
মোঃ মনিরুজ্জামান, ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ
গত দুই বছরে রংপুর বিভাগে গবাদিপশু লালন-পালনে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। খামারিদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলে পশুপালনে রীতিমতো ‘বিপ্লব’ ঘটে গেছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিভাগটিতে এবার চাহিদার তুলনায় ৫ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি উদ্বৃত্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য প্রান্তের পশুর ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
পরিসংখ্যানের চোখে পশুর বাজার
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রংপুর বিভাগের আট জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১৪ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭টি। এর বিপরীতে খামারি ও গৃহস্থরা মিলে প্রস্তুত করেছেন ২০ লাখ ২৩ হাজার ৬৭টি পশু।অর্থাৎ, চাহিদার চেয়েও ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪১০টি পশু বেশি রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে গরু ও খাসির পাশাপাশি রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভেড়া।
জেলাওয়ারি চিত্র:
বিভাগের আট জেলার মধ্যে পশুর সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দিনাজপুর (৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি), তবে চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্তের হিসেবে চমক দেখিয়েছে রংপুর জেলা। এখানে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯১টি পশুর বিপরীতে চাহিদা মাত্র ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৯টি। এছাড়া কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটেও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে।
বিভাগের প্রায় ২১ হাজার খামারের মালিক ও আড়াই লাখেরও বেশি বাণিজ্যিকভাবে পালনকারী খামারি এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। এবার হাটে গিয়ে পশু কেনার পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন খামারিরা। অনেকে নিজস্ব খামার থেকেই সরাসরি পশু বিক্রি করছেন। দেশি ও শংকর জাতের পশুর চাহিদা বেশি থাকায় বৈজ্ঞানিক উপায়ে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশুগুলোকে মোটাতাজা করা হয়েছে।
খামারিদের প্রত্যাশা ও শঙ্কা
পশু খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এবার লালন-পালন খরচ গতবারের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। খামারিদের মতে, যদি ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ঠেকানো যায়, তবেই তারা ন্যায্য দাম পাবেন এবং লাভবান হবেন। মাহিগঞ্জ ও নজিরেরহাট এলাকার খামারিরা জানান, তারা ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করেছেন এবং সামনের সপ্তাহ থেকে পুরোদমে হাটগুলোতে পশু তোলা হবে।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার বৃহস্পতিবার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “রংপুর অঞ্চল এখন পশু উৎপাদনে অত্যন্ত শক্তিশালী। এখানকার উদ্বৃত্ত সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি পশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাহিদা মেটাবে। খামারিরা যাতে সঠিক মূল্য পায় এবং নির্বিঘ্নে পশু বিক্রি করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
বিভাগের আট জেলায় গত বছর ১৫ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। এবার পশুর সংখ্যা ও মান—উভয় দিক থেকেই রংপুর বিভাগ দেশের কোরবানির পশুর বাজারে অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















