Dhaka ১০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
হিলিতে মাদক মামলায় নারীসহ তিনজন গ্রেপ্তার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ৪০ লাখ টাকার হেরোইনসহ, এক যুবককে আটক করেছে র‍্যাব প্রতিটি জেলা পরিষদের দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত হবে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন কাউনিয়ায় পাকা সেতু না থাকায় ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কৃষক ছানোয়ার হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার মহড়া অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় পাথরবোঝাই ট্রাকের চাপায় স্কুলশিক্ষক নিহত মিসেস মাম্যাচিংকে গণসংবর্ধনা, বান্দরবানে হাজার হাজার নেতাকর্মীর আনন্দ মিছিল চা বাগান প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে চা শ্রমিকদের মজুরি এখনো ২০০ টাকা নির্ধারণ হয় নি। লালপুরে ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ভুয়া ‘১৪৪ ধারা’ জারি, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

ফল ও কৃষিপণ্যে চীনের বাজার ধরতে চায় বাংলাদেশ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:৪১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৭ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের ফল ও কৃষিপণ্যের জায়গা তৈরি করতে নতুন করে তৎপরতা বাড়াচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে শুরু হতে যাওয়া মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের আয়োজনকে শুধু পণ্য প্রদর্শনী নয়, চীনা ক্রেতা ও আমদানিকারকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎসবে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাজা ও শুকনো ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রদর্শন করবে। আম, কাঁঠাল, লিচুর পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যেরও চীনের বাজারে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজার বড় হলেই যে রপ্তানি আপনাআপনি বড় হবে, বাংলাদেশের আগের অভিজ্ঞতা তা বলছে না। চীনের সঙ্গে কৃষিপণ্য বাণিজ্যে বড় সুবিধা তৈরি হয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একই ফ্রুটস ফেস্টিভ্যালে এই চুক্তি সই হয়।

আরও পড়ুনঃ  দৌলতখানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, একজনকে জরিমানা

এর আওতায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা ইউনানে সর্বোচ্চ দুই হাজার বর্গমিটার পর্যন্ত ভাড়ামুক্ত বন্ডেড গুদাম ও প্রদর্শনী স্থান, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রবেশ এবং তাজা কৃষিপণ্যের দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। চীনের বাজারে বাংলাদেশের আম প্রবেশের অনুমতি মিলেছিল ২০২৪ সালেই। কিন্তু দুই বছরে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ছয় টন, তাও পরীক্ষামূলক চালান হিসেবে। বাংলাদেশের ও চীনের আমের মৌসুম প্রায় একই সময়ে হওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় বাংলাদেশি আমকে স্থানীয় চীনা ফলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। অর্থাৎ বাজারে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া আর লাভজনকভাবে বাজার দখল করা এক বিষয় নয়। তবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কাঁঠাল ঘিরে। চলতি বছর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সংসদে বলেছেন, চীনে বাংলাদেশি কাঁঠাল রপ্তানি শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর আগে চীনা কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের কাঁঠাল বাগান পরিদর্শন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া যাচাই করেছে।

আরও পড়ুনঃ  শৌচাগার শুধু দেওয়ালে, টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে: পিআইও-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

চীনের বাজার ধরতে হলে অবশ্য শুধু ফল উৎপাদন করলেই হবে না। আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং, শীতল সংরক্ষণব্যবস্থা, দ্রুত পরিবহন, কীটপতঙ্গমুক্ত উৎপাদন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাজা ফলের ক্ষেত্রে কয়েক দিনের বিলম্বই পুরো চালানের বাণিজ্যিক মূল্য কমিয়ে দিতে পারে। কুনমিংয়ের উৎসব বাংলাদেশের জন্য দরজা খুলতে পারে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্য করতে হবে রপ্তানিকারকদেরই। চীনের বাজারে স্থায়ী জায়গা তৈরি করা গেলে কৃষকের জন্য ভালো দাম, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যে নতুন বিনিয়োগ এবং পোশাকনির্ভর রপ্তানির বাইরে নতুন আয়ের পথ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

হিলিতে মাদক মামলায় নারীসহ তিনজন গ্রেপ্তার

ফল ও কৃষিপণ্যে চীনের বাজার ধরতে চায় বাংলাদেশ

আপডেটের সময়: ০৩:৪১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের ফল ও কৃষিপণ্যের জায়গা তৈরি করতে নতুন করে তৎপরতা বাড়াচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে শুরু হতে যাওয়া মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের আয়োজনকে শুধু পণ্য প্রদর্শনী নয়, চীনা ক্রেতা ও আমদানিকারকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎসবে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাজা ও শুকনো ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রদর্শন করবে। আম, কাঁঠাল, লিচুর পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যেরও চীনের বাজারে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজার বড় হলেই যে রপ্তানি আপনাআপনি বড় হবে, বাংলাদেশের আগের অভিজ্ঞতা তা বলছে না। চীনের সঙ্গে কৃষিপণ্য বাণিজ্যে বড় সুবিধা তৈরি হয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একই ফ্রুটস ফেস্টিভ্যালে এই চুক্তি সই হয়।

আরও পড়ুনঃ  লামায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: চোলাই মদ ও ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, পরোয়ানাভুক্ত ১

এর আওতায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা ইউনানে সর্বোচ্চ দুই হাজার বর্গমিটার পর্যন্ত ভাড়ামুক্ত বন্ডেড গুদাম ও প্রদর্শনী স্থান, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রবেশ এবং তাজা কৃষিপণ্যের দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। চীনের বাজারে বাংলাদেশের আম প্রবেশের অনুমতি মিলেছিল ২০২৪ সালেই। কিন্তু দুই বছরে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ছয় টন, তাও পরীক্ষামূলক চালান হিসেবে। বাংলাদেশের ও চীনের আমের মৌসুম প্রায় একই সময়ে হওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় বাংলাদেশি আমকে স্থানীয় চীনা ফলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। অর্থাৎ বাজারে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া আর লাভজনকভাবে বাজার দখল করা এক বিষয় নয়। তবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কাঁঠাল ঘিরে। চলতি বছর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সংসদে বলেছেন, চীনে বাংলাদেশি কাঁঠাল রপ্তানি শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর আগে চীনা কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের কাঁঠাল বাগান পরিদর্শন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া যাচাই করেছে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

চীনের বাজার ধরতে হলে অবশ্য শুধু ফল উৎপাদন করলেই হবে না। আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং, শীতল সংরক্ষণব্যবস্থা, দ্রুত পরিবহন, কীটপতঙ্গমুক্ত উৎপাদন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাজা ফলের ক্ষেত্রে কয়েক দিনের বিলম্বই পুরো চালানের বাণিজ্যিক মূল্য কমিয়ে দিতে পারে। কুনমিংয়ের উৎসব বাংলাদেশের জন্য দরজা খুলতে পারে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্য করতে হবে রপ্তানিকারকদেরই। চীনের বাজারে স্থায়ী জায়গা তৈরি করা গেলে কৃষকের জন্য ভালো দাম, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যে নতুন বিনিয়োগ এবং পোশাকনির্ভর রপ্তানির বাইরে নতুন আয়ের পথ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে অনিয়মের অভিযোগে তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা