
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় দীর্ঘ ৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আজ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে। আলোচনায় আসতে পারে আনুষাঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি ও।এই শান্তি আলোচনা দু’ দেশের মধ্যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান দিতে পারলে বিশ্বের সকল দেশগুলোর মধ্যে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থানে ফিরে আসতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই শান্তি আলোচনা ফলপ্রসু হবে বলে আশাবাদী ইসলামাবাদ। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো ও তাই ভাবছে। এবং বাংলাদেশ ও তাই কামনা করছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে বা করছে সে নিয়ে বাংলাদেশের যতটুকু মাথাব্যথা তারচেয়ে ঢের বেশি বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে। বাংলাদেশ সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই, অথচ পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে সকল ধরনের যানবাহন চালকদের। দেশের রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পতিত। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন। থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা কখনো বা সারাদিন রাত। এই জ্বালানি সংকটের কারণে ইতোমধ্যেই সারাদেশেই শুরু হয়েছে ব্যাপক লোডশেডিং। যা থাকছে ঘন্টার পর ঘন্টা। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমানো হয়েছে কর্ম ঘন্টা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা মন্ত্রীর নির্দেশনা সপ্তাহে তিন দিন অফলাইন ও তিন দিন অনলাইনে ক্লাস করতে হবে।
এসবই হচ্ছে জ্বালানি সংকট মোকাবেলার কারণে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কারণে। এদিকে দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সংকটকে পুঁজি করে মাটির নিচে বাঁশের ঝাড়ের নিচে ঘরের খাটের নিচে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন গোডাউনে তৈল মজুদ করে নিজেদের আখের গোছাতে চেষ্টা করছে যদিও বা এরই মধ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক স্থানেই এসব কালো বাজারীদের কে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতেরমাধ্যমে মাধ্যমে জেল জরিমানা করেছেন। এদের কাউকে কাউকে দশ বিশ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। যা অর্থদণ্ডেরপরিমাণ খুবই নগণ্য। এসব কালোবাজারিদেরকে শুধু অর্থদণ্ড করলেই চলবে না এদেরকে কমপক্ষে তিন মাস ডিটেনশনে রাখা হলে হয়তোবা কিছুটা স্বভাবের পরিবর্তন আসতে পারে। এই বিষয়টা প্রশাসনের ভেবে দেখা উচিত এটা করা যায় কিনা। আবার যেন হিতে বিপরীত না হয় সেই দিকটাও বিবেচনায় রাখা জরুরী। আমরা একটি খবর দেখেছি বগুড়ার গাবতলীতে একটি তৈলের খনির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল এটিকে নাকি পরবর্তীতে সিল্ড করে দেয়া হয়েছে যেমনটি করা হয়েছিল বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় তৈলের খনিটি সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দেয়া। যে টিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনেক সম্ভাবনার পথ দেখিয়েছিলেন, আজ সেখান থেকে বরিশালবাসী ও অন্ধকারে।
কেন এই হিজলার তেলের খনিটি বন্ধ করে দেয়া হলো? বাংলাদেশ এমন সম্ভাবনাময় অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও কেন আমাদেরকে অন্য দেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে এটা বুঝাই মুশকিল। সে যাই হোক আমরা আশা করব বর্তমানে বাংলাদেশের যিনি প্রধানমন্ত্রী, তিনি একাধারে একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, একজন সফল রাষ্ট্রনায়কের সন্তান, এবং একজন সফল তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রীর সন্তান এবং বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের কর্ণধার। দেশবাসীর প্রত্যাশা থাকলো বগুড়ার গাবতলী ও বরিশালের হিজলার এই তেলের খনি দুইটিকে কিভাবে সচল করা যায় সেদিকে দৃষ্টি দিবেন। পাশাপাশি বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় রাজধানী সহ দেশের সকল ফিটনেস বিহীন যানবাহনগুলো রাজপথ থেকে তুলে দেয়া জরুরী মনে হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সহ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরী। দুর্নীতি পরায়ন অবৈধ ব্যবসায়ী ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও কঠোর ব্যবস্থাপনা জরুরী বলে মনে করছেন দেশের বিজ্ঞজনেরা। এবং আমারা ও তাই মনে করছি।
লেখক :যুগ্ম সম্পাদক
দৈনিক আজকের জনবানী।
প্রতিবেদকের নাম 
























