Dhaka ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক উত্তর সাতকানিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও ৩জন আহত রানীগঞ্জ রবিন মার্কেট বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ০১ টাকায় লাউ। দিশেহারা কৃষক বাউফলে খালে ভাসমান অবস্থায় হাত বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করল পুলিশ সাতকানিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল সাঈদ সোহেলের জন্মদিন উদযাপন মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে ফুটবলকে হাতিয়ার করলেন চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন মন্ডল পত্নীতলায় শহীদ জিয়াউর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন ধুনটে আদালতের তোয়াক্কা না করে দোকানের সামনে বেড়া, বন্ধ বেচাকেনা নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫ ধুনটে পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, ৫ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

পনেরো দিন ধরে মাছ-মাংস কিনি না

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের এক কোণে, মানুষের ভিড় আর যানজটের মাঝেই ফুটপাতে ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে বসে আছেন কাপড়ের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। কথা বলতে বলতে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে তার সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন তার মনটা ছিল ভীষণ ভারী। কিছুক্ষণ পর তার কথাতেই বোঝা গেলো সেই ভারের কারণ। সকাল থেকে মাত্র দুটি শার্ট বিক্রি হয়েছে। কিছুটা বিরক্ত স্বরে তিনি বললেন, এখন আর আগের মতো বেচাকেনা হয় না। গত দুই দিনের বৃষ্টির কারণে বিক্রি আরও কমে গেছে। কথায় কথায় তার বয়স জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানেন না। প্রায় ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন ফুটপাতে ব্যবসা করেই কেটে যাচ্ছে তার জীবন। ঢাকায় আসার সময় বয়স ছিল হয়তো ৮-১০ বছর; এভাবেই স্মৃতি হাতড়ে জানান তিনি। বাবা-মা ঢাকায় আসার আগেই মারা গেছেন। ঢাকায় এসে শুরুতে টোকাইয়ের কাজ করতেন রফিকুল। পরে কিছু পুঁজি জোগাড় করে শুরু করেন কাপড়ের ব্যবসা। সেই থেকেই রাস্তার ধুলো, রোদ আর বৃষ্টিই তার নিত্যসঙ্গী।

আরও পড়ুনঃ  রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

বর্তমানে তিনি সোনারগাঁ এলাকায় থাকেন। এক রুমের একটি বাসা, মাসিক ভাড়া তিন হাজার টাকা। সেই এক ঘরেই স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার। বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু আয় কমে যাওয়ায় সংসারে টান পড়েছে। ব্যবসা বড় করার জন্য কিছু টাকা ঋণও করেছিলেন রফিকুল। সেই ঋণের বোঝা নিয়েই চলছে কোনোরকম দিন। তিনি বলেন, ধার করি, পরে কষ্ট করে শোধও দিই। কিন্তু সংসারের খরচ আর ঋণের চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ি। এভাবে আর কতদিন চলবে বুঝতে পারি না। এখন তো মনে হয়, কোনোভাবে দিন পার করাই সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তার জীবনে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেই তার বড় মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মেয়েটার জন্য এখন পর্যন্ত পরীক্ষার সময় নতুন কিছু কিনে দিতে পারিনি। ওর দিকে তাকাতেও কষ্ট হয়।

আরও পড়ুনঃ  জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, কিন্তু তা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান

 

রফিকুল জানান, প্রতি মাসের ২০ তারিখে ঘরভাড়া দেওয়ার কথা। পাঁচ দিন সময় নিয়েছিলেন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে। সেই সময় পেরিয়ে গেলেও এপ্রিল মাসের ভাড়া এখনো বাকি। বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছেন, কিন্তু তিনি নিরুপায়। বলেন, যাওয়ার আর জায়গা নেই। তাই যত কষ্টই হোক, এখানেই থাকতে হবে। পারিবারিক জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, কী আর বলবো, গত পনেরো দিন ধরে মাছ-মাংস কিনি না। কোনোরকমে জীবন চালানোর জন্য বাজার করি। মেয়েটার পরীক্ষা চলছে, তাকে একটু ভালো খাবারও দিতে পারি না। মেয়েটা একটা নতুন জামা চেয়েছিল পরীক্ষার জন্য, সেটাও দিতে পারলাম না। এই আক্ষেপের মাঝেই হঠাৎ একজন ক্রেতা আসেন। মুহূর্তেই নিজের কষ্ট সরিয়ে রেখে বেচাকেনায় মন দেন রফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুনঃ  এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ জীবন একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক উত্তর সাতকানিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও ৩জন আহত

পনেরো দিন ধরে মাছ-মাংস কিনি না

আপডেটের সময়: ০৫:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের এক কোণে, মানুষের ভিড় আর যানজটের মাঝেই ফুটপাতে ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে বসে আছেন কাপড়ের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। কথা বলতে বলতে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে তার সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন তার মনটা ছিল ভীষণ ভারী। কিছুক্ষণ পর তার কথাতেই বোঝা গেলো সেই ভারের কারণ। সকাল থেকে মাত্র দুটি শার্ট বিক্রি হয়েছে। কিছুটা বিরক্ত স্বরে তিনি বললেন, এখন আর আগের মতো বেচাকেনা হয় না। গত দুই দিনের বৃষ্টির কারণে বিক্রি আরও কমে গেছে। কথায় কথায় তার বয়স জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানেন না। প্রায় ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন ফুটপাতে ব্যবসা করেই কেটে যাচ্ছে তার জীবন। ঢাকায় আসার সময় বয়স ছিল হয়তো ৮-১০ বছর; এভাবেই স্মৃতি হাতড়ে জানান তিনি। বাবা-মা ঢাকায় আসার আগেই মারা গেছেন। ঢাকায় এসে শুরুতে টোকাইয়ের কাজ করতেন রফিকুল। পরে কিছু পুঁজি জোগাড় করে শুরু করেন কাপড়ের ব্যবসা। সেই থেকেই রাস্তার ধুলো, রোদ আর বৃষ্টিই তার নিত্যসঙ্গী।

আরও পড়ুনঃ  পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

 

বর্তমানে তিনি সোনারগাঁ এলাকায় থাকেন। এক রুমের একটি বাসা, মাসিক ভাড়া তিন হাজার টাকা। সেই এক ঘরেই স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার। বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু আয় কমে যাওয়ায় সংসারে টান পড়েছে। ব্যবসা বড় করার জন্য কিছু টাকা ঋণও করেছিলেন রফিকুল। সেই ঋণের বোঝা নিয়েই চলছে কোনোরকম দিন। তিনি বলেন, ধার করি, পরে কষ্ট করে শোধও দিই। কিন্তু সংসারের খরচ আর ঋণের চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ি। এভাবে আর কতদিন চলবে বুঝতে পারি না। এখন তো মনে হয়, কোনোভাবে দিন পার করাই সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তার জীবনে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেই তার বড় মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মেয়েটার জন্য এখন পর্যন্ত পরীক্ষার সময় নতুন কিছু কিনে দিতে পারিনি। ওর দিকে তাকাতেও কষ্ট হয়।

আরও পড়ুনঃ  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফাঁদে পড়লেন ইশরাক: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

 

রফিকুল জানান, প্রতি মাসের ২০ তারিখে ঘরভাড়া দেওয়ার কথা। পাঁচ দিন সময় নিয়েছিলেন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে। সেই সময় পেরিয়ে গেলেও এপ্রিল মাসের ভাড়া এখনো বাকি। বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছেন, কিন্তু তিনি নিরুপায়। বলেন, যাওয়ার আর জায়গা নেই। তাই যত কষ্টই হোক, এখানেই থাকতে হবে। পারিবারিক জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, কী আর বলবো, গত পনেরো দিন ধরে মাছ-মাংস কিনি না। কোনোরকমে জীবন চালানোর জন্য বাজার করি। মেয়েটার পরীক্ষা চলছে, তাকে একটু ভালো খাবারও দিতে পারি না। মেয়েটা একটা নতুন জামা চেয়েছিল পরীক্ষার জন্য, সেটাও দিতে পারলাম না। এই আক্ষেপের মাঝেই হঠাৎ একজন ক্রেতা আসেন। মুহূর্তেই নিজের কষ্ট সরিয়ে রেখে বেচাকেনায় মন দেন রফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুনঃ  এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ জীবন একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই