Dhaka ০৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলার গ্রাহকরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ককটেল বিস্ফোরক মামলায়, আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার মৌলভীবাজারে নিখোঁজের পর নদীতে মিললো ৫ বছরের শিশুর মৃ’ত’দেহ স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনকে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুদানের চেক হস্তান্তর যাত্রীবাহী বাসে অভিনব কায়দায় গাঁজা পাচার, কুমিল্লায় দুই নারী গ্রেপ্তার জাতীয় ভিটামিন এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনঃ বন্দর ইপিআই জোনের ৬ ওয়ার্ডে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় ডিমলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন গাজীপুরে বনভূমি দখল: বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যোগসাজশ ও কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ রাজবাড়ী গোয়ালন্দে মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের সময় এসিল্যান্ডের ওপর হামলা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল শেখ গ্রেপ্তার প্রধান শিক্ষকের সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় ধ্বংসের মুখে পিপলাকান্দি স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ

গাজীপুরে বনভূমি দখল: বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যোগসাজশ ও কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

এসকে শুভ:স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর:  বন রক্ষার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, অভিযোগ উঠেছে তারাই এখন বনভূমি দখলের নেপথ্যের কারিগর। বন বিভাগের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা থাকলেও গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা বনবিট এলাকায় বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বরং বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, দালালচক্র ও ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে সংরক্ষিত বনভূমি দখল এখন যেন প্রকাশ্য প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন আগে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যম আজকের জনবানী পত্রিকায় এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন স্থাপনার নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধারে কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি। এতে দখলকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তাদের।

 


‎সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্বাসপাড়ায় জাকির হোসেন বনভূমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করছেন। জোলাপাড়ায় আফাজ উদ্দিন ইতোমধ্যে বাড়ি নির্মাণ শেষ করেছেন। সুরিচালায় ডিমারকেশন ছাড়াই জুয়েল নামে এক ব্যক্তি ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বাসপাড়ার ভাঙ্গারপাড় এলাকায় শাল-গজারি বনের ভেতরে চঞ্চল মিয়া দোকানঘর নির্মাণ করেছেন।এছাড়া সুরিচালা দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার পূর্ব পাশে সংরক্ষিত আরএস গেজেটভুক্ত বনভূমিতে আবু সাঈদ মন্ডল ১০ কক্ষবিশিষ্ট ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দেখা গেছে। পাশাগেটের মুন্সিটেক এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বোর্ডমিল এলাকায় জামাল নামে এক ব্যক্তি বহুতল ভবন এবং বিশ্বাসপাড়ার জিকজ্যাক মাঠের পশ্চিম পাশে নুরজাহান নামে এক নারী বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। কালামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সড়কের মুখে সাইফুল নামে এক ব্যক্তি টিনশেড ঘর তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ২০২৬সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত


‎ডং ব্যাং গেট সংলগ্ন মোল্লারটেক এলাকায় বনভূমির সীমানা ঘেঁষে ডিমারকেশন ছাড়াই জসিম উদ্দিন দুইতলা ভবনের ফাউন্ডেশন করেছেন।স্থানীয়দের দাবি, ওই নির্মাণাধীন ভবনের সামনেই গজারি বনের ভেতরে আরও ১০ থেকে ১২টি নতুন টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আমবাড়ী হযরতপুরে মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে আটক ২


‎বিট কর্মকর্তার নাম টেনে বিস্ফোরক দাবি:
‎বনের জমিতে ভবন নির্মাণের বিষয়ে আবু সাঈদ মন্ডল বলেন, “১৯৫৬ সালের দলিল থাকলেও আরএস রেকর্ড বনের নামে রয়েছে। বিট অফিসের সঙ্গে কথা বলেই কাজ করছি। চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা ইকবাল স্যার আপনার নম্বর দিয়ে বলেছেন, আপনার সঙ্গে কথা বলে কিছু দিয়ে সমাধান করতে।অন্যদিকে সুরিচালার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বনের জমিতে টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। আবু সাঈদ মন্ডলের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে আবার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বন প্রহরী মিনহাজের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, বাকি টাকা কাজ শেষে দেওয়া হবে। যারা বন রক্ষা করবে, তারাই এখন বনভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুনঃ  লোহাগাড়ায় সড়ক বাইক আরোহীর মৃত্যু


