Dhaka ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রাজধানীতে পরিবহন শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডিএমপির ‘পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প’ বিদ্যুৎ সংকটে নাগরপুর-দেলদুয়ার, মন্ত্রীকে এমপি লাভলুর চিঠি” ধুমেরকুটি ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী আজহারুল ইসলাম বাবুল আর নেই পত্নীতলায় প্রতিবাদী ঐক্য মঞ্চের উদ্যোগে বিক্ষোভ ও সমাবেশ কুশল বিনিময় ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত মালিবাগে ছুরিকাঘাতে নিহত বিল্লাল তালুকদারের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ২০২৬সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত শ্যামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে আনসার-ভিডিপির জব ফেয়ারে ১২৬ তরুণের চাকরি নিশ্চিত লালমাইয়ে যুবককে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা: এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

জন্ম থেকেই দুই পা স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট। চলাফেরা করতে হয় দুই হাতের ওপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে

এসকে শুভ) স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর: জন্ম থেকেই দুই পা স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট। চলাফেরা করতে হয় দুই হাতের ওপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে। এমন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও কখনো ভিক্ষা করেননি, কারও কাছে হাত পাতেননি। আত্মসম্মান আর পরিশ্রমকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন ২৭ বছর বয়সী কদম আলী। তবে পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে না পারায় প্রতিদিনই তাঁর সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে উঠছে। সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া পানাগাড়ী এলাকার বাসিন্দা কদম আলী বর্তমানে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকার জরুন দশতলা গার্মেন্টস গেট সংলগ্ন একটি ভাড়া করা দোকানে চা-নাস্তার ব্যবসা করছেন বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট দোকানটিতে চা, বিস্কুট, চানাচুর, বাদাম ও সিগারেট বিক্রি করছেন তিনি। আশপাশের পোশাক কারখানার শ্রমিকরাই তাঁর দোকানের প্রধান ক্রেতা। কদম আলী জানান, জন্ম থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবাকে হারান। চার ভাই ও দুই বোনের সংসারে তিনি চার ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট এবং দুই বোনের বড়। বর্তমানে দোকানের পাশেই একটি ভাড়া বাসায় ছোট বোন ও বোনের স্বামীর সঙ্গে থাকেন। তারা দুজনই একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

আরও পড়ুনঃ  জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ


‎তিনি বলেন, শরীরের এই অবস্থার কারণে কঠিন কোনো কাজ করতে পারি না। কিন্তু বসে থাকলে তো চলবে না। বাঁচতে হলে কাজ করেই খেতে হবে। প্রায় আট বছর ধরে এই দোকান চালাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ক্রেতা আসে, বিক্রিও মোটামুটি ভালো। কিন্তু টাকার অভাবে দোকানে পর্যাপ্ত মালামাল তুলতে পারি না। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মতো লাভ হয়। এই আয় দিয়ে ঘরভাড়া, সংসার, ওষুধ এবং গ্রামের বৃদ্ধা মায়ের খরচ চালানো খুবই কষ্টকর। জীবন নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই উল্লেখ করে কদম আলী বলেন, আল্লাহ যেভাবে রেখেছেন, ভালোই আছি। তবে যদি কিছু পুঁজি পেতাম, দোকানে আরও মাল তুলতে পারতাম। তাহলে বিক্রিও বাড়ত, আয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পেত। স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম এবং পোশাক শ্রমিক সোহেল, মামুন, হাসান, খালিদ ও শামীম বলেন, কদম আলী ভিক্ষাবৃত্তি বেছে না নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনযাপন করছেন। সরকার কিংবা সমাজের বিত্তবানরা যদি তাঁকে একটি স্থায়ী দোকানঘর ও কিছু মূলধন দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে তিনি আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন। এবিষয়ে গাজীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী হয়েও কদম আলীর আত্মসম্মান নিয়ে কাজ করে জীবনযাপন সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি যে এলাকার ভোটার, সেখানে সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে ব্যবসার জন্য সুদমুক্ত ঋণসহ সরকারি বিভিন্ন সহায়তার সুযোগ থাকলে তা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  দেবিদ্বারে সরকারি রাস্তা দখল করে যুবলীগ নেতার ভবন নির্মাণ, নেপথ্যে স্কুল দপ্তরি আনিসুল হক
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রাজধানীতে পরিবহন শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডিএমপির ‘পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প’

