Dhaka ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভাঙ্গুড়ায় অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগ, গোডাউনের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও অনশন ফরিদগঞ্জে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়েছে ৩ শতাধিক নারী- পুরুষ কাশিমপুরে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে বাধা, ২৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ নগরকান্দায় পূজা মণ্ডপে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সচেতনতামূলক সভা সিলেট সীমান্তে ২২ লাখ টাকার চোরাচালান জব্দ মেহেন্দিগঞ্জের ধুলিয়ার মধ্যচরে মাদকবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত কারাবন্দি বিএনপি নেতার পরিবারের পাশে রাসিক প্রশাসক বিজয়া দশমী: অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন শহীদ ওসমান বিন হাদীকে হত্যার পর দেশি-বিদেশী চক্র এটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছে: জাবের জয়পুরহাটের কালাই থানায় ঢুকে তিন পুলিশ সদস্যকে পোটানোর অভিযোগ,গ্রোপ্তার এক যুবক….

পদ্মা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৪২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৮ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পদ্মা নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছের প্রজাতি। ইলিশ-পাঙ্গাস-চিতল-বোয়ালের ঝাঁকও আর দেখা যায় না। গঙ্গার বুকে ফারাক্কার অপরিণামদর্শী ব্যারেজের কারণে এই ক্ষতির শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ। অর্ধ শতাব্দী কাল যাবত ফারাক্কা ব্যারেজ হয়ে আছে গঙ্গা-পদ্মার মৃত্যু ফাঁদ। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের পদ্মার প্রশস্ততা ও গভীরতা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিষময় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মাছের ভা-ার বলে খ্যাত পদ্মা নদীতে স্থানীয় অনেক সুস্বাদু মাছ আর আগের মতো পাওয়া যায় না। অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন, একসময় রাজশাহীর পদ্মায় ছিল মাছের প্রাচুর্য। গোদাগাড়ী থেকে চারঘাট পর্যন্ত নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় জেলেদের জালে ধরা পড়তো ইলিশ, পাঙ্গাস, বোয়াল, চিতল, বাঘাইড়সহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। বিশেষ করে রাজশাহীর পবা ও গোদাগাড়ীর পদ্মায় একসময় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়া যেত। আকারেও মিলত মাঝারি থেকে বড় ইলিশ। তবে সেই চিত্র এখন অনেকটাই অতীত। পদ্মার বুকে কমেছে পানির প্রবাহ ও গভীরতা, বেড়েছে চর ও বালুর আধিক্য। নদীতে মাছের প্রাপ্যতাও কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ইলিশের পাশাপাশি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে দেশীয় মাছের বহু প্রজাতি। এর প্রভাব পড়েছে নদীনির্ভর জেলেদের জীবন-জীবিকাতেও।মানচিত্র দেখুন

আরও পড়ুনঃ  সরকারের মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস শুনতে শুনতে জাতি বিরক্ত: এবি পার্টি

মাছের জন্য হুমকি: সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব, নদীতে পানির প্রবাহ ও গভীরতা কমে যাওয়া, প্রজননক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং কৃষিতে অপরিকল্পিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারসহ নানা কারণে পদ্মার মাছের স্বাভাবিক পরিবেশ বদলে গেছে। শুধু নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়াই নয়, কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও দেশীয় মাছের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। বর্ষায় এসব জমি, পুকুর ও ডোবার পানি নদীতে মিশে মাছের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গোদাগাড়ী উপজেলার রেলওয়ে বাজার, মৎস্য আড়ৎ ও পদ্মা নদীর পাড় ঘুরে দেখা যায়, নদীর মাছের উপস্থিতি খুবই কম। সামান্য কিছু নদীর মাছ থাকলেও অধিকাংশ মাছই পুকুরে চাষ করা কাতল, রুই, তেলাপিয়া, কৈ ও পাবদা। নদীর মাছ কমে যাওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক ক্রেতাও এখন আর আগের মতো মাছ কিনতে আসছেন না। বাজারে প্রতি কেজি পাঙ্গাস মাছের দাম পড়ছে প্রায় ৪০০-৮০০ টাকা। বাঘাইড় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ১০২০ টাকা দরে।

