
মোঃ জামাল উদ্দিন মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে হবিগঞ্জের মাধবপুরে নোয়াপাড়া ইসলামাবাদের “নোয়াপাড়া মিনি ফুচকা পার্ক” সহ আশেপাশের সকল বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। শুক্রবার (২৯ মে) ঈদের দ্বিতীয় দিনে সরকারি ছুটি থাকায় “নোয়াপাড়া মিনি ফুচকা পার্কে” দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। শিশু, যুবক, বৃদ্ধের সকল বয়সী মানুষের সমাগমে এ যেন এক মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের ভীড়ে পার্কে প্রবেশই যেন মহাদায়। নগরকেন্দ্রিক শহরে একটু ফাঁকা জায়গা মানেই একটু প্রশান্তি। ঈদের ছুটিতে ছেলেমেয়ে আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে এসব বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে আসেন শিল্প এলাকায় বসবাসকারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একজন প্রবাসী দর্শনার্থী মোঃ বেনু মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, দু’বছর পর দুবাই থেকে এসে দেখি এলাকায় খালি জায়গা বলতে কিছুই নেই । বড় বড় দালান কৌটায় সমস্ত খালি জায়গা ভরাট হয়ে বড় বড় বিল্ডিং আর শিল্প কারখানায় ভরে গেছে। দাঁড়াবার জায়গা নাই। ছেলে মেয়ে নিয়ে কোথায় হাঁটবো সেই জায়গাটুকু নাই। তাই বিকেল বেলায় পরিবার নিয়ে এ পার্কে ঘুরতে আসলাম। বিভিন্ন রাইডে বাচ্চারা উঠছে, আনন্দ করছে সেটাই আমাদের আনন্দ। “নোয়াপাড়া মিনি ফুচকা পার্ক” জায়গাটা বেশি বড় না হলেও বাচ্চারা আনন্দ পাচ্ছে। ভাল ই লাগছে।
পার্কের ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা মোঃ রুহুল আমিন বলেন, আমরা পার্ক কর্তৃপক্ষ সারাক্ষণ চেষ্টা করছি দর্শনার্থীরা যেন সতষ্ফুর্তভাবে আনন্দ করতে পারে। ওনাদের ঈদের আনন্দটা যেন পরিপূর্ণ হয়। আমাদের পার্কে থাকা সকল স্টাফরাও দর্শনার্থীদের প্রতি খুবই আন্তরিক! পার্কে থাকা বিভিন্ন রাইডে আমরা অতিরিক্ত কোন চার্জ নিচ্ছি না। প্রতিটি রাইডেই দেখবেন ২০ টাকা ৩০ টাকা করে ফি! আমরা চাই সবাই আনন্দ করুন। সকল বাচ্চারা যেন রাইডে চড়তে পারে, আনন্দ করতে পারে এ বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষ সব সময়ই সচেতন থাকি। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের পার্কে যারা আসে সকল
দর্শনার্থীরাই খুবই খুশি। এখানে ই আমাদের সফলতা। তিনি আরো জানান, আমাদের মিনি ফুচকা পার্কে বাচ্চাদের রাইডে চড়ার আনন্দের পাশাপাশি উন্নত খাবারেরও ব্যবস্থা আছে। খুবই সুলভ মূল্য আমরা খাবার পরিবেশন করে থাকি। আপনি আপনার পরিবার নিয়ে সুন্দর মনোরম পরিবেশে খাবারও খেতে পারবেন। আমরা সব সময়ই খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। কিচেন থেকে শুরু করে খাবারের টেবিল পর্যন্ত সব সময় হাইজিন ম্যানটেইন করি। এ বিষয়ে আমরা সব সময় সতর্ক।
পার্কের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় মেম্বার হারিস উদ্দিন লালু জানান, পার্কে একজন দর্শনার্থীর প্রবেশ করার পর থেকে দর্শনার্থীর সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। সার্বক্ষণিক আমাদের সিসি ক্যামেরার পর্যবেক্ষক টিম, নিরাপত্তা রক্ষীরা সহ প্রতিটা কর্মীই দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যেন কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। আমাদের পার্কে অশালীন কোন আচরণ, ভিডিও যেন না হয় সে বিষয়েও পার্ক কতৃপক্ষ সব সময়ই সচেতন থাকি। তিনি আরো বলেন, আমরা সরকারি সমস্ত বিধিমালা মেনে আলহামদুলিল্লাহ বিগত ৬ মাস ধরে নোয়াপাড়া মিনি ফুচকা পার্ক খুবই সুনামের সাথে পরিচালনা করে যাচ্ছি।
প্রতিবেদকের নাম 


















