
বদরগন্জ উপজেলা প্রতিনিধি:শহিদুল ইসলাম (সবুজ)
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় দুই দিন ধরে পড়ে রয়েছে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাঁর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। এদিকে অর্থাভাব ও স্বজনহীন অবস্থায় চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রংপুর-বদরগঞ্জ সড়কের এরশাদ ব্রিজের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে পরিচয় না থাকায় এবং তিনি নিজের নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় হাসপাতালে কাটেনি স্বজনহীনতার অবসান। এ অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
খবর পেয়ে সিআইডির একটি চৌকস দল আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে তাঁর পরিচয় খোঁজার চেষ্টা চালায়। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বা অন্য কোনো কারিগরি জটিলতায় তাঁর পরিচয় মেলেনি।
বদরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (সেকেন্ড অফিসার) মামুনুর রশীদ জানান, নিহত ব্যক্তির পায়ে পচন ধরা ক্ষত এবং হাতে পুরোনো কাটা দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি মাদকাসক্ত হতে পারেন। ডিউটি অফিসার মোক্তারুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় সিআইডি তাঁর তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি। তবে পরিচয় শনাক্তে সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, মৃত্যুর পর দুই দিন ধরে যুবকের লাশটি হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে থাকলেও কোনো অভিভাবক না থাকায় চরম অবহেলা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ—একজন বেওয়ারিশ ও মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে যথাযথ নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা কিংবা সঠিক তদারকির অভাবেই তাঁর মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে কি না—বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্বজনদের সন্ধানে আকুল আবেদন: নিহত ব্যক্তির আনুমানিক বয়স ৩৫–৪০ বছর, পরনে ছিল জীর্ণ পোশাক, হাতে রয়েছে পুরোনো কাটা দাগ এবং পায়ে পচনের ক্ষত। যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বা পরিবার এই বিবরণ দেখে উক্ত ব্যক্তিকে চিনতে পারেন, তবে দ্রুত বদরগঞ্জ থানা অথবা বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















