Dhaka ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড পরিদর্শন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মধুপুরে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে কৃষি অফিসার সহায়তার আশ্বাস ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নারীর মৃত্যু কেরানীগঞ্জে কালিগঞ্জ জোড়া ব্রিজ সংলগ্ন মার্কেটে আগুন মান্দায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড শরণখোলায় জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত দীঘিনালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ক্লাস মান্দায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ধুনটে শারদীয় দুর্গা উৎসবকে ঘিরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জ গৃদকালিন্দিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৪ দোকান পুড়ে ছাঁই

যন্ত্রাংশের আড়ালে গাড়ি! চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার খুলতেই মিলল বিএমডব্লিউ

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
কাগজপত্রে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ব্যবহৃত গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। কিন্তু কন্টেইনার খুলতেই মিলল আস্ত একটি বিএমডব্লিউ । শুধু তাই নয়, একই চালানে পাওয়া গেছে আরেকটি বিএমডব্লিউ গাড়ির সামনের অর্ধাংশ এবং ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক। চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দাদের কায়িক পরীক্ষায় এসব অনিয়ম ধরা পড়ে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। চট্টগ্রামের হালিশহরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি থেকে কন্টেইনারটি আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড।
কাস্টমসের নথিপত্রে চালানটিতে ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে কায়িক পরীক্ষার সময় কন্টেইনারের ভেতর থেকে সম্পূর্ণ সিকেডি (Completely Knocked Down) অবস্থায় ২০০৯ মডেলের দুই আসনবিশিষ্ট একটি বিএমডব্লিউ এস-ড্রাইভ ২৩আই স্পোর্টস/রেসিং কার পাওয়া যায়। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২,৫০০ সিসি।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, গাড়িটি সাধারণ যন্ত্রাংশ হিসেবে নয়, বরং এমনভাবে সিকেডি অবস্থায় আনা হয়েছে, যা আমদানির ঘোষণায় উল্লেখ করা পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
একই চালানে পাওয়া গেছে ২০১৬ সালের প্রায় ৩,০০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের একটি প্রিমিয়াম সেডানের সামনের অর্ধাংশ (ফ্রন্ট হাফ-কাট)। একটি বিলাসবহুল গাড়ির শুধু সামনের অংশ এই চালানে কীভাবে এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানের মাধ্যমে খালাস করা হয়েছে কি না, অথবা পরবর্তী কোনো চালানে আনার চেষ্টা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া কন্টেইনারের ভেতর পাওয়া গেছে ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতরেও কৌশলে প্যাকেটজাত করে রাখা হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ। ফলে সাধারণ গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণার আড়ালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গাড়ি ও গাড়ির অংশবিশেষ আনার বিষয়টি কায়িক পরীক্ষায় উঠে এসেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, গাড়ির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন বা কাটা অবস্থায় একাধিক চালানে আমদানি করে পরে দেশে সেগুলো পুনঃসংযোজন বা রি-অ্যাসেম্বল করার একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এভাবে গাড়ির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অংশ আলাদা আলাদা চালানে এনে প্রকৃত পণ্য ও মূল্য গোপন করে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা গাড়ি ও গাড়ির অংশগুলোর ইঞ্জিন নম্বর, চ্যাসিস নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এসব পণ্যের প্রকৃত শুল্ক মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং বিদ্যমান আমদানি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএমডব্লিউ গাড়িটির বাকি অংশের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বরিশালে নিত্যপণ্যের দোকানে অনিয়ম, ৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড পরিদর্শন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

যন্ত্রাংশের আড়ালে গাড়ি! চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার খুলতেই মিলল বিএমডব্লিউ

আপডেটের সময়: ০৩:৪২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
কাগজপত্রে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ব্যবহৃত গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। কিন্তু কন্টেইনার খুলতেই মিলল আস্ত একটি বিএমডব্লিউ । শুধু তাই নয়, একই চালানে পাওয়া গেছে আরেকটি বিএমডব্লিউ গাড়ির সামনের অর্ধাংশ এবং ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক। চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দাদের কায়িক পরীক্ষায় এসব অনিয়ম ধরা পড়ে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। চট্টগ্রামের হালিশহরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি থেকে কন্টেইনারটি আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড।
কাস্টমসের নথিপত্রে চালানটিতে ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে কায়িক পরীক্ষার সময় কন্টেইনারের ভেতর থেকে সম্পূর্ণ সিকেডি (Completely Knocked Down) অবস্থায় ২০০৯ মডেলের দুই আসনবিশিষ্ট একটি বিএমডব্লিউ এস-ড্রাইভ ২৩আই স্পোর্টস/রেসিং কার পাওয়া যায়। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২,৫০০ সিসি।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, গাড়িটি সাধারণ যন্ত্রাংশ হিসেবে নয়, বরং এমনভাবে সিকেডি অবস্থায় আনা হয়েছে, যা আমদানির ঘোষণায় উল্লেখ করা পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
একই চালানে পাওয়া গেছে ২০১৬ সালের প্রায় ৩,০০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের একটি প্রিমিয়াম সেডানের সামনের অর্ধাংশ (ফ্রন্ট হাফ-কাট)। একটি বিলাসবহুল গাড়ির শুধু সামনের অংশ এই চালানে কীভাবে এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানের মাধ্যমে খালাস করা হয়েছে কি না, অথবা পরবর্তী কোনো চালানে আনার চেষ্টা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া কন্টেইনারের ভেতর পাওয়া গেছে ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতরেও কৌশলে প্যাকেটজাত করে রাখা হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ। ফলে সাধারণ গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণার আড়ালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গাড়ি ও গাড়ির অংশবিশেষ আনার বিষয়টি কায়িক পরীক্ষায় উঠে এসেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, গাড়ির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন বা কাটা অবস্থায় একাধিক চালানে আমদানি করে পরে দেশে সেগুলো পুনঃসংযোজন বা রি-অ্যাসেম্বল করার একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এভাবে গাড়ির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অংশ আলাদা আলাদা চালানে এনে প্রকৃত পণ্য ও মূল্য গোপন করে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা গাড়ি ও গাড়ির অংশগুলোর ইঞ্জিন নম্বর, চ্যাসিস নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এসব পণ্যের প্রকৃত শুল্ক মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং বিদ্যমান আমদানি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএমডব্লিউ গাড়িটির বাকি অংশের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  লামায় বালু খেকো চক্রের তান্ডব প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক ও এলাকাবাসীকে গুমের হুমকি