জন্ম থেকেই দুই পা স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট। চলাফেরা করতে হয় দুই হাতের ওপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে

আপডেটের সময়: ০৭:৪৮:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

এসকে শুভ) স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর: জন্ম থেকেই দুই পা স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট। চলাফেরা করতে হয় দুই হাতের ওপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে। এমন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও কখনো ভিক্ষা করেননি, কারও কাছে হাত পাতেননি। আত্মসম্মান আর পরিশ্রমকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন ২৭ বছর বয়সী কদম আলী। তবে পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে না পারায় প্রতিদিনই তাঁর সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে উঠছে। সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া পানাগাড়ী এলাকার বাসিন্দা কদম আলী বর্তমানে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকার জরুন দশতলা গার্মেন্টস গেট সংলগ্ন একটি ভাড়া করা দোকানে চা-নাস্তার ব্যবসা করছেন বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট দোকানটিতে চা, বিস্কুট, চানাচুর, বাদাম ও সিগারেট বিক্রি করছেন তিনি। আশপাশের পোশাক কারখানার শ্রমিকরাই তাঁর দোকানের প্রধান ক্রেতা। কদম আলী জানান, জন্ম থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবাকে হারান। চার ভাই ও দুই বোনের সংসারে তিনি চার ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট এবং দুই বোনের বড়। বর্তমানে দোকানের পাশেই একটি ভাড়া বাসায় ছোট বোন ও বোনের স্বামীর সঙ্গে থাকেন। তারা দুজনই একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

আরও পড়ুনঃ  কুমিল্লার গোমতী বেড়িবাঁধে সোলার বাতি চুরি, অন্ধকারে সীমান্ত সড়ক


‎তিনি বলেন, শরীরের এই অবস্থার কারণে কঠিন কোনো কাজ করতে পারি না। কিন্তু বসে থাকলে তো চলবে না। বাঁচতে হলে কাজ করেই খেতে হবে। প্রায় আট বছর ধরে এই দোকান চালাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ক্রেতা আসে, বিক্রিও মোটামুটি ভালো। কিন্তু টাকার অভাবে দোকানে পর্যাপ্ত মালামাল তুলতে পারি না। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মতো লাভ হয়। এই আয় দিয়ে ঘরভাড়া, সংসার, ওষুধ এবং গ্রামের বৃদ্ধা মায়ের খরচ চালানো খুবই কষ্টকর। জীবন নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই উল্লেখ করে কদম আলী বলেন, আল্লাহ যেভাবে রেখেছেন, ভালোই আছি। তবে যদি কিছু পুঁজি পেতাম, দোকানে আরও মাল তুলতে পারতাম। তাহলে বিক্রিও বাড়ত, আয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পেত। স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম এবং পোশাক শ্রমিক সোহেল, মামুন, হাসান, খালিদ ও শামীম বলেন, কদম আলী ভিক্ষাবৃত্তি বেছে না নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনযাপন করছেন। সরকার কিংবা সমাজের বিত্তবানরা যদি তাঁকে একটি স্থায়ী দোকানঘর ও কিছু মূলধন দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে তিনি আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন। এবিষয়ে গাজীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী হয়েও কদম আলীর আত্মসম্মান নিয়ে কাজ করে জীবনযাপন সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি যে এলাকার ভোটার, সেখানে সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে ব্যবসার জন্য সুদমুক্ত ঋণসহ সরকারি বিভিন্ন সহায়তার সুযোগ থাকলে তা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  মাগুরায় ১০০বোতল ফেনসিডিলসহ র‍্যাব ৬ এর হাতে আটক ১