গবেষকরা বলছেন, পদ্মায় পানি কমে যাওয়ায় স্রোতও কমেছে। ফলে এখন ইলিশ সেভাবে নিচু এলাকা থেকে উজানে আসে না। বিশেষত নদীতে পানির গভীরতা কমে যাওয়া, বাঁধ দেয়া এবং ফিল্টারেশন বেশি হওয়ারÑ অর্থাৎ ড্রেজিংয়ের কারণে পানিতে বালুর পরিমাণ বেড়ে পানি ঘোলা হয়ে যাওয়ার কারণে ইলিশের আগমন কমে গেছে। গবেষকদের মতে, পানির গভীরতা ২০ থেকে ২৫ ফুট না হলে ইলিশ নদীতে আসতে চায় না। পদ্মায় পানির গভীরতা ও স্বাভাবিক স্রোত কমে যাওয়ায় ইলিশের উজানে আসার পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর আগে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পদ্মায় প্রতি সেকেন্ডে পানি প্রবাহিত হতো ৯ হাজার ৩২ ঘনমিটার। বাঁধ চালুর পর, অর্থাৎ ১৯৭৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পানির প্রবাহ নেমে এসেছে ৫ হাজার ১৪৬ ঘনমিটারে। পানির এই পরিবর্তন শুধু ইলিশের ওপর নয়, পদ্মার অন্যান্য দেশীয় মাছের ওপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে গবেষকরা মনে করছেন। রাজশাহী জেলায় গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে চারটি উপজেলায় ৫ দশমিক ৩৭ টন ইলিশ ধরা পড়ে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সাড়ে ২৮ টন ইলিশ ধরা পড়লেও পরের বছর থেকেই ইলিশ আহরণ কমতে শুরু করে। মাত্র আট বছরের ব্যবধানে রাজশাহীতে ইলিশের আহরণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।

আরও পড়ুনঃ  ময়লার ভাগাড়ে সবুজের সমারোহ ডিসি ফরিদার উদ্যোগের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পদ্মায় দেশীয় ৭৭ প্রজাতির মাছের মধ্যে তিনটি প্রজাতির অবস্থা সংকটজনকভাবে বিপন্ন, ১০টি প্রজাতি বিপন্ন, নয়টি প্রজাতি অতি বিপন্ন এবং আরো নয়টি প্রজাতি বিপন্ন প্রায় অবস্থায় রয়েছে। পদ্মা থেকে হারিয়ে যাওয়া মৎস্য প্রজাতির ৬০ শতাংশই এখন বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। অর্থাৎ নদীর পানি কমে যাওয়া, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাদ্য সংকট, প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হওয়া এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে একের পর এক দেশীয় মাছের প্রজাতি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ইলিশ দ্রুত বেগে ছোটে এবং উজানের দিকে যেতে পছন্দ করে। এ মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে চলাচল করে। পাকিস্তান আমলেও বঙ্গোপসাগর থেকে উজানে রাজশাহী হয়ে ভারতের ভাগলপুর পর্যন্ত ইলিশ যেত এবং ডিম ছাড়তো। ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর রাজশাহীতে ইলিশ কমতে থাকে। তিনি বলেন, বাঁধের কারণে পদ্মায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় স্রোতও কমে গেছে। ফলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অতিক্রম করে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ আসা বন্ধ হয়ে যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ১৯৭৪-৭৫ সাল পর্যন্ত রাজশাহীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যেত। তবে আশির দশক থেকেই পদ্মায় ইলিশের পরিমাণ কমতে থাকে।

আরও পড়ুনঃ  পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভাঙ্গুড়ায় অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগ, গোডাউনের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও অনশন

পদ্মা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

আপডেটের সময়: ০৯:৪২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পদ্মা নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছের প্রজাতি। ইলিশ-পাঙ্গাস-চিতল-বোয়ালের ঝাঁকও আর দেখা যায় না। গঙ্গার বুকে ফারাক্কার অপরিণামদর্শী ব্যারেজের কারণে এই ক্ষতির শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ। অর্ধ শতাব্দী কাল যাবত ফারাক্কা ব্যারেজ হয়ে আছে গঙ্গা-পদ্মার মৃত্যু ফাঁদ। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের পদ্মার প্রশস্ততা ও গভীরতা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিষময় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মাছের ভা-ার বলে খ্যাত পদ্মা নদীতে স্থানীয় অনেক সুস্বাদু মাছ আর আগের মতো পাওয়া যায় না। অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন, একসময় রাজশাহীর পদ্মায় ছিল মাছের প্রাচুর্য। গোদাগাড়ী থেকে চারঘাট পর্যন্ত নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় জেলেদের জালে ধরা পড়তো ইলিশ, পাঙ্গাস, বোয়াল, চিতল, বাঘাইড়সহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। বিশেষ করে রাজশাহীর পবা ও গোদাগাড়ীর পদ্মায় একসময় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়া যেত। আকারেও মিলত মাঝারি থেকে বড় ইলিশ। তবে সেই চিত্র এখন অনেকটাই অতীত। পদ্মার বুকে কমেছে পানির প্রবাহ ও গভীরতা, বেড়েছে চর ও বালুর আধিক্য। নদীতে মাছের প্রাপ্যতাও কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ইলিশের পাশাপাশি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে দেশীয় মাছের বহু প্রজাতি। এর প্রভাব পড়েছে নদীনির্ভর জেলেদের জীবন-জীবিকাতেও।মানচিত্র দেখুন

আরও পড়ুনঃ  পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মাছের জন্য হুমকি: সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব, নদীতে পানির প্রবাহ ও গভীরতা কমে যাওয়া, প্রজননক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং কৃষিতে অপরিকল্পিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারসহ নানা কারণে পদ্মার মাছের স্বাভাবিক পরিবেশ বদলে গেছে। শুধু নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়াই নয়, কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও দেশীয় মাছের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। বর্ষায় এসব জমি, পুকুর ও ডোবার পানি নদীতে মিশে মাছের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গোদাগাড়ী উপজেলার রেলওয়ে বাজার, মৎস্য আড়ৎ ও পদ্মা নদীর পাড় ঘুরে দেখা যায়, নদীর মাছের উপস্থিতি খুবই কম। সামান্য কিছু নদীর মাছ থাকলেও অধিকাংশ মাছই পুকুরে চাষ করা কাতল, রুই, তেলাপিয়া, কৈ ও পাবদা। নদীর মাছ কমে যাওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক ক্রেতাও এখন আর আগের মতো মাছ কিনতে আসছেন না। বাজারে প্রতি কেজি পাঙ্গাস মাছের দাম পড়ছে প্রায় ৪০০-৮০০ টাকা। বাঘাইড় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ১০২০ টাকা দরে।

গবেষকরা বলছেন, পদ্মায় পানি কমে যাওয়ায় স্রোতও কমেছে। ফলে এখন ইলিশ সেভাবে নিচু এলাকা থেকে উজানে আসে না। বিশেষত নদীতে পানির গভীরতা কমে যাওয়া, বাঁধ দেয়া এবং ফিল্টারেশন বেশি হওয়ারÑ অর্থাৎ ড্রেজিংয়ের কারণে পানিতে বালুর পরিমাণ বেড়ে পানি ঘোলা হয়ে যাওয়ার কারণে ইলিশের আগমন কমে গেছে। গবেষকদের মতে, পানির গভীরতা ২০ থেকে ২৫ ফুট না হলে ইলিশ নদীতে আসতে চায় না। পদ্মায় পানির গভীরতা ও স্বাভাবিক স্রোত কমে যাওয়ায় ইলিশের উজানে আসার পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর আগে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পদ্মায় প্রতি সেকেন্ডে পানি প্রবাহিত হতো ৯ হাজার ৩২ ঘনমিটার। বাঁধ চালুর পর, অর্থাৎ ১৯৭৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পানির প্রবাহ নেমে এসেছে ৫ হাজার ১৪৬ ঘনমিটারে। পানির এই পরিবর্তন শুধু ইলিশের ওপর নয়, পদ্মার অন্যান্য দেশীয় মাছের ওপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে গবেষকরা মনে করছেন। রাজশাহী জেলায় গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে চারটি উপজেলায় ৫ দশমিক ৩৭ টন ইলিশ ধরা পড়ে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সাড়ে ২৮ টন ইলিশ ধরা পড়লেও পরের বছর থেকেই ইলিশ আহরণ কমতে শুরু করে। মাত্র আট বছরের ব্যবধানে রাজশাহীতে ইলিশের আহরণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।

আরও পড়ুনঃ  ভারতে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সংকটে মোদি

২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পদ্মায় দেশীয় ৭৭ প্রজাতির মাছের মধ্যে তিনটি প্রজাতির অবস্থা সংকটজনকভাবে বিপন্ন, ১০টি প্রজাতি বিপন্ন, নয়টি প্রজাতি অতি বিপন্ন এবং আরো নয়টি প্রজাতি বিপন্ন প্রায় অবস্থায় রয়েছে। পদ্মা থেকে হারিয়ে যাওয়া মৎস্য প্রজাতির ৬০ শতাংশই এখন বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। অর্থাৎ নদীর পানি কমে যাওয়া, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাদ্য সংকট, প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হওয়া এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে একের পর এক দেশীয় মাছের প্রজাতি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ইলিশ দ্রুত বেগে ছোটে এবং উজানের দিকে যেতে পছন্দ করে। এ মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে চলাচল করে। পাকিস্তান আমলেও বঙ্গোপসাগর থেকে উজানে রাজশাহী হয়ে ভারতের ভাগলপুর পর্যন্ত ইলিশ যেত এবং ডিম ছাড়তো। ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর রাজশাহীতে ইলিশ কমতে থাকে। তিনি বলেন, বাঁধের কারণে পদ্মায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় স্রোতও কমে গেছে। ফলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অতিক্রম করে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ আসা বন্ধ হয়ে যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ১৯৭৪-৭৫ সাল পর্যন্ত রাজশাহীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যেত। তবে আশির দশক থেকেই পদ্মায় ইলিশের পরিমাণ কমতে থাকে।

আরও পড়ুনঃ  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফাঁদে পড়লেন ইশরাক: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী