মান্দায় এলজিইডির কার্যসহকারীকে হানিট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর মান্দায় এলজিইডি কার্যালয়ের কার্যসহকারী আলমগীর হোসেনকে হানিট্র্যাপে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, চাঁদা দাবি এবং জোরপূর্বক ব্যাংকের চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে কথিত ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মান্দা থানা পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মান্দা উপজেলার কুসুম্বা মোড় এলাকার শ্রী কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং বড়পই গ্রামের তানজিমা খাতুন (৪৪)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তানজিমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মান্দা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। গত ৭ আগস্ট রাতে তিনি আলমগীরকে ফোন করে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এরপর কথামতো শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমগীর কুসুম্বা মসজিদ এলাকায় যান। সেখানে পৌঁছালে তানজিমার সহযোগী কনক কুমার, সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজন তাকে চা খাওয়ার কথা বলে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সেখানে চা ও সিগারেটের সঙ্গে কোনো ধরনের চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে আলমগীরকে কাবু করা হয়। পরে তাকে পাশের একটি মাটির ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তানজিমা খাতুনকে দিয়ে আলমগীরকে জড়িয়ে ধরিয়ে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীর মানিব্যাগ থেকে নগদ ৬ হাজার ৭০০ টাকা এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে মান-সম্মানের ভয়ে আলমগীর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। পরে স্বজনের মাধ্যমে ব্যাংকের চেকবই আনানো হয়। অভিযুক্তরা চাপ সৃষ্টি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক, একটি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা ওই চেক নিয়ে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, সতীহাট শাখায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য যান।
বিষয়টি ভুক্তভোগী আলমগীরের মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মান্দা থানা পুলিশ ব্যাংকটিতে অভিযান চালায়। এ সময় কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা সুমন ও ইসরাফিল পালিয়ে যান।
পুলিশ ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ভুক্তভোগীর জমা দেওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চেকটি উদ্ধার ও জব্দ করে। পরবর্তীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তানজিমা খাতুনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এলজিইডির কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মান্দা থানায় মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  দেবিদ্বারে ভাড়াটিয়ার হাতে গৃহকর্ত্রী খুন: আটক ১

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

১০ বছরের শিশু অপহরণের পরের দিনই উদ্ধার

মান্দায় এলজিইডির কার্যসহকারীকে হানিট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেটের সময়: ০৫:২১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর মান্দায় এলজিইডি কার্যালয়ের কার্যসহকারী আলমগীর হোসেনকে হানিট্র্যাপে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, চাঁদা দাবি এবং জোরপূর্বক ব্যাংকের চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে কথিত ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মান্দা থানা পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মান্দা উপজেলার কুসুম্বা মোড় এলাকার শ্রী কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং বড়পই গ্রামের তানজিমা খাতুন (৪৪)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তানজিমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মান্দা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। গত ৭ আগস্ট রাতে তিনি আলমগীরকে ফোন করে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এরপর কথামতো শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমগীর কুসুম্বা মসজিদ এলাকায় যান। সেখানে পৌঁছালে তানজিমার সহযোগী কনক কুমার, সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজন তাকে চা খাওয়ার কথা বলে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সেখানে চা ও সিগারেটের সঙ্গে কোনো ধরনের চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে আলমগীরকে কাবু করা হয়। পরে তাকে পাশের একটি মাটির ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তানজিমা খাতুনকে দিয়ে আলমগীরকে জড়িয়ে ধরিয়ে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীর মানিব্যাগ থেকে নগদ ৬ হাজার ৭০০ টাকা এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে মান-সম্মানের ভয়ে আলমগীর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। পরে স্বজনের মাধ্যমে ব্যাংকের চেকবই আনানো হয়। অভিযুক্তরা চাপ সৃষ্টি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক, একটি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা ওই চেক নিয়ে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, সতীহাট শাখায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য যান।
বিষয়টি ভুক্তভোগী আলমগীরের মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মান্দা থানা পুলিশ ব্যাংকটিতে অভিযান চালায়। এ সময় কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা সুমন ও ইসরাফিল পালিয়ে যান।
পুলিশ ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ভুক্তভোগীর জমা দেওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চেকটি উদ্ধার ও জব্দ করে। পরবর্তীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তানজিমা খাতুনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এলজিইডির কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মান্দা থানায় মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  হাসিনার জ্বালানি নীতির কারণে বিদ্যুৎ ভোগান্তি বলে মন্তব্য ইশরাকের

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।