Dhaka ০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সরইয়ের বালু ঘিরে