
দীঘিনালা প্রতিনিধিঃ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি অত্যন্ত পবিত্র ও আনন্দময় পূণ্যময় তিথি । ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এটি উদযাপিত হয়।এই পূর্ণিমার মূল তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:
১. দান ও ঐক্যের শিক্ষা
মধু পূর্ণিমার প্রধান শিক্ষা হলো দান, অহিংসা, ভালোবাসা এবং সকল জীবের প্রতি মৈত্রী ভাব। মধু যেমন বিভিন্ন ফুল থেকে সংগৃহীত হয়ে মিষ্টতা তৈরি করে, তেমনি জীবনের নানা বৈচিত্র্যের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই এই উৎসবের মূল বার্তা।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (বানর ও হাতির দান)
বৌদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ যখন কোশাম্বির ঘোষিতারামে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর শিষ্যদের (ভিক্ষু সংঘের) মধ্যে কিছুটা মতভেদের সৃষ্টি হয়। ভগবান বুদ্ধ তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এককভাবে নির্জনতা পালনের জন্য পারিলেয়্য বনে চলে যান।
হাতির সেবা: সেই বনে ‘পারিলেয়্য’ নামের একটি বুনো হাতি বুদ্ধের নিঃস্বার্থ সেবা করা শুরু করে। হাতিটি প্রতিদিন বুদ্ধের থাকার স্থান পরিষ্কার করত এবং বনের ফলমূল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত।বানরের মধু দান: হাতির সেবা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বনের একটি বানর একটি গাছের কোটর থেকে মৌচাক সংগ্রহ করে তা বুদ্ধকে দান করে। চাকটিতে মৌমাছির ডিম ছিল বলে বুদ্ধ তা প্রথমে গ্রহণ করেননি। তা বুঝতে পেরে বানরটি সাবধানে ডিমগুলো সরিয়ে আবার বুদ্ধের কাছে মধু নিবেদন করে। বুদ্ধ প্রসন্ন মনে সেই মধু গ্রহণ করেন।
বানরটি বুদ্ধের মধু গ্রহণের আনন্দ সহ্য করতে না পেরে গাছের ডাল ধরে লাফাতে গিয়ে পড়ে মারা যায় এবং তাঁর এই পরম দানের পুণ্যফলে দেবলোকে জন্মগ্রহণ করে।
৩. সংঘবদ্ধতা ও শান্তির বার্তা
কোশাম্বির বিরোধে জড়িয়ে পড়া শিষ্যরা যখন জানতে পারেন যে একজন বনের পশুও বুদ্ধের প্রতি অনুগত থেকে তাঁর সেবা করছে, তখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। তারা বুদ্ধের কাছে ক্ষমা চান এবং নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে আবার ঐক্যবদ্ধ হন।
পূণ্যার্থীরা সকালে বিহারে এসে বুদ্ধকে বন্দনা পরে ভিক্ষুদের বন্দনা ও পঞ্চশীল গ্রহণ করে দান কার্য সম্পাদন করে থাকেন৷
প্রতিবেদকের নাম 


















