
স্টাফ রিপোর্টার, আব্দুর রহমান মোল্লা:
রমনা পার্কের কাঠের ব্রিজে বসে প্রতিদিন নিজের স্বপ্নকে কাগজে ফুটিয়ে তোলেন এক সংগ্রামী মানুষ। সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করেন, তার বেশিরভাগই চলে যায় খাবার ও জীবনযাপনের ন্যূনতম খরচে। তবুও স্বপ্ন দেখা থামাননি তিনি। পকেটে যদি মাত্র ২ টাকাও থাকে, সেই টাকাও তিনি খরচ করেন একটি A4 সাইজের কাগজ কেনার জন্য। কারণ, তাঁর কাছে কাগজ মানেই নতুন একটি গল্প, নতুন একটি উপন্যাস, নতুন এক টুকরো স্বপ্ন।তাঁর হাতের লেখা এতটাই সুন্দর ও নিখুঁত যে, প্রথম দেখায় তা কম্পিউটারে টাইপ করা লেখার চেয়েও বেশি পরিপাটি ও আকর্ষণীয় মনে হয়। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই নীরবে লিখে চলেছেন তিনি। আজ তাঁর সংগ্রহে জমা হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি হাতে লেখা পৃষ্ঠা! প্রতিটি পাতার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে তাঁর মেধা, কল্পনা, অনুভূতি আর এক বুক নীরব কান্না।
সমাজের চোখে তিনি হয়তো একজন সাধারণ রিকশাচালক, কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন জাত লেখক, একজন খাঁটি স্বপ্নবাজ ও সৃষ্টিশীল মানুষ।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, চরম আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর এই অনন্য প্রতিভা আজও আলোর মুখ দেখেনি। প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, বই ছাপানোর পুঁজি নেই, এমনকি নিজের প্রতিভাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার ন্যূনতম সুযোগটুকুও তাঁর নেই।
আমরা প্রায়ই মানুষের পোশাক, পেশা কিংবা আর্থিক অবস্থান দেখে তাঁকে বিচার করি; অনেক সময় অবহেলা বা হাসি-ঠাট্টাও করি। কিন্তু কখনো কি তাঁদের বুকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা খাঁটি স্বপ্নগুলোকে দেখার চেষ্টা করি? কখনো কি জানার চেষ্টা করি—কতটা কষ্ট আর তীব্র সংগ্রাম বুক পেতে নিয়ে তাঁরা বেঁচে আছেন?
এই মানুষটি যদি সামান্য একটু সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিজের লেখাগুলো প্রকাশ করার সুযোগ পেতেন, তবে হয়তো তাঁর বই একদিন বাংলাদেশের পাঠকদের হৃদয় জয় করত। আমরা হয়তো খুঁজে পেতাম এক কালজয়ী ঔপন্যাসিককে, যাঁর প্রতিভা আজ অভাবের নিষ্ঠুর দেয়ালে বন্দি হয়ে আছে।
প্রতিভা কখনো অর্থের কাছে হার মানতে চায় না, কিন্তু সঠিক সুযোগের অভাবে অনেক সময় হারিয়ে যায়। তাই আসুন, মানুষকে তাঁর পেশা দিয়ে নয়, তাঁর স্বপ্ন ও যোগ্যতা দিয়ে মূল্যায়ন করি। কারণ, কোন সাধারণ মানুষের মাঝেই লুকিয়ে থাকে অসাধারণ এক মহীরুহ, তা আমরা কেউই জানি না।
প্রতিবেদকের নাম 























