Dhaka ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিজয়া দশমী: অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন শহীদ ওসমান বিন হাদীকে হত্যার পর দেশি-বিদেশী চক্র এটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছে: জাবের জয়পুরহাটের কালাই থানায় ঢুকে তিন পুলিশ সদস্যকে পোটানোর অভিযোগ,গ্রোপ্তার এক যুবক…. ভাঙ্গুড়ায় বড়াল-গুমানি নদীতে প্রতিমা বিসর্জন ধুনটে ইছামতীর তীরে ১৩৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘বউমেলা পারমিটের আড়ালে অবৈধ গাছ পাচার আলীকদমে বিজিবির অভিযানে সেগুন কাঠ জব্দ পূজার ছুটিতে সিলেটের ‘প্রকৃতি কন্যা’ জাফলংয়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ​ লালপুরে জমি বিরোধে হামলা-ভাঙচুর: বৃদ্ধা রক্তাক্ত, ১৭ লক্ষাধিক টাকা লুটের অভিযোগ চট্টগ্রাম পতেঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, ভক্তদের ঢল বগুড়ায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারে ডিএনসিকে দুটি মোটরসাইকেল উপহার দিল চেম্বার অব কমার্স

ধুনটে ইছামতীর তীরে ১৩৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘বউমেলা

​মোঃ মামুনুর রশিদ, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: ​বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার সরকারপাড়ায় ইছামতী নদীর তীরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজার আনন্দকে পূর্ণতা দিতে বিজয়ার প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করেই ইছামতীর পাড়ে বসেছে প্রায় ১৩৭ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘বউমেলা’। বিসর্জনের দিন সকাল থেকে শুরু হওয়া মানুষের আনাগোনা দুপুরের পর থেকেই জনস্রোতে রূপ নেয় এবং আগামীকাল সকাল পর্যন্ত এই মেলা স্থায়ী হবে। আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) শুভ বিজয়া দশমীতে নদীর জলে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। তবে মূলত এই বিসর্জনের ক্ষণটিকে ঘিরেই প্রতিবছর নদীর তীরে বিশেষ এই মেলাটির আয়োজন করা হয়, যা যুগের পর যুগ ধরে স্থানীয়দের কাছে ‘বউমেলা’ নামে পরিচিত। সকালের দিকে দর্শনার্থীদের হালকা উপস্থিতি থাকলেও দুপুরের পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে নারী ও শিশুদের আনাগোনা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে এবং বিকেলে তা উপচে পড়া ভিড়ে পরিণত হয়। রাত পেরিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে এই উৎসবের আমেজ বজায় থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত তরুণ আব্দুর রউফ, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৭-৮ লাখ টাকা

​মেলা প্রাঙ্গণ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পুরুষদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বা সীমিত ব্যবস্থা থাকলেও পুরো আয়োজন জুড়েই ছিল নারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। মেলায় আগত মোট দর্শনার্থীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই নারী ও শিশু। ভক্তরা প্রতিমা বিসর্জন শেষ করেই সরাসরি কেনাকাটা ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। ​মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে রকমারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। নারীদের পছন্দের প্রসাধনী সামগ্রী, রেশমি চুড়ি, ফিতা, আলতা, স্নো-পাউডারসহ সাজসজ্জার নানা উপকরণের স্টলগুলোতে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। পাশাপাশি শিশুদের পছন্দের খেলনা, মাটির ব্যাংক, প্লাস্টিকের জিনিসপত্র এবং সংসারের কাজে ব্যবহারযোগ্য গৃহস্থালি সামগ্রীর বেচাকেনাও চলেছে জোরদমে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৪ বসত ঘর পুড়ে ছাঁই। খোলাকাশের নিচে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার

