Dhaka ০১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শুভ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তিথি সিরাজগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস আর নেই। তারাগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে উদ্ধার করে ‘গ্লোরি’র আশ্রয়ে পাঠালেন যুবদল নেতারা ফরিদগঞ্জে সুবিদপুর ওল্ড স্কীম দাখিল মাদ্রাসা অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে কুলাউড়া৫০ শয্যা হাসপাতাল ফরিদগঞ্জে ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়ার বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা উলিপুর সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নবগঠিত সিলেট জেলা যুবদল কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে জৈন্তাপুরে আনন্দ মিছিল শরীয়তপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আনন্দ মিছিল চৌরাট শিবপুর বরেন্দ্র ডিগ্রী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণ

শুভ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তিথি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৬ সময় দেখুন

দীঘিনালা প্রতিনিধিঃ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি অত্যন্ত পবিত্র ও আনন্দময় পূণ্যময় তিথি । ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এটি উদযাপিত হয়।এই পূর্ণিমার মূল তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:

 

​১. দান ও ঐক্যের শিক্ষা
​মধু পূর্ণিমার প্রধান শিক্ষা হলো দান, অহিংসা, ভালোবাসা এবং সকল জীবের প্রতি মৈত্রী ভাব। মধু যেমন বিভিন্ন ফুল থেকে সংগৃহীত হয়ে মিষ্টতা তৈরি করে, তেমনি জীবনের নানা বৈচিত্র্যের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই এই উৎসবের মূল বার্তা।

আরও পড়ুনঃ  কেরাণীগঞ্জের শুভাঢ্যা সাবান ফ্যাক্টরী রাস্তার নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন

 

 

​২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (বানর ও হাতির দান)
​বৌদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ যখন কোশাম্বির ঘোষিতারামে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর শিষ্যদের (ভিক্ষু সংঘের) মধ্যে কিছুটা মতভেদের সৃষ্টি হয়। ভগবান বুদ্ধ তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এককভাবে নির্জনতা পালনের জন্য পারিলেয়্য বনে চলে যান।
​হাতির সেবা: সেই বনে ‘পারিলেয়্য’ নামের একটি বুনো হাতি বুদ্ধের নিঃস্বার্থ সেবা করা শুরু করে। হাতিটি প্রতিদিন বুদ্ধের থাকার স্থান পরিষ্কার করত এবং বনের ফলমূল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত।বানরের মধু দান: হাতির সেবা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বনের একটি বানর একটি গাছের কোটর থেকে মৌচাক সংগ্রহ করে তা বুদ্ধকে দান করে। চাকটিতে মৌমাছির ডিম ছিল বলে বুদ্ধ তা প্রথমে গ্রহণ করেননি। তা বুঝতে পেরে বানরটি সাবধানে ডিমগুলো সরিয়ে আবার বুদ্ধের কাছে মধু নিবেদন করে। বুদ্ধ প্রসন্ন মনে সেই মধু গ্রহণ করেন।
​বানরটি বুদ্ধের মধু গ্রহণের আনন্দ সহ্য করতে না পেরে গাছের ডাল ধরে লাফাতে গিয়ে পড়ে মারা যায় এবং তাঁর এই পরম দানের পুণ্যফলে দেবলোকে জন্মগ্রহণ করে।

আরও পড়ুনঃ  টেকনাফের বেড়িবাঁধ প্রকল্পে সীমান্ত নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে: এ্যানি

 

 

​৩. সংঘবদ্ধতা ও শান্তির বার্তা
​কোশাম্বির বিরোধে জড়িয়ে পড়া শিষ্যরা যখন জানতে পারেন যে একজন বনের পশুও বুদ্ধের প্রতি অনুগত থেকে তাঁর সেবা করছে, তখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। তারা বুদ্ধের কাছে ক্ষমা চান এবং নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে আবার ঐক্যবদ্ধ হন।
পূণ্যার্থীরা সকালে বিহারে এসে বুদ্ধকে বন্দনা পরে ভিক্ষুদের বন্দনা ও পঞ্চশীল গ্রহণ করে দান কার্য সম্পাদন করে থাকেন৷

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল, কঠোর হুঁশিয়ারি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শুভ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তিথি

শুভ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তিথি

আপডেটের সময়: ১২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীঘিনালা প্রতিনিধিঃ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি অত্যন্ত পবিত্র ও আনন্দময় পূণ্যময় তিথি । ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এটি উদযাপিত হয়।এই পূর্ণিমার মূল তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:

 

​১. দান ও ঐক্যের শিক্ষা
​মধু পূর্ণিমার প্রধান শিক্ষা হলো দান, অহিংসা, ভালোবাসা এবং সকল জীবের প্রতি মৈত্রী ভাব। মধু যেমন বিভিন্ন ফুল থেকে সংগৃহীত হয়ে মিষ্টতা তৈরি করে, তেমনি জীবনের নানা বৈচিত্র্যের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই এই উৎসবের মূল বার্তা।

আরও পড়ুনঃ  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিমের করণীয় বিষয়ে সভা

 

 

​২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (বানর ও হাতির দান)
​বৌদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ যখন কোশাম্বির ঘোষিতারামে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর শিষ্যদের (ভিক্ষু সংঘের) মধ্যে কিছুটা মতভেদের সৃষ্টি হয়। ভগবান বুদ্ধ তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এককভাবে নির্জনতা পালনের জন্য পারিলেয়্য বনে চলে যান।
​হাতির সেবা: সেই বনে ‘পারিলেয়্য’ নামের একটি বুনো হাতি বুদ্ধের নিঃস্বার্থ সেবা করা শুরু করে। হাতিটি প্রতিদিন বুদ্ধের থাকার স্থান পরিষ্কার করত এবং বনের ফলমূল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত।বানরের মধু দান: হাতির সেবা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বনের একটি বানর একটি গাছের কোটর থেকে মৌচাক সংগ্রহ করে তা বুদ্ধকে দান করে। চাকটিতে মৌমাছির ডিম ছিল বলে বুদ্ধ তা প্রথমে গ্রহণ করেননি। তা বুঝতে পেরে বানরটি সাবধানে ডিমগুলো সরিয়ে আবার বুদ্ধের কাছে মধু নিবেদন করে। বুদ্ধ প্রসন্ন মনে সেই মধু গ্রহণ করেন।
​বানরটি বুদ্ধের মধু গ্রহণের আনন্দ সহ্য করতে না পেরে গাছের ডাল ধরে লাফাতে গিয়ে পড়ে মারা যায় এবং তাঁর এই পরম দানের পুণ্যফলে দেবলোকে জন্মগ্রহণ করে।

আরও পড়ুনঃ  টেকনাফের বেড়িবাঁধ প্রকল্পে সীমান্ত নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে: এ্যানি

 

 

​৩. সংঘবদ্ধতা ও শান্তির বার্তা
​কোশাম্বির বিরোধে জড়িয়ে পড়া শিষ্যরা যখন জানতে পারেন যে একজন বনের পশুও বুদ্ধের প্রতি অনুগত থেকে তাঁর সেবা করছে, তখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। তারা বুদ্ধের কাছে ক্ষমা চান এবং নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে আবার ঐক্যবদ্ধ হন।
পূণ্যার্থীরা সকালে বিহারে এসে বুদ্ধকে বন্দনা পরে ভিক্ষুদের বন্দনা ও পঞ্চশীল গ্রহণ করে দান কার্য সম্পাদন করে থাকেন৷

আরও পড়ুনঃ  উলিপুর সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত