
কক্সবাজার প্রতিনিধি: বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলে রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করছে স্থানীয় জনগণ। বছরের পর বছর ধরে পরিবেশ, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তার প্রধান ভুক্তভোগী স্থানীয় মানুষ। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, ২০২৬ সালের জেআরপি (Joint Response Plan) বা যৌথ মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ, বিপরীতে রোহিঙ্গাদের জন্য রাখা হয়েছে ৯৫ শতাংশ বরাদ্দ। এই চরম বৈষম্যমূলক পরিকল্পনা স্থানীয় জনগণের মনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। আমরা মানবিকতার বিরুদ্ধে নই। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। কিন্তু সেই মানবিকতার মূল্য যদি স্থানীয় জনগণকে একতরফাভাবে দিতে হয়, তবে সেটি কখনোই ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ তাদের জমি, বন, জীবিকা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ হারিয়ে নানা সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছে। অথচ উন্নয়ন ও সহায়তার ক্ষেত্রে তাদেরকে কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে—যে জনগণ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ বরাদ্দ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? এই পরিকল্পনা শুধু বৈষম্যমূলক নয়, বরং স্থানীয় জনগণের আত্মমর্যাদা ও ন্যায্য অধিকারের পরিপন্থী। স্থানীয়দের মাথার উপর দিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য “জামাই আদর” চলবে আর স্থানীয় জনগণ অবহেলিত থাকবে—এমন পরিস্থিতি আর মেনে নেওয়া হবে না।
স্থানীয় জনগণের দাবি অত্যন্ত পরিষ্কার—রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে আন্তর্জাতিক সহায়তা আসছে, তার ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখতে হবে।
মানবিক সহায়তার নামে স্থানীয় জনগণকে বঞ্চিত করে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। ন্যায়বিচার ও ভারসাম্য নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
জাহাঙ্গীর আলম,সদস্য সচিব,কক্সবাজার সিভিল সোসাইটি এনজিও ফোরাম।
প্রতিবেদকের নাম 


















