
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যের সমালোচনা করে তাকে ‘গুন্ডা’ আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। উপাচার্যের দায়িত্ব পালন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সমর্থন না থাকার পরও তিনি পদ আঁকড়ে রয়েছেন। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর ছাত্রশক্তির উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘চুয়েটের একজন ভিসি গুন্ডা, বুঝছেন তো? এই গুন্ডা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাটা বোঝায়। উনাকে কোনো শিক্ষক চান না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও চান না, তার সহকর্মীরাও চান না। নির্লজ্জের মতো আজকে তালা ভেঙে তিনি তার চেয়ার দখল করছেন। উপাচার্যের দায়িত্বে থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘গ্রামের ভাষায় কথা বললে, হাজব্যান্ড যদি ওয়াইফকে নিয়ে সংসার করতে না চায়, জোর করে গিয়ে সংসার করা যায়? মানে, তার তো ন্যূনতম লজ্জার একটা বিষয় আছে। তিনি কী করছেন, ছাত্রদলের কয়েকটা গুন্ডা নিয়ে তিনি রুমের তালা ভাঙছেন।’
চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার দাবি করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘তাকে সরকার চুয়েটে নিয়োগ দিয়েছে। তাকে নিয়োগ দেওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করা বন্ধ করে দিয়েছেন, চুয়েটের শিক্ষকেরা ক্লাস নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন, কর্মচারীরা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি গত কয়েকদিন ধরে, প্রায় এক মাস ধরে, চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে বসে বসে অনলাইনে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাকে নিতে চায় না, নির্লজ্জ, লজ্জা নাই! নিজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধরেন, আমাকে যদি এখানে দাওয়াত না দেওয়া হয়, আপনারা যদি বলেন যে না, আপনাকে লাগবে না, আমার কি ন্যূনতম লজ্জা আছে? আমি কি এখানে আসব, চেয়ার দখল করব? সমাজে ব্যক্তিত্ব, আত্মমর্যাদা ও নৈতিকতার অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই যে সমাজে এই ধরনের মানসিক অধঃপতনগুলো হচ্ছে, এই অধঃপতনের বিরুদ্ধে আপনাদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে। এই চুয়েটের ভিসি নামক গুন্ডারা যারা আছে, যারা দেশটাকে আবার পিছিয়ে নিতে চায়, যাদের ন্যূনতম ব্যক্তিত্ব নাই, লজ্জা নাই, আত্মসম্মানবোধ নাই; যাদের ছাত্রদলের গুন্ডা নিয়ে নিজের চেয়ারে বসতে হয়, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়ায়, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়ায়, যাদের কাছে শিক্ষা থেকে পদ আরও বড় হয়ে ওঠে, ওই সব মানুষের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।’
এ ধরনের মানসিকতা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, সমাজের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব মানুষ সব জায়গায় আছে—বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, বাজার-হাট, রাজনৈতিক মহল; সব জায়গায় এক ধরনের মানুষ আছে। আপনাদের যদি সম্ভব হয়, এই ধরনের মানুষের বিরুদ্ধে আপনাদের সচেতন মস্তিষ্ক যেন সব সময় একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে থাকে। তিনি বলেন, ‘যাই হোক, আপনারা যারা আছেন, আপনাদের একটা উত্তম ভবিষ্যৎ আমরা কামনা করি। আপনাদের একটা উত্তম ভবিষ্যৎ হোক—যে ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, যে যে পেশায় যান, আমাদের কিছু আসে যায় না। দিন শেষে আপনি যেটাতে সুখী হন, আপনি যেটাতে শান্তি পান, আপনি যেটাতে সন্তুষ্ট হন, আপনার পরিবার যেটাতে সন্তুষ্ট হয় এবং দেশের যেটা কল্যাণ হয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, আপনারা ওই ধরনের পেশাগুলোতেই যাবেন, ওই ধরনের কার্যক্রমগুলোই করবেন। ওই ধরনের পড়াশোনার মধ্য দিয়ে আপনাদের মনোজাগতিক বৃদ্ধি হবে, মনোজাগতিক বিকাশ হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়ার মধ্যে আপনারা আরও বেশি সচেতনভাবে রাজনৈতিক মনস্ক হয়ে গড়ে উঠবেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক শওকত আলী, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার এবং মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমরেড আমিনুল ইসলামসহ অন্যরা। পরে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদকের নাম 

























