Dhaka ০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সরকারি গাছ কেটে কাঠের সাঁকো নির্মাণ? সাঘাটায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশ্ন হোসেনপুরে মাসব্যাপী ওরাল কলেরা টিকাদান শুরু বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে তারেক রহমান হাল ধরেছেন: মঈন খান মানিকগঞ্জে আখের ঐতিহ্য সংকটে সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে ভোলা দ্রুত উদ্যোগ নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘শক্তিশালী অবস্থানে’ থেকে যুদ্ধ শেষ করতে চান ইরানের প্রেসিডেন্ট কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ বিপ্লবী ছাত্রনেতা থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শৌচাগার শুধু দেওয়ালে, টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে: পিআইও-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের কল্যাণের রাজনীতি: মোকামতলায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

ফল ও কৃষিপণ্যে চীনের বাজার ধরতে চায় বাংলাদেশ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:৪১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৭ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের ফল ও কৃষিপণ্যের জায়গা তৈরি করতে নতুন করে তৎপরতা বাড়াচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে শুরু হতে যাওয়া মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের আয়োজনকে শুধু পণ্য প্রদর্শনী নয়, চীনা ক্রেতা ও আমদানিকারকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎসবে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাজা ও শুকনো ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রদর্শন করবে। আম, কাঁঠাল, লিচুর পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যেরও চীনের বাজারে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজার বড় হলেই যে রপ্তানি আপনাআপনি বড় হবে, বাংলাদেশের আগের অভিজ্ঞতা তা বলছে না। চীনের সঙ্গে কৃষিপণ্য বাণিজ্যে বড় সুবিধা তৈরি হয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একই ফ্রুটস ফেস্টিভ্যালে এই চুক্তি সই হয়।

আরও পড়ুনঃ  নলডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে এক যুবকের ৪ মাসের কারাদণ্ড

এর আওতায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা ইউনানে সর্বোচ্চ দুই হাজার বর্গমিটার পর্যন্ত ভাড়ামুক্ত বন্ডেড গুদাম ও প্রদর্শনী স্থান, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রবেশ এবং তাজা কৃষিপণ্যের দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। চীনের বাজারে বাংলাদেশের আম প্রবেশের অনুমতি মিলেছিল ২০২৪ সালেই। কিন্তু দুই বছরে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ছয় টন, তাও পরীক্ষামূলক চালান হিসেবে। বাংলাদেশের ও চীনের আমের মৌসুম প্রায় একই সময়ে হওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় বাংলাদেশি আমকে স্থানীয় চীনা ফলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। অর্থাৎ বাজারে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া আর লাভজনকভাবে বাজার দখল করা এক বিষয় নয়। তবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কাঁঠাল ঘিরে। চলতি বছর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সংসদে বলেছেন, চীনে বাংলাদেশি কাঁঠাল রপ্তানি শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর আগে চীনা কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের কাঁঠাল বাগান পরিদর্শন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া যাচাই করেছে।

আরও পড়ুনঃ  কিশোরগঞ্জে ইমাম-উলামাদের স্মারকলিপিতে ‘অ্যাশেজ ব্যান্ডের’ কনসার্ট স্থগিত

চীনের বাজার ধরতে হলে অবশ্য শুধু ফল উৎপাদন করলেই হবে না। আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং, শীতল সংরক্ষণব্যবস্থা, দ্রুত পরিবহন, কীটপতঙ্গমুক্ত উৎপাদন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাজা ফলের ক্ষেত্রে কয়েক দিনের বিলম্বই পুরো চালানের বাণিজ্যিক মূল্য কমিয়ে দিতে পারে। কুনমিংয়ের উৎসব বাংলাদেশের জন্য দরজা খুলতে পারে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্য করতে হবে রপ্তানিকারকদেরই। চীনের বাজারে স্থায়ী জায়গা তৈরি করা গেলে কৃষকের জন্য ভালো দাম, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যে নতুন বিনিয়োগ এবং পোশাকনির্ভর রপ্তানির বাইরে নতুন আয়ের পথ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  পতেঙ্গা কাঠগড় বাজারে আবারও উচ্ছেদ অভিযান: স্থায়ী সমাধান চান ব্যবসায়ীরা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সরকারি গাছ কেটে কাঠের সাঁকো নির্মাণ? সাঘাটায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

ফল ও কৃষিপণ্যে চীনের বাজার ধরতে চায় বাংলাদেশ

আপডেটের সময়: ০৩:৪১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের ফল ও কৃষিপণ্যের জায়গা তৈরি করতে নতুন করে তৎপরতা বাড়াচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে শুরু হতে যাওয়া মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের আয়োজনকে শুধু পণ্য প্রদর্শনী নয়, চীনা ক্রেতা ও আমদানিকারকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎসবে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাজা ও শুকনো ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রদর্শন করবে। আম, কাঁঠাল, লিচুর পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যেরও চীনের বাজারে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজার বড় হলেই যে রপ্তানি আপনাআপনি বড় হবে, বাংলাদেশের আগের অভিজ্ঞতা তা বলছে না। চীনের সঙ্গে কৃষিপণ্য বাণিজ্যে বড় সুবিধা তৈরি হয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একই ফ্রুটস ফেস্টিভ্যালে এই চুক্তি সই হয়।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় আজ থেকে চালু নারী বাস সার্ভিস, নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতার পরামর্শ

এর আওতায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা ইউনানে সর্বোচ্চ দুই হাজার বর্গমিটার পর্যন্ত ভাড়ামুক্ত বন্ডেড গুদাম ও প্রদর্শনী স্থান, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রবেশ এবং তাজা কৃষিপণ্যের দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। চীনের বাজারে বাংলাদেশের আম প্রবেশের অনুমতি মিলেছিল ২০২৪ সালেই। কিন্তু দুই বছরে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ছয় টন, তাও পরীক্ষামূলক চালান হিসেবে। বাংলাদেশের ও চীনের আমের মৌসুম প্রায় একই সময়ে হওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় বাংলাদেশি আমকে স্থানীয় চীনা ফলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। অর্থাৎ বাজারে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া আর লাভজনকভাবে বাজার দখল করা এক বিষয় নয়। তবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কাঁঠাল ঘিরে। চলতি বছর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সংসদে বলেছেন, চীনে বাংলাদেশি কাঁঠাল রপ্তানি শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর আগে চীনা কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের কাঁঠাল বাগান পরিদর্শন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া যাচাই করেছে।

আরও পড়ুনঃ  ধুনটের সোনাহাটায় বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) এনজিওর ৪১৫তম শাখা'র উদ্বোধন

চীনের বাজার ধরতে হলে অবশ্য শুধু ফল উৎপাদন করলেই হবে না। আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং, শীতল সংরক্ষণব্যবস্থা, দ্রুত পরিবহন, কীটপতঙ্গমুক্ত উৎপাদন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাজা ফলের ক্ষেত্রে কয়েক দিনের বিলম্বই পুরো চালানের বাণিজ্যিক মূল্য কমিয়ে দিতে পারে। কুনমিংয়ের উৎসব বাংলাদেশের জন্য দরজা খুলতে পারে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্য করতে হবে রপ্তানিকারকদেরই। চীনের বাজারে স্থায়ী জায়গা তৈরি করা গেলে কৃষকের জন্য ভালো দাম, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যে নতুন বিনিয়োগ এবং পোশাকনির্ভর রপ্তানির বাইরে নতুন আয়ের পথ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে তারেক রহমান হাল ধরেছেন: মঈন খান