
মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষ হলেও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন জেলা বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড় এখনো অব্যাহত রয়েছে। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া পর্যটকদের আগমন ঈদ-পরবর্তী সময়েও থেমে নেই। পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য, মেঘে ঢাকা পাহাড়চূড়া, সবুজ অরণ্য, ঝর্ণা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের টানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকরা ছুটে আসছেন বান্দরবানে। জেলার নীলগিরি, নীলাচল, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, চিম্বুক পাহাড়, শৈলপ্রপাত, স্বর্ণমন্দির, দেবতাখুমসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠছে এসব এলাকা। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অবকাশ যাপন করতে আসছেন, আবার অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করে স্মরণীয় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছেন। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদের মূল ছুটিতে যেমন পর্যটকদের ব্যাপক চাপ ছিল, ছুটি শেষে সেই চাপ কিছুটা কমলেও এখনো পর্যটকের সংখ্যা সন্তোষজনক। বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, শিক্ষার্থী এবং তরুণ ভ্রমণপ্রেমীদের একটি বড় অংশ ঈদের পরবর্তী সময়কে ভ্রমণের জন্য বেছে নিচ্ছেন। ফলে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন খাত এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বান্দরবানের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের ছুটির তুলনায় বুকিং কিছুটা কমলেও এখনো অনেক কক্ষ দখল রয়েছে। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। এতে দীর্ঘদিন পর পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন আশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পর্যটকদের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পর্যটকদের কারণে পাহাড়ি ফল, হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বাঁশ ও বেতজাত পণ্য বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পর্যটকদের চাহিদাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাজারগুলোতেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন। পর্যটকদের অনেকে জানান, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বান্দরবানের প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাহাড়, মেঘ, ঝর্ণা ও সবুজের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ জনপদে এসে তারা মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পান। তাই সুযোগ পেলেই তারা পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে বান্দরবান ভ্রমণে আসেন। পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় পাহাড়ি ঝর্ণাগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়ছে এবং প্রকৃতি নতুন রূপে সেজে উঠছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহেও বান্দরবানে পর্যটকদের আগমন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছেন। সব মিলিয়ে ঈদ-পরবর্তী সময়েও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বান্দরবান। পর্যটকদের উপস্থিতিতে শুধু বিনোদন ও ভ্রমণ খাতই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে পাহাড়ি জনপদের মানুষের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি, আর নতুন আশার আলো দেখছে জেলার পর্যটন শিল্প।
প্রতিবেদকের নাম 



















