Dhaka ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সৈয়দপুরে আগাম আলু ও সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা দিনাজপুরে ৩১ পুলিশ সদস্যের মেধাবী সন্তানকে বাংলাদেশ পুলিশ শিক্ষাবৃত্তি হিলিতে নারীকে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২ সরিষাবাড়িতে প্রয়াত উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমেদের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের রবিবারের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন নাগরপুরের চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রকল্প পরিদর্শন বরিশালে নিত্যপণ্যের দোকানে অনিয়ম, ৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর আদেশ লোকসান ও সঙ্কটে বেসরকারি ব্যবস্থায় দেয়া হচ্ছে আরো অর্ধডজন ট্রেন

পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় স্কুল মাঠে কলাগাছ লাগালেন জমিদাতা

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর পুঠিয়ায় একটি স্কুলের জমির দাতা তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে গিয়ে এসব করেন। বিদ্যালয়টির নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে গেলেও নিয়মিত পাঠদান চলছে। শনিবার হঠাৎ আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগান। শিক্ষকদের কার্যালয়েও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি ব্যবহারেও সমস্যায় পড়েছেন। ২০১৫ সালে পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি গ্রামে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়। এখানে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের স্থাপনের অনুমতি রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  তারাগঞ্জে সাড়ে ৩ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

 

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। পরে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ করা হয়। দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশনে উল্লেখ রয়েছে। বিদ্যালয়টি ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণি চালুর কথা রয়েছে। এরপর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দাতা সদস্য আজাদ আলীর ভাষ্য, সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা ছিল। তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার কথা থাকায় তিনি জমি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি এবং তার ছেলের বউকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণে তিনি বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।

 

আরও পড়ুনঃ  কচাকাটা থানা এলাকায় ৯৪ পিস ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে প্রতিষ্ঠানকে জমি দান করেছিলেন। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে স্থাপনা নির্মাণের পর প্রতিষ্ঠানের নামে জমি রেজিস্ট্রি করার সময় তিনি ভোকেশনাল শাখায় তার ছেলের এবং কলেজ শাখায় ছেলের বউয়ের চাকরি দাবি করেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, কমিটি তার দাবিতে সম্মতি দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি করে নেয় আনুষ্ঠানিক ভাবে কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়। চাকরিরত অবস্থায় তিনি ২০২২ সালে মারা যান। এরপর আজাদ আলী তার ছেলের দ্বিতীয় বিয়ের পর পুত্রবধূকে মাধ্যমিক শাখায় কেরানি পদে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কমিটি তাতেও সম্মতি দেয়। পরে তিনি তার ছেলের জায়গায় অন্য একটি পদ দাবি করেন এবং কমিটি তাতেও সম্মত হয় বলে জানান প্রধান শিক্ষক। এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

 

সেলিম রেজা আরও বলেন, এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদান চলে। গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। এভাবে বিদ্যালয় বন্ধ করা যায় না। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, আজাদ আলী জমি দান করেছেন এবং দলিলের মাধ্যমে জমিটি এখন স্কুলের নামে রয়েছে। এই দলিল শুধু আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব। যতক্ষণ দলিল বহাল আছে, ততক্ষণ বিদ্যালয়ে তালা ঝোলানো বা গাছ লাগানোর সুযোগ নেই। ইউএনও বলেন, জমি ফেরত নিতে হলে আদালতের রায় নিতে হবে। বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে কলাগাছ সরানো এবং তালা খোলার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  মোহনপুরের ধুরইলে পালশা দক্ষিণপাড়া রাস্তার কার্পেটিং কাজের শুভ উদ্বোধন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সৈয়দপুরে আগাম আলু ও সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় স্কুল মাঠে কলাগাছ লাগালেন জমিদাতা

আপডেটের সময়: ০৩:১১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর পুঠিয়ায় একটি স্কুলের জমির দাতা তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে গিয়ে এসব করেন। বিদ্যালয়টির নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে গেলেও নিয়মিত পাঠদান চলছে। শনিবার হঠাৎ আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগান। শিক্ষকদের কার্যালয়েও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি ব্যবহারেও সমস্যায় পড়েছেন। ২০১৫ সালে পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি গ্রামে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়। এখানে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের স্থাপনের অনুমতি রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফটিকছড়িতে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান অনুষ্ঠিত

 

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। পরে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ করা হয়। দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশনে উল্লেখ রয়েছে। বিদ্যালয়টি ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণি চালুর কথা রয়েছে। এরপর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দাতা সদস্য আজাদ আলীর ভাষ্য, সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা ছিল। তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার কথা থাকায় তিনি জমি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি এবং তার ছেলের বউকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণে তিনি বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।

 

আরও পড়ুনঃ  সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে প্রতিষ্ঠানকে জমি দান করেছিলেন। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে স্থাপনা নির্মাণের পর প্রতিষ্ঠানের নামে জমি রেজিস্ট্রি করার সময় তিনি ভোকেশনাল শাখায় তার ছেলের এবং কলেজ শাখায় ছেলের বউয়ের চাকরি দাবি করেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, কমিটি তার দাবিতে সম্মতি দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি করে নেয় আনুষ্ঠানিক ভাবে কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়। চাকরিরত অবস্থায় তিনি ২০২২ সালে মারা যান। এরপর আজাদ আলী তার ছেলের দ্বিতীয় বিয়ের পর পুত্রবধূকে মাধ্যমিক শাখায় কেরানি পদে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কমিটি তাতেও সম্মতি দেয়। পরে তিনি তার ছেলের জায়গায় অন্য একটি পদ দাবি করেন এবং কমিটি তাতেও সম্মত হয় বলে জানান প্রধান শিক্ষক। এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

 

সেলিম রেজা আরও বলেন, এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদান চলে। গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। এভাবে বিদ্যালয় বন্ধ করা যায় না। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, আজাদ আলী জমি দান করেছেন এবং দলিলের মাধ্যমে জমিটি এখন স্কুলের নামে রয়েছে। এই দলিল শুধু আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব। যতক্ষণ দলিল বহাল আছে, ততক্ষণ বিদ্যালয়ে তালা ঝোলানো বা গাছ লাগানোর সুযোগ নেই। ইউএনও বলেন, জমি ফেরত নিতে হলে আদালতের রায় নিতে হবে। বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে কলাগাছ সরানো এবং তালা খোলার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  তারাগঞ্জে সাড়ে ৩ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার