Dhaka ০৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রক্তাত্ত ২৮ এ অক্টোবর পালিত হয়, জামায়াত ইসলামী কক্সবাজার শহর শাখা কুলাউড়ায় জামায়াতের পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস পালিত, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ লালপুরে অনলাইন জুয়া ও আইডি হ্যাকিং চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, ৫টি মোবাইল জব্দ দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বর্ণাঢ্য আয়োজনে চিলমারী উপজেলা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন লালপুরে অনলাইন জুয়া ও আইডি হ্যাকিং চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, মোটরসাইকেল ও মোবাইল জব্দ পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪। লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন মুরাদনগর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন: ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ সিলেটে ছাত্রলীগের মিছিল প্রস্তুতিকালে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আটক

পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ১৮৩ সময় দেখুন

সাব্বির হোসেন মিদুল স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার মহাসড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে এখন চরম দাপট দেখাচ্ছে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত অবৈধ টমটম। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ও নামধারী সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে চলছে এই বিশাল সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয়, এদের ঘিরে গড়ে উঠেছে লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ ‘টোকেন বাণিজ্য’। তবে চালক ও মালিকদের দাবি— তারা এই চাঁদাবাজির অবসান চান এবং সরকারের নির্ধারিত কর দিয়ে বৈধভাবে গাড়ি চালাতে ইচ্ছুক। এ নিয়ে বিস্তারিত পতেঙ্গা থেকে জানাচ্ছেন দৈনিক আজকের জনবাণী পত্রিকার রিপোর্টার সাব্বির হোসেন মিদুল কে বলেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা জোনের প্রধান মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে এখন সাধারণ মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান বাধা এই ব্যাটারিচালিত অবৈধ টমটম। বিশেষ করে পতেঙ্গা স্টিলমিল, খালপাড় রোড, খেজুরতলা রোড, কলসি দিঘিরপাড় রোড এবং এয়ারপোর্ট রোডে এদের দাপট সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুনঃ  কোম্পানীগঞ্জে ৩৫০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘Science Olympiad 2026’ অনুষ্ঠিত

 

এছাড়াও কাঠগড় ১ ও ২ নম্বর গলি, কাঠগড় মহিলা কলেজ থেকে নাজিরপাড়ার ডিলপাড়া এবং কাঠগড় বাজার থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত অবধি বিস্তৃত সড়কগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শত শত অনুমোদনহীন টমটম। ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করে মহাসড়কে চলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।মালিকদের বক্তব্য: “আমরা শোরুম থেকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে আনি। কিন্তু রাস্তায় নামলেই শুরু হয় আসল জুলুম। গাড়ি কেনার খরচের চেয়ে বেশি টাকা চলে যায় স্থানীয় সিন্ডিকেটের অবৈধ টোকেন কিনতে। আমরা এই চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চাইঅনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিপুল সংখ্যক অবৈধ টমটম রাস্তায় টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা এবং গণমাধ্যমের পরিচয় দেওয়া কিছু অসাধু ব্যক্তিকে নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয়। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার এই টোকেন বাণিজ্যের কারণে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, আর পকেট ভারী হচ্ছে স্থানীয় চাঁদাবাজদের।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪। লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার

 

অথচ, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে নিয়মের মধ্যে আনতে নির্দিষ্ট কর হার নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। সংযুক্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সরকারিভাবে এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য বার্ষিক করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে:ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায়: ১ হাজার টাকা।পৌরসভা এলাকায়: ২ হাজার টাকা।সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৫ হাজার টাকা।পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও সিসিভেদে ১১০ সিসি পর্যন্ত কর মওকুফ এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত করের বিধান রয়েছে।)টমটম মালিকদের স্পষ্ট দাবি, তারা এই সরকারি কর পরিশোধ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নির্ধারিত ৫ হাজার টাকা ট্যাক্স দিয়ে তারা বৈধভাবে মাথা উঁচু করে গাড়ি চালাতে চান, কিন্তু স্থানীয় কোনো চাঁদাবাজ বা সিন্ডিকেটের পকেটে আর একটি টাকাও দিতে রাজি নন তারা।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারে কৃষক অসুস্থ

 

পতেঙ্গার সাধারণ মানুষ এবং টমটম মালিক উভয়েরই এখন একটাই দাবি— এই অবৈধ টোকেন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি দ্রুত বন্ধ করা হোক। প্রশাসন যদি এই বাহনগুলোকে সরকারি ট্যাক্সের আওতায় এনে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসে, তবে যেমন সরকারের রাজস্ব বাড়বে, তেমনই বন্ধ হবে অলিতে-গলির এই নৈরাজ্য।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রক্তাত্ত ২৮ এ অক্টোবর পালিত হয়, জামায়াত ইসলামী কক্সবাজার শহর শাখা

পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য

আপডেটের সময়: ১২:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সাব্বির হোসেন মিদুল স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার মহাসড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে এখন চরম দাপট দেখাচ্ছে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত অবৈধ টমটম। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ও নামধারী সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে চলছে এই বিশাল সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয়, এদের ঘিরে গড়ে উঠেছে লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ ‘টোকেন বাণিজ্য’। তবে চালক ও মালিকদের দাবি— তারা এই চাঁদাবাজির অবসান চান এবং সরকারের নির্ধারিত কর দিয়ে বৈধভাবে গাড়ি চালাতে ইচ্ছুক। এ নিয়ে বিস্তারিত পতেঙ্গা থেকে জানাচ্ছেন দৈনিক আজকের জনবাণী পত্রিকার রিপোর্টার সাব্বির হোসেন মিদুল কে বলেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা জোনের প্রধান মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে এখন সাধারণ মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান বাধা এই ব্যাটারিচালিত অবৈধ টমটম। বিশেষ করে পতেঙ্গা স্টিলমিল, খালপাড় রোড, খেজুরতলা রোড, কলসি দিঘিরপাড় রোড এবং এয়ারপোর্ট রোডে এদের দাপট সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুনঃ  খামার মালিকের খামখেয়ালিপনায় ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে শ্রমিকের মৃত্যু

 

এছাড়াও কাঠগড় ১ ও ২ নম্বর গলি, কাঠগড় মহিলা কলেজ থেকে নাজিরপাড়ার ডিলপাড়া এবং কাঠগড় বাজার থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত অবধি বিস্তৃত সড়কগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শত শত অনুমোদনহীন টমটম। ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করে মহাসড়কে চলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।মালিকদের বক্তব্য: “আমরা শোরুম থেকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে আনি। কিন্তু রাস্তায় নামলেই শুরু হয় আসল জুলুম। গাড়ি কেনার খরচের চেয়ে বেশি টাকা চলে যায় স্থানীয় সিন্ডিকেটের অবৈধ টোকেন কিনতে। আমরা এই চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চাইঅনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিপুল সংখ্যক অবৈধ টমটম রাস্তায় টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা এবং গণমাধ্যমের পরিচয় দেওয়া কিছু অসাধু ব্যক্তিকে নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয়। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার এই টোকেন বাণিজ্যের কারণে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, আর পকেট ভারী হচ্ছে স্থানীয় চাঁদাবাজদের।

আরও পড়ুনঃ  জামালপুরের বকশিগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ সহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

 

অথচ, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে নিয়মের মধ্যে আনতে নির্দিষ্ট কর হার নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। সংযুক্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সরকারিভাবে এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য বার্ষিক করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে:ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায়: ১ হাজার টাকা।পৌরসভা এলাকায়: ২ হাজার টাকা।সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৫ হাজার টাকা।পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও সিসিভেদে ১১০ সিসি পর্যন্ত কর মওকুফ এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত করের বিধান রয়েছে।)টমটম মালিকদের স্পষ্ট দাবি, তারা এই সরকারি কর পরিশোধ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নির্ধারিত ৫ হাজার টাকা ট্যাক্স দিয়ে তারা বৈধভাবে মাথা উঁচু করে গাড়ি চালাতে চান, কিন্তু স্থানীয় কোনো চাঁদাবাজ বা সিন্ডিকেটের পকেটে আর একটি টাকাও দিতে রাজি নন তারা।

আরও পড়ুনঃ  বাঁশখালীর পুকুরিয়া আনসারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা পরিদর্শনে এমপি জহিরুল

 

পতেঙ্গার সাধারণ মানুষ এবং টমটম মালিক উভয়েরই এখন একটাই দাবি— এই অবৈধ টোকেন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি দ্রুত বন্ধ করা হোক। প্রশাসন যদি এই বাহনগুলোকে সরকারি ট্যাক্সের আওতায় এনে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসে, তবে যেমন সরকারের রাজস্ব বাড়বে, তেমনই বন্ধ হবে অলিতে-গলির এই নৈরাজ্য।