
সৈয়দ মিয়া ( স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম :যেদিকে চোখ যায়, শুধু ছাগল আর ছাগল। চারদিক কাঁপিয়ে কানে ভেসে আসছে ম্যাঁ-ম্যাঁ ডাক। কেউ ছাগলের দড়ি ধরে টানছেন, কেউ দাঁত দেখে বয়স মিলাচ্ছেন, কেউ আবার দরদামে ব্যস্ত। সবমিলিয়ে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানহাটের পোস্তারপাড় এখন যেন ছাগলের এক ‘বিস্তীর্ণ জনপদ’। প্রতিদিন ভোর হতেই ট্রাকভর্তি ছাগল এসে নামছে এই হাটে, আর গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। হাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা এবার স্বপ্নটাও দেখছেন বেশি, তাদের আশা অন্তত ১৫ হাজার ছাগল বিক্রি হবে।সরেজমিনে দেখা যায় পোস্তারপাড়ে হাটের সীমানা পেরিয়ে রাস্তা ছড়িয়ে বসেছে ছাগল। হাজার হাজার ছাগল সেখানে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও কক্সবাজার, পার্বত্য জেলা এমনকি উত্তারাঞ্চল থেকেও এখানে ছাগল নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। আকার ও সৌন্দর্য অনুযায়ী ১০ থেকে ৭০-৮০ হাজার টাকা দাম পর্যন্ত এক একটি ছাগলের দাম। যতই গরম কমে বিকেল গড়াতে থাকে ততই ব্যস্ত হয়ে ওঠে হাট। সন্ধ্যা হতেই ব্যবসায়ীদের দম ফেলার ফুসরতও যেন ছিল না।
এই হাটের পুরনো ব্যবসায়ীদের একজন মোহাম্মদ দুলাল। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই হাটে ছাগল বিক্রি করছেন পঞ্চাশোর্ধ এই ব্যবসায়ী। এবার যশোর থেকে ২০০টি ছাগল নিয়ে এসেছেন তিনি। শুধু প্যান্ডেল তৈরিতেই খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।দুলাল বলেন, ‘আরও কয়েকদিন পর বেচাকেনা পুরোদমে জমে ওঠবে। এখনো মানুষ বাজার যাচাই করছেন, তাই মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। আমার কাছে ১০ থেকে ৭০ হাজার টাকা দামের ছাগল রয়েছে। আশা করছি কোরবানির আগে সব ছাগল বিক্রি হয়ে যাবে।’ নগরের তিনটি স্থায়ী হাটের একটি এই পোস্তারপাড়। এর ইতিহাসও বেশ পুরোনো।
বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক দশক আগে চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশে শ্রমজীবী মানুষের বসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানে পশু কেনাবেচার প্রচলন শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি নগরের অন্যতম পরিচিত ছাগলের হাটে পরিণত হয়েছে। সারাবছরই এখানে ছাগল বিক্রি হলেও ঈদের আগে বদলে যায় পুরো চিত্র। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের নানা জাতের ছাগলে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। ভোগান্তি-হয়রানি কম বলে ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখান থেকে কোরবানির জন্য ছাগল কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবার পোস্তারপাড় ছাগলের হাটটি ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা দিয়েছে, যা গতবছরের তুলনায় প্রায় ৮ লাখ টাকা বেশি। হাটের ইজারাদারদের অন্যতম রাজু সওদাগর বলেন, ‘এখনো মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। তবে রবিবার (আজ) থেকে পুরোদমে বিকিকিনি শুরু হবে। এটি চট্টগ্রামের বিখ্যাত হাট। আশা করছি এবার অন্তত ১৫ হাজার ছাগল বিক্রি হবে।’
নগরের চকবাজার থেকে ছাগল কিনতে এসেছিলেন সাহাবউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘কয়েকমাস আগে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। এবারের কোরবানে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে একটা ছাগল পাঠানোর কথা ভাবছি। সেজন্য ছাগল কিনতে এলাম।’কেউ নিজের কোরবানির জন্য, কেউ আবার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পাঠাতে-সবাই ভিড়ছেন পোস্তারপাড়ে। প্রাণীর হাট মানেই যে বিশৃঙ্খলা, এখানে এসে সেই ধারণাও বদলে যায়। বছরের পর বছর ধরে তাই ঈদের আগে এই পোস্তারপাড়ই হয়ে ওঠেছে মানুষের ভরসার এক প্রাণবন্ত হাট।
প্রতিবেদকের নাম 



















