Dhaka ০৮:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আমের মৌসুম শেষে খুশি পত্নীতলার আমচাষিরা রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ তিন পলাতক আসামি গ্রেপ্তার গণভোটের অধিকার চুরি করেছে সরকার: নাহিদ ইসলাম নাটোরে পর্যটনমন্ত্রীর পথসভা থেকে পিস্তলসহ যুবক আটক দেবিদ্বারে বিএনপি নেতা আউয়াল খানের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত, আহত অন্তত ৩০ পরিবেশ রক্ষায় শাজাহানপুরে জামায়াতের যুব বিভাগের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ মাদক কারবার বন্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও এলাকাবাসী এবং জামে মসজিদ কমিটির কঠোর হুঁশিয়ারি রুমা উপজেলায় ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্বভার অর্পণ ও শপথ গ্রহণ জুলাই সনদ ইস্যুতে আমরা দুই মেরুতে রয়েছি: ডা. শফিকুর

নাটোর লালপুরে বাম্পার ফলন, তবু দুশ্চিন্তা—শ্রমিক সংকটে লালপুরে পাট কাটায় ভোগান্তি

শাকিব আহম্মেদ, লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ফলে ভালো উৎপাদন হলেও কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) জানা যায়, এ বছর লালপুরে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। অনুকূল আবহাওয়া এবং উন্নত মানের বীজ ব্যবহারের কারণে ফলনও হয়েছে আশাব্যঞ্জক।স্থানীয় কৃষকদের মতে, বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের পাটের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে সময়মতো পাট কাটতে না পারলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আরবাব ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল্লাহ ও সুমন জানান, মজুরি বাড়িয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাট কাটতে দেরি হচ্ছে এবং তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। চংধুপইল ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, “জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। কিন্তু সময়মতো পাট কাটতে না পারলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে যাবে। দুড়দুড়িয়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে সহজেই কৃষি শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে। একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুয়ারিয়া এলাকার কৃষক ইউনুস আলী ফরাজি। তিনি বলেন, সময়মতো পাট কাটতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

আরও পড়ুনঃ  মুরাদানগরে স্বাস্থ্যসেবার মান দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিভিল সার্জন

পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলেও মান ঠিক না থাকলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন না। তাই দ্রুত পাট কেটে যথাসময়ে জাগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার বলেন, “এ বছর পাটের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পাট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বাম্পার ফলনের সুখবরের মাঝেও শ্রমিক সংকট লালপুরের পাটচাষিদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো পাট কাটা না গেলে ভালো উৎপাদনের সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের শ্রদ্ধাঞ্জলি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

আমের মৌসুম শেষে খুশি পত্নীতলার আমচাষিরা

নাটোর লালপুরে বাম্পার ফলন, তবু দুশ্চিন্তা—শ্রমিক সংকটে লালপুরে পাট কাটায় ভোগান্তি

আপডেটের সময়: ০৬:১২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

শাকিব আহম্মেদ, লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ফলে ভালো উৎপাদন হলেও কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) জানা যায়, এ বছর লালপুরে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। অনুকূল আবহাওয়া এবং উন্নত মানের বীজ ব্যবহারের কারণে ফলনও হয়েছে আশাব্যঞ্জক।স্থানীয় কৃষকদের মতে, বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের পাটের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে সময়মতো পাট কাটতে না পারলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আরবাব ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল্লাহ ও সুমন জানান, মজুরি বাড়িয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাট কাটতে দেরি হচ্ছে এবং তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। চংধুপইল ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, “জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। কিন্তু সময়মতো পাট কাটতে না পারলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে যাবে। দুড়দুড়িয়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে সহজেই কৃষি শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে। একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুয়ারিয়া এলাকার কৃষক ইউনুস আলী ফরাজি। তিনি বলেন, সময়মতো পাট কাটতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলেও মান ঠিক না থাকলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন না। তাই দ্রুত পাট কেটে যথাসময়ে জাগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার বলেন, “এ বছর পাটের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পাট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বাম্পার ফলনের সুখবরের মাঝেও শ্রমিক সংকট লালপুরের পাটচাষিদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো পাট কাটা না গেলে ভালো উৎপাদনের সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহাসিক ৩৬ জুলাই: ফ্যাসিবাদ পতন দিবস,২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শার্শা উপজেলা বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি