
মোঃ মামুনুর রশিদ, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার সরকারপাড়ায় ইছামতী নদীর তীরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজার আনন্দকে পূর্ণতা দিতে বিজয়ার প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করেই ইছামতীর পাড়ে বসেছে প্রায় ১৩৭ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘বউমেলা’। বিসর্জনের দিন সকাল থেকে শুরু হওয়া মানুষের আনাগোনা দুপুরের পর থেকেই জনস্রোতে রূপ নেয় এবং আগামীকাল সকাল পর্যন্ত এই মেলা স্থায়ী হবে। আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) শুভ বিজয়া দশমীতে নদীর জলে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। তবে মূলত এই বিসর্জনের ক্ষণটিকে ঘিরেই প্রতিবছর নদীর তীরে বিশেষ এই মেলাটির আয়োজন করা হয়, যা যুগের পর যুগ ধরে স্থানীয়দের কাছে ‘বউমেলা’ নামে পরিচিত। সকালের দিকে দর্শনার্থীদের হালকা উপস্থিতি থাকলেও দুপুরের পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে নারী ও শিশুদের আনাগোনা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে এবং বিকেলে তা উপচে পড়া ভিড়ে পরিণত হয়। রাত পেরিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে এই উৎসবের আমেজ বজায় থাকবে।
মেলা প্রাঙ্গণ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পুরুষদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বা সীমিত ব্যবস্থা থাকলেও পুরো আয়োজন জুড়েই ছিল নারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। মেলায় আগত মোট দর্শনার্থীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই নারী ও শিশু। ভক্তরা প্রতিমা বিসর্জন শেষ করেই সরাসরি কেনাকাটা ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে রকমারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। নারীদের পছন্দের প্রসাধনী সামগ্রী, রেশমি চুড়ি, ফিতা, আলতা, স্নো-পাউডারসহ সাজসজ্জার নানা উপকরণের স্টলগুলোতে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। পাশাপাশি শিশুদের পছন্দের খেলনা, মাটির ব্যাংক, প্লাস্টিকের জিনিসপত্র এবং সংসারের কাজে ব্যবহারযোগ্য গৃহস্থালি সামগ্রীর বেচাকেনাও চলেছে জোরদমে।
কেনাকাটার পাশাপাশি মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মুখরোচক সব খাবার। গ্রামীণ ঐতিহ্যের খই, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, গরম গরম জিলাপি, পাঁপড় ভাজা এবং বৈচিত্র্যময় নানা মিষ্টান্নের সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কেনাকাটার ফাঁকে প্রতিটি খাবার দোকানে ছিল ভোজনরসিকদের ভিড়।
দীর্ঘ ১৩৭ বছর ধরে চলে আসা এই বউমেলা কেবল কেনাকাটার স্থান নয়, বরং এলাকার নারীদের জন্য এক অনন্য বার্ষিক সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিজয়ার বিসর্জনের বিষাদ ভুলে নতুন উদ্দীপনায় মুখরিত হয়ে ওঠা এই মেলা আগামীকাল সকাল পর্যন্ত মানুষের পদচারণায় মুখর থাকবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















