Dhaka ১০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দক্ষিণ গফরগাঁও কান্দিপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ভৈরবে আকবরনগর-মিরারচর সংঘর্ষ বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলার তদন্ত পিবিআই’র হাতে ভাঙ্গুড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মারামারি, আহত ২ ধামরাইয়ে মসজিদের ইমামদের সড়ক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ধুনটে শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত উলিপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত স্কয়ার মাস্টার বাড়ি বাজারে চীনা ফুশেং সিগারেটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার কাউনিয়ায় খেলনা গাড়ি তুলতে গিয়ে ডোবার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু লালপুরে মাজার ও মসজিদের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি, নিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সিন্দুকও

পারমিটের আড়ালে অবৈধ গাছ পাচার আলীকদমে বিজিবির অভিযানে সেগুন কাঠ জব্দ

মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের আলীকদমে বৈধ ‘জোত পারমিটে’র আড়ালে সরকারি ও সংরক্ষিত বনের মূল্যবান গাছ কেটে পাচারের এক অভিনব সিন্ডিকেটের সন্ধান মিলেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সেগুন গোল কাঠ জব্দ করেছে আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)। তবে এই অভিযানে স্থানীয় বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। বিজিবি সূত্র জানায়, উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ কলারঝিরি এলাকায় গভীর রাতে বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখান থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করে রাখা ১০১.১২ ঘনফুট অবৈধ সেগুন গোল কাঠ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এই কাঠের আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে তা ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো বৈধ জোতের (গাছ কাটার অনুমতিপত্র) কাগজের আড়ালে পাচার করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তৈন কলারঝিরি এলাকা থেকে এই সেগুন কাঠগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে জমা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করলেন সিলেটের ডিআইজি

 

তল্লাশি অভিযানের সময় বিজিবির পক্ষ থেকে বন বিভাগের স্থানীয় তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তার সহায়তা এবং তাৎক্ষণিক উপস্থিতি চাওয়া হলেও তিনি এগিয়ে আসেননি। বন বিভাগের এই রহস্যজনক ভূমিকা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জব্দকৃত কাঠগুলো তৈন রেঞ্জ কার্যালয়ের সম্মুখভাগ দিয়েই পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলার বিভিন্ন কাঠের ডিপোতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীদের। সেখানে সুবিধাজনক সময়ে ভুয়া বা ভিন্ন জোতের বৈধ কাগজপত্র যুক্ত করে কাঠগুলো বাজারে বৈধ হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত কাঠের মালিক হিসেবে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বেচুর নাম উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাঠের মালিকানার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তার পরোক্ষ যোগসাজশ ছাড়া আলীকদমের তৈন রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন রিজার্ভ ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল থেকে এভাবে মূল্যবান গাছ উজাড় হওয়া সম্ভব নয়। বিজিবির মতো অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পাশাপাশি বন বিভাগের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা না গেলে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব নয়। আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) জানিয়েছে, জব্দকৃত কাঠ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরসহ এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ আইনি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজারে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি :নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দক্ষিণ গফরগাঁও কান্দিপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

পারমিটের আড়ালে অবৈধ গাছ পাচার আলীকদমে বিজিবির অভিযানে সেগুন কাঠ জব্দ

আপডেটের সময়: ০৬:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের আলীকদমে বৈধ ‘জোত পারমিটে’র আড়ালে সরকারি ও সংরক্ষিত বনের মূল্যবান গাছ কেটে পাচারের এক অভিনব সিন্ডিকেটের সন্ধান মিলেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সেগুন গোল কাঠ জব্দ করেছে আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)। তবে এই অভিযানে স্থানীয় বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। বিজিবি সূত্র জানায়, উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ কলারঝিরি এলাকায় গভীর রাতে বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখান থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করে রাখা ১০১.১২ ঘনফুট অবৈধ সেগুন গোল কাঠ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এই কাঠের আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে তা ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো বৈধ জোতের (গাছ কাটার অনুমতিপত্র) কাগজের আড়ালে পাচার করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তৈন কলারঝিরি এলাকা থেকে এই সেগুন কাঠগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে জমা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  সাভারে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বিআরটিএর জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি

 

তল্লাশি অভিযানের সময় বিজিবির পক্ষ থেকে বন বিভাগের স্থানীয় তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তার সহায়তা এবং তাৎক্ষণিক উপস্থিতি চাওয়া হলেও তিনি এগিয়ে আসেননি। বন বিভাগের এই রহস্যজনক ভূমিকা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জব্দকৃত কাঠগুলো তৈন রেঞ্জ কার্যালয়ের সম্মুখভাগ দিয়েই পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলার বিভিন্ন কাঠের ডিপোতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীদের। সেখানে সুবিধাজনক সময়ে ভুয়া বা ভিন্ন জোতের বৈধ কাগজপত্র যুক্ত করে কাঠগুলো বাজারে বৈধ হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত কাঠের মালিক হিসেবে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বেচুর নাম উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাঠের মালিকানার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তার পরোক্ষ যোগসাজশ ছাড়া আলীকদমের তৈন রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন রিজার্ভ ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল থেকে এভাবে মূল্যবান গাছ উজাড় হওয়া সম্ভব নয়। বিজিবির মতো অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পাশাপাশি বন বিভাগের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা না গেলে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব নয়। আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) জানিয়েছে, জব্দকৃত কাঠ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরসহ এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ আইনি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সাথে ইউএনওর মতবিনিময়