Dhaka ০৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মাদারগঞ্জে গতকালের পর, আবারও আজ হিটস্ট্রোকে কৃষকের মৃত্যু….. নীলফামারীতে গ্রামপুলিশ মিনহাজুলের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে প্রশাসন পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য ধোপাছড়ি শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটিতে সভাপতি হলেন আব্দুল মান্নান রানা অভাবের দেয়ালে বন্দি রিকশাচালকের ৩ হাজার পাতার স্বপ্ন! ক্যান্সারের সঙ্গে জীবনযুদ্ধ: অসহায় নব মুসলিম জাকারিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান শনির আখড়া জিয়া সরণি রুটে ময়লার স্তূপ: চরম দুর্ভোগে পথচারী ও এলাকাবাসী সমবায়কে উপেক্ষা করে পল্লী উন্নয়ন নয়: জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস কমিটিতে ইউসিসিএ সভাপতিদের বাদ দেওয়া কেন উদ্বেগজনক কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম সাঘাটায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে দিশেহারা পুত্রবধূ

ট্রাম্প বলছেন আলোচনা, ইরান করছে অস্বীকার

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ ইরান যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই ‘আলোচনা’ ইস্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন ধোঁয়াশা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেখানে ফলপ্রসূ আলোচনার দাবি করছেন, সেখানে তেহরান তা সরাসরি অস্বীকার করছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই বিপরীতমুখী অবস্থান শুধু কূটনৈতিক বিভ্রান্তি নয়, বরং চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশ হতে পারে। ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তার মতে, তেলের বাজার প্রভাবিত করা এবং সামরিক চাপ থেকে বের হওয়ার কৌশল হিসেবে ভুয়া বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প এমন সময়ে আলোচনার দাবি তুলেছেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামা করছে। গত সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়।

আরও পড়ুনঃ  নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই সময় আলোচনার বার্তা দেওয়া বাজারকে স্থিতিশীল রাখার একটি কৌশল হতে পারে। বিপরীতে, ইরানের অস্বীকার বাজারে অনিশ্চয়তা ধরে রাখে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে। আলোচনা প্রসঙ্গটি ওয়াশিংটনের জন্য বহুমাত্রিক কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে সময় নেওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের সুযোগ তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিষয়গুলো যুক্ত থাকতে পারে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়াচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ রয়েছে। একদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা। প্রথমটিতে সামরিক অবস্থান শক্তিশালী থাকলেও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে, আর দ্বিতীয়টিতে সমালোচনার ঝুঁকি রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফ্ল্যাটে মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু ছেলে সেই যুগ্মসচিবকে প্রত্যাহার

 

ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিস্থিতি জটিল। দেশটি মনে করছে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের ভেতরে কট্টর ও মধ্যপন্থি—দুই ধরনের অবস্থান সক্রিয় রয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব ধরে রাখা বা ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা পায়, তাহলে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে কিনা। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সংঘাতে প্রকাশ্য বক্তব্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তৎপরতা, অর্থনৈতিক সংকেত এবং কূটনৈতিক আচরণ। সবশেষে বলা হচ্ছে, ‘আলোচনা’ এখন শুধু বাস্তবতা নয়, বরং একটি কৌশলগত হাতিয়ার। উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী ভিন্ন বয়ান দিচ্ছে। ফলে প্রশ্নটি এখন কে সত্য বলছে তা নয়, বরং কোন বয়ানের পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে সেটিই হয়ে উঠেছে মূল বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির অশিক্ষিত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত: আসিফ মাহমুদ

সূত্রঃ আলজাজিরা

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মাদারগঞ্জে গতকালের পর, আবারও আজ হিটস্ট্রোকে কৃষকের মৃত্যু…..

ট্রাম্প বলছেন আলোচনা, ইরান করছে অস্বীকার

আপডেটের সময়: ০৫:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ ইরান যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই ‘আলোচনা’ ইস্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন ধোঁয়াশা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেখানে ফলপ্রসূ আলোচনার দাবি করছেন, সেখানে তেহরান তা সরাসরি অস্বীকার করছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই বিপরীতমুখী অবস্থান শুধু কূটনৈতিক বিভ্রান্তি নয়, বরং চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশ হতে পারে। ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তার মতে, তেলের বাজার প্রভাবিত করা এবং সামরিক চাপ থেকে বের হওয়ার কৌশল হিসেবে ভুয়া বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প এমন সময়ে আলোচনার দাবি তুলেছেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামা করছে। গত সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়।

আরও পড়ুনঃ  নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই সময় আলোচনার বার্তা দেওয়া বাজারকে স্থিতিশীল রাখার একটি কৌশল হতে পারে। বিপরীতে, ইরানের অস্বীকার বাজারে অনিশ্চয়তা ধরে রাখে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে। আলোচনা প্রসঙ্গটি ওয়াশিংটনের জন্য বহুমাত্রিক কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে সময় নেওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের সুযোগ তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিষয়গুলো যুক্ত থাকতে পারে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়াচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ রয়েছে। একদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা। প্রথমটিতে সামরিক অবস্থান শক্তিশালী থাকলেও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে, আর দ্বিতীয়টিতে সমালোচনার ঝুঁকি রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফ্ল্যাটে মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু ছেলে সেই যুগ্মসচিবকে প্রত্যাহার

 

ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিস্থিতি জটিল। দেশটি মনে করছে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের ভেতরে কট্টর ও মধ্যপন্থি—দুই ধরনের অবস্থান সক্রিয় রয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব ধরে রাখা বা ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা পায়, তাহলে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে কিনা। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সংঘাতে প্রকাশ্য বক্তব্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তৎপরতা, অর্থনৈতিক সংকেত এবং কূটনৈতিক আচরণ। সবশেষে বলা হচ্ছে, ‘আলোচনা’ এখন শুধু বাস্তবতা নয়, বরং একটি কৌশলগত হাতিয়ার। উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী ভিন্ন বয়ান দিচ্ছে। ফলে প্রশ্নটি এখন কে সত্য বলছে তা নয়, বরং কোন বয়ানের পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে সেটিই হয়ে উঠেছে মূল বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ-পরবর্তী সময়েও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর বান্দরবান

সূত্রঃ আলজাজিরা