
গোলজার রহমান ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১৮ জন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে অংশগ্রহণ করে ১৭ জন। এদের মধ্যে একজন পাশ করলেও বাকি ১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করেনি। অপর এক নারী শিক্ষার্থী বাল্য বিবাহের কারণে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। গতকাল সোমবার দাখিল পরীক্ষায় ফলপ্রকাশের পর দেখা গেছে এমন চিত্র।
মঙ্গলবার (১২ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার উমার ইউনিয়নের বেলঘরিয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিন যত যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা উগ্র হয়ে উঠছে। শিক্ষকরা শাসন করলে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের উপর চড়াও হয়ে ওঠে। মাদ্রাসায় ঠিকঠাক না গিয়ে মোবাইলে গেম নিয়ে পড়ে থাকলে এমন তো হবেই। সন্তানরা কি করছে সেদিকে নজর না দেওয়ায় এর জন্য অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেন তাঁরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে এসএসসি পরীক্ষায় ১৬১৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এদের মধ্যে পাশ করেছে ৯৪৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন, অকৃতকার্য হয়েছে ৬৬৬ জন, পাশের হার ৫৮ পয়েন্ট ৭৬।
এছাড়াও মাদ্রাসা পর্যায়ে ৬২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, পাশ করেছে ২৭৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩, অকৃতকার্য হয়েছে ৩৪৮ জন, পাশের হার ৪৪ পয়েন্ট ৩২। ভোকেশনাল পর্যায়ে-১১৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, এদের মধ্যে পাশ করেছে ৯৬ জন শিক্ষার্থী, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন, ফেল করেছে ২২ জন শিক্ষার্থী, পাশের হার ৮১ পয়েন্ট ৩৫।
রেজাল্ট খারাপ হওয়ার বিষয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় ঠিকঠাক আসেনা ক্লাসও করেনা। স্যারেরা বাড়ি গিয়ে জোর করে ওই শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় নিয়ে এসে ক্লাস করাতেন।
তারা এও বলে, মাদ্রাসা এবং বাড়িতে ঠিকঠাক পড়াশোনা না করার কারণেই হয়তো রেজাল্ট খারাপ হয়েছে। বড়োদের রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণে মাদ্রাসার মান ক্ষুন্ন হয়েছে। তবে আগামীতে ভালো রেজাল্ট যেনো হয় সেই প্রস্তুতির কথা জানায়।`
অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উমার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কয়রাপারা গ্রামের আবতাব হোসেনের ছেলে জাহিদ হাসান জানায়, ওইদিন গণিত পরীক্ষায় টিক চিহ্নে সমস্যা হয়েছিল। এছাড়াও আধা ঘন্টার জন্য ইউএনও স্যার আমার খাতা জব্দ করে রেখেছিলেন। এ কারণে হয়তো পাস না করে ফেল করেছি।
অভিভাবক জোসনা বেগম বলেন, ছেলে আবতাব ওই মাদ্রাসার ২ নম্বর রোল ছিল। পড়াশোনাও ভালো করত। কিন্তু কি কারনে সে ফেল করেছে তা তো ঠিক বুঝতে পারছি না। সংসারের কাজকর্ম ছেলেকে দিয়ে করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন শিক্ষার্থী আবতাবের মা।
বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক খাইরুল ইসলাম বলেন, `শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ পরিবার-দরিদ্র এবং তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ক্লাসে না পাঠিয়ে ছেলেমেয়েদের মাঠে-ঘাটে কাজ করিয়ে নেয় অভিভাবকেরা।
একারণে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদেরকে ক্লাসে এনে পাঠদান করাতে হয়।` এদের মধ্য থেকে পাঁচজন নারী শিক্ষার্থী বাল্যবিবাহে জড়িয়ে পড়ার কথাও জানান। তবে আগামীতে যেন এমন না হয় সেভাবেই এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গতবছরের চাইতে এবার সকল বিভাগেই ছাত্র-ছাত্রীদের রেজাল্ট খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