​কেনাকাটার পাশাপাশি মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মুখরোচক সব খাবার। গ্রামীণ ঐতিহ্যের খই, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, গরম গরম জিলাপি, পাঁপড় ভাজা এবং বৈচিত্র্যময় নানা মিষ্টান্নের সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কেনাকাটার ফাঁকে প্রতিটি খাবার দোকানে ছিল ভোজনরসিকদের ভিড়।
​দীর্ঘ ১৩৭ বছর ধরে চলে আসা এই বউমেলা কেবল কেনাকাটার স্থান নয়, বরং এলাকার নারীদের জন্য এক অনন্য বার্ষিক সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিজয়ার বিসর্জনের বিষাদ ভুলে নতুন উদ্দীপনায় মুখরিত হয়ে ওঠা এই মেলা আগামীকাল সকাল পর্যন্ত মানুষের পদচারণায় মুখর থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  দুর্গাপুরে ৭ হাজার ৩১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ​
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বিজয়া দশমী: অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন

ধুনটে ইছামতীর তীরে ১৩৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘বউমেলা

আপডেটের সময়: ০৬:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

​মোঃ মামুনুর রশিদ, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: ​বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার সরকারপাড়ায় ইছামতী নদীর তীরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজার আনন্দকে পূর্ণতা দিতে বিজয়ার প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করেই ইছামতীর পাড়ে বসেছে প্রায় ১৩৭ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘বউমেলা’। বিসর্জনের দিন সকাল থেকে শুরু হওয়া মানুষের আনাগোনা দুপুরের পর থেকেই জনস্রোতে রূপ নেয় এবং আগামীকাল সকাল পর্যন্ত এই মেলা স্থায়ী হবে। আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) শুভ বিজয়া দশমীতে নদীর জলে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। তবে মূলত এই বিসর্জনের ক্ষণটিকে ঘিরেই প্রতিবছর নদীর তীরে বিশেষ এই মেলাটির আয়োজন করা হয়, যা যুগের পর যুগ ধরে স্থানীয়দের কাছে ‘বউমেলা’ নামে পরিচিত। সকালের দিকে দর্শনার্থীদের হালকা উপস্থিতি থাকলেও দুপুরের পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে নারী ও শিশুদের আনাগোনা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে এবং বিকেলে তা উপচে পড়া ভিড়ে পরিণত হয়। রাত পেরিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে এই উৎসবের আমেজ বজায় থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় ডেঙ্গু সচেতনতায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান 

​মেলা প্রাঙ্গণ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পুরুষদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বা সীমিত ব্যবস্থা থাকলেও পুরো আয়োজন জুড়েই ছিল নারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। মেলায় আগত মোট দর্শনার্থীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই নারী ও শিশু। ভক্তরা প্রতিমা বিসর্জন শেষ করেই সরাসরি কেনাকাটা ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। ​মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে রকমারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। নারীদের পছন্দের প্রসাধনী সামগ্রী, রেশমি চুড়ি, ফিতা, আলতা, স্নো-পাউডারসহ সাজসজ্জার নানা উপকরণের স্টলগুলোতে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। পাশাপাশি শিশুদের পছন্দের খেলনা, মাটির ব্যাংক, প্লাস্টিকের জিনিসপত্র এবং সংসারের কাজে ব্যবহারযোগ্য গৃহস্থালি সামগ্রীর বেচাকেনাও চলেছে জোরদমে।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় বৈদ্যুতিক জেনারেটরের সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু

​কেনাকাটার পাশাপাশি মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মুখরোচক সব খাবার। গ্রামীণ ঐতিহ্যের খই, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, গরম গরম জিলাপি, পাঁপড় ভাজা এবং বৈচিত্র্যময় নানা মিষ্টান্নের সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কেনাকাটার ফাঁকে প্রতিটি খাবার দোকানে ছিল ভোজনরসিকদের ভিড়।
​দীর্ঘ ১৩৭ বছর ধরে চলে আসা এই বউমেলা কেবল কেনাকাটার স্থান নয়, বরং এলাকার নারীদের জন্য এক অনন্য বার্ষিক সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিজয়ার বিসর্জনের বিষাদ ভুলে নতুন উদ্দীপনায় মুখরিত হয়ে ওঠা এই মেলা আগামীকাল সকাল পর্যন্ত মানুষের পদচারণায় মুখর থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  ধামরাইয়ে জুলাই শহীদ সাদ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন