
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকারকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক ও ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে তাঁর অংশ নেওয়ার অভিযোগ এবং একই সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার। তিনি জানান, একজনের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াতে অংশ নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে ওসি অংশ নেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ-সংক্রান্ত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে শনিবার সন্ধ্যায় তাঁকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। এর পাশাপাশি গত শুক্রবার রাতে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানার ওসির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মূলত দাওয়াতে অংশ নেওয়ার অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে। বটতলা বাজারে মিছিলের ঘটনায় শনিবার সেনবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে ওসি প্রত্যাহারের পর সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন ওসির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহারের পর তিনি থানা থেকে চলে যান। তবে কী কারণে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, দাওয়াতে অংশ নেওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় বর্তমানে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কিছু জানায়নি।
প্রতিবেদকের নাম 





