‎যোগাযোগের চেষ্টা, মেলেনি সাড়া:
‎এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।তবে কালিয়াকৈর রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম শাকিল বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পরই সব কাজ বন্ধ করা হয়েছে। দখল হওয়া জায়গায় চারা রোপণের নির্দেশনা এসেছে। পর্যায়ক্রমে আশপাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। নতুন করে দখলের তথ্য পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বনভূমি রক্ষায় অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বন বিভাগের অভ্যন্তরে দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানই এখন সময়ের দাবি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলার গ্রাহকরা

গাজীপুরে বনভূমি দখল: বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যোগসাজশ ও কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৩:৩২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

এসকে শুভ:স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর:  বন রক্ষার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, অভিযোগ উঠেছে তারাই এখন বনভূমি দখলের নেপথ্যের কারিগর। বন বিভাগের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা থাকলেও গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা বনবিট এলাকায় বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বরং বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, দালালচক্র ও ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে সংরক্ষিত বনভূমি দখল এখন যেন প্রকাশ্য প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন আগে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যম আজকের জনবানী পত্রিকায় এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন স্থাপনার নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধারে কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি। এতে দখলকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তাদের।

 


‎সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্বাসপাড়ায় জাকির হোসেন বনভূমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করছেন। জোলাপাড়ায় আফাজ উদ্দিন ইতোমধ্যে বাড়ি নির্মাণ শেষ করেছেন। সুরিচালায় ডিমারকেশন ছাড়াই জুয়েল নামে এক ব্যক্তি ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বাসপাড়ার ভাঙ্গারপাড় এলাকায় শাল-গজারি বনের ভেতরে চঞ্চল মিয়া দোকানঘর নির্মাণ করেছেন।এছাড়া সুরিচালা দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার পূর্ব পাশে সংরক্ষিত আরএস গেজেটভুক্ত বনভূমিতে আবু সাঈদ মন্ডল ১০ কক্ষবিশিষ্ট ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দেখা গেছে। পাশাগেটের মুন্সিটেক এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বোর্ডমিল এলাকায় জামাল নামে এক ব্যক্তি বহুতল ভবন এবং বিশ্বাসপাড়ার জিকজ্যাক মাঠের পশ্চিম পাশে নুরজাহান নামে এক নারী বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। কালামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সড়কের মুখে সাইফুল নামে এক ব্যক্তি টিনশেড ঘর তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ২০২৬সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত


‎ডং ব্যাং গেট সংলগ্ন মোল্লারটেক এলাকায় বনভূমির সীমানা ঘেঁষে ডিমারকেশন ছাড়াই জসিম উদ্দিন দুইতলা ভবনের ফাউন্ডেশন করেছেন।স্থানীয়দের দাবি, ওই নির্মাণাধীন ভবনের সামনেই গজারি বনের ভেতরে আরও ১০ থেকে ১২টি নতুন টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রুমা উপজেলা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি গর্ডেন, সাধারণ সম্পাদক আন্তনি


‎বিট কর্মকর্তার নাম টেনে বিস্ফোরক দাবি:
‎বনের জমিতে ভবন নির্মাণের বিষয়ে আবু সাঈদ মন্ডল বলেন, “১৯৫৬ সালের দলিল থাকলেও আরএস রেকর্ড বনের নামে রয়েছে। বিট অফিসের সঙ্গে কথা বলেই কাজ করছি। চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা ইকবাল স্যার আপনার নম্বর দিয়ে বলেছেন, আপনার সঙ্গে কথা বলে কিছু দিয়ে সমাধান করতে।অন্যদিকে সুরিচালার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বনের জমিতে টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। আবু সাঈদ মন্ডলের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে আবার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বন প্রহরী মিনহাজের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, বাকি টাকা কাজ শেষে দেওয়া হবে। যারা বন রক্ষা করবে, তারাই এখন বনভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুনঃ  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ককটেল বিস্ফোরক মামলায়, আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার


‎যোগাযোগের চেষ্টা, মেলেনি সাড়া:
‎এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।তবে কালিয়াকৈর রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম শাকিল বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পরই সব কাজ বন্ধ করা হয়েছে। দখল হওয়া জায়গায় চারা রোপণের নির্দেশনা এসেছে। পর্যায়ক্রমে আশপাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। নতুন করে দখলের তথ্য পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বনভূমি রক্ষায় অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বন বিভাগের অভ্যন্তরে দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানই এখন সময়ের দাবি।