Dhaka ১০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
হিলিতে মাদক মামলায় নারীসহ তিনজন গ্রেপ্তার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ৪০ লাখ টাকার হেরোইনসহ, এক যুবককে আটক করেছে র‍্যাব প্রতিটি জেলা পরিষদের দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত হবে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন কাউনিয়ায় পাকা সেতু না থাকায় ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কৃষক ছানোয়ার হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার মহড়া অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় পাথরবোঝাই ট্রাকের চাপায় স্কুলশিক্ষক নিহত মিসেস মাম্যাচিংকে গণসংবর্ধনা, বান্দরবানে হাজার হাজার নেতাকর্মীর আনন্দ মিছিল চা বাগান প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে চা শ্রমিকদের মজুরি এখনো ২০০ টাকা নির্ধারণ হয় নি। লালপুরে ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ভুয়া ‘১৪৪ ধারা’ জারি, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

প্রতিটি জেলা পরিষদের দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত হবে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। রোববার (২৩ আগস্ট) রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ ও সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা এর আগের সরকারের আমলে গঠিত পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে তা বিভাগীয়ভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদ—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—পুনর্গঠন করেছে সরকার। ২০ আগস্ট জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে তিন জেলায় নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সরকারি গাছ কেটে কাঠের সাঁকো নির্মাণ? সাঘাটায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

 

প্রতিটি পরিষদে একজন চেয়ারম্যান ও ১৪ জন সদস্য রয়েছেন। নতুন আদেশের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর গঠিত আগের পরিষদগুলো বাতিল করা হয়েছে। নতুন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান হিসেবে রাঙামাটিতে দীপন তালুকদার, খাগড়াছড়িতে ম্রাসা থোয়াই মারমা এবং বান্দরবানে মাম্যাচিংকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুনর্গঠিত পরিষদগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
রোববারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে দেশের মূলধারায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, পাহাড়ে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ১৯৭৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা, যোগাযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত ও সমৃদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই।

আরও পড়ুনঃ  ধুনটে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফলদ বৃক্ষ রোপন

 

দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পরে রাঙামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার উদ্বোধন করেন।এ ছাড়া খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর নির্মিত সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহমেদ, রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের পরপরই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ঘোষণা দেওয়ায় প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে পাহাড়ের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও প্রশাসনিক শুদ্ধতার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে অনেকে।

আরও পড়ুনঃ  সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মোরেলগঞ্জের জেলের মৃত্যু
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

হিলিতে মাদক মামলায় নারীসহ তিনজন গ্রেপ্তার

প্রতিটি জেলা পরিষদের দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত হবে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন

আপডেটের সময়: ০৭:৩০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। রোববার (২৩ আগস্ট) রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ ও সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা এর আগের সরকারের আমলে গঠিত পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে তা বিভাগীয়ভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদ—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—পুনর্গঠন করেছে সরকার। ২০ আগস্ট জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে তিন জেলায় নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  কেশবপুরের প্রশংসিত ইউএনও এবার হোসেনপুরে, দায়িত্ব নিলেন রেকসোনা খাতুন

 

প্রতিটি পরিষদে একজন চেয়ারম্যান ও ১৪ জন সদস্য রয়েছেন। নতুন আদেশের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর গঠিত আগের পরিষদগুলো বাতিল করা হয়েছে। নতুন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান হিসেবে রাঙামাটিতে দীপন তালুকদার, খাগড়াছড়িতে ম্রাসা থোয়াই মারমা এবং বান্দরবানে মাম্যাচিংকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুনর্গঠিত পরিষদগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
রোববারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে দেশের মূলধারায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, পাহাড়ে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ১৯৭৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা, যোগাযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত ও সমৃদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই।

আরও পড়ুনঃ  লামায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: চোলাই মদ ও ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, পরোয়ানাভুক্ত ১

 

দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পরে রাঙামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার উদ্বোধন করেন।এ ছাড়া খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর নির্মিত সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহমেদ, রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের পরপরই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ঘোষণা দেওয়ায় প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে পাহাড়ের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও প্রশাসনিক শুদ্ধতার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে অনেকে।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ভুয়া '১৪৪ ধারা' জারি, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