Dhaka ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
অনিয়মের অভিযোগে ফুলবাড়ী সমাজসেবা অফিস পরিদর্শনে এমপি ড. আতিক মুজাহিদ পতেঙ্গা প্রাইম এগ্রোতে সুলভে গরু-ছাগল বিক্রয় করা হচ্ছে জামালপুরের মাদারগঞ্জে, নারী সহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক পন্ডিত নিরোদ লীলা গীতা বিদ্যাপিঠে গীতা প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত, মোহাম্মদ আলী শাহ রোড এলাকায় মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন নলছিটিতে শ্রমিক দল নেতা মিজানের বিরুদ্ধে গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মামলা রামিশা হত্যার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জমজমাট জিনজিরা পশুর হাট: শুরু হয়েছে কোরবানির পশু কেনাবেচা রাসিক সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ উপহারের চেক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী যৌথ মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ ৫% আর রোহিঙ্গাদের বরাদ্দ  ৯৫% হয়েছে

যৌথ মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ ৫% আর রোহিঙ্গাদের বরাদ্দ  ৯৫% হয়েছে

কক্সবাজার প্রতিনিধি: বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলে রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করছে স্থানীয় জনগণ। বছরের পর বছর ধরে পরিবেশ, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তার প্রধান ভুক্তভোগী স্থানীয় মানুষ। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, ২০২৬ সালের জেআরপি (Joint Response Plan) বা যৌথ মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ, বিপরীতে রোহিঙ্গাদের জন্য রাখা হয়েছে ৯৫ শতাংশ বরাদ্দ। এই চরম বৈষম্যমূলক পরিকল্পনা স্থানীয় জনগণের মনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। আমরা মানবিকতার বিরুদ্ধে নই। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। কিন্তু সেই মানবিকতার মূল্য যদি স্থানীয় জনগণকে একতরফাভাবে দিতে হয়, তবে সেটি কখনোই ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ তাদের জমি, বন, জীবিকা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ হারিয়ে নানা সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছে। অথচ উন্নয়ন ও সহায়তার ক্ষেত্রে তাদেরকে কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে—যে জনগণ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ বরাদ্দ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? এই পরিকল্পনা শুধু বৈষম্যমূলক নয়, বরং স্থানীয় জনগণের আত্মমর্যাদা ও ন্যায্য অধিকারের পরিপন্থী। স্থানীয়দের মাথার উপর দিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য “জামাই আদর” চলবে আর স্থানীয় জনগণ অবহেলিত থাকবে—এমন পরিস্থিতি আর মেনে নেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  বান্দরবান-রোয়াংছড়ি রুটে পুনরায় চালু হচ্ছে পাবলিক বাস সার্ভিস

স্থানীয় জনগণের দাবি অত্যন্ত পরিষ্কার—রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে আন্তর্জাতিক সহায়তা আসছে, তার ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখতে হবে।
মানবিক সহায়তার নামে স্থানীয় জনগণকে বঞ্চিত করে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। ন্যায়বিচার ও ভারসাম্য নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
জাহাঙ্গীর আলম,সদস্য সচিব,কক্সবাজার সিভিল সোসাইটি এনজিও ফোরাম।

আরও পড়ুনঃ  ইপিজেডে আসকের উদ্যোগে শিশু রামিসা'র হত্যাকারীকে দ্রুত ফাঁসির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি....
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

অনিয়মের অভিযোগে ফুলবাড়ী সমাজসেবা অফিস পরিদর্শনে এমপি ড. আতিক মুজাহিদ

যৌথ মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ ৫% আর রোহিঙ্গাদের বরাদ্দ  ৯৫% হয়েছে

আপডেটের সময়: ০৮:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

কক্সবাজার প্রতিনিধি: বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলে রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করছে স্থানীয় জনগণ। বছরের পর বছর ধরে পরিবেশ, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তার প্রধান ভুক্তভোগী স্থানীয় মানুষ। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, ২০২৬ সালের জেআরপি (Joint Response Plan) বা যৌথ মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ, বিপরীতে রোহিঙ্গাদের জন্য রাখা হয়েছে ৯৫ শতাংশ বরাদ্দ। এই চরম বৈষম্যমূলক পরিকল্পনা স্থানীয় জনগণের মনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। আমরা মানবিকতার বিরুদ্ধে নই। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। কিন্তু সেই মানবিকতার মূল্য যদি স্থানীয় জনগণকে একতরফাভাবে দিতে হয়, তবে সেটি কখনোই ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ তাদের জমি, বন, জীবিকা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ হারিয়ে নানা সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছে। অথচ উন্নয়ন ও সহায়তার ক্ষেত্রে তাদেরকে কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে—যে জনগণ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ বরাদ্দ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? এই পরিকল্পনা শুধু বৈষম্যমূলক নয়, বরং স্থানীয় জনগণের আত্মমর্যাদা ও ন্যায্য অধিকারের পরিপন্থী। স্থানীয়দের মাথার উপর দিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য “জামাই আদর” চলবে আর স্থানীয় জনগণ অবহেলিত থাকবে—এমন পরিস্থিতি আর মেনে নেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ সামনে নন্দীগ্রামের রণবাঘা পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

স্থানীয় জনগণের দাবি অত্যন্ত পরিষ্কার—রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে আন্তর্জাতিক সহায়তা আসছে, তার ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখতে হবে।
মানবিক সহায়তার নামে স্থানীয় জনগণকে বঞ্চিত করে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। ন্যায়বিচার ও ভারসাম্য নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
জাহাঙ্গীর আলম,সদস্য সচিব,কক্সবাজার সিভিল সোসাইটি এনজিও ফোরাম।

আরও পড়ুনঃ  ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি বছরেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে