
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর কদমতলী থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা চেষ্টা ও মারধরের মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাগনে ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান সাব্বির মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তার দ্রুত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে বিকেল ৫টা ১০ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কদমতলী থানাধীন ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা ম্যাচ রেললাইন সংলগ্ন কাঁচা সড়কে পথরোধ, মারধর, ভাঙচুর, ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ আনা হয়। পরদিন ৭ মে মো. হাসান নামের এক ব্যক্তি কদমতলী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ১৪৩, ৩৪১, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৪২৭, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে মো. সাজেদুর রহমান মহিন ওরফে সুটার মহিনকে। এছাড়া ২ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান সাব্বির মিয়াকে। একইসঙ্গে মনিরসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার দিন এলাকায় দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও সেখানে ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান সাব্বিরের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বরং সরকার পতনের পর এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় একটি চক্রের রোষানলে পড়েন। স্থানীয় চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, “আসাদুজ্জামান সাব্বির একজন শিক্ষিত ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ব্যক্তি। তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে দমিয়ে রাখতেই একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।”
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান সাব্বির মিয়ার দ্রুত মুক্তির দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, “আইনকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে।”
প্রতিবেদকের নাম 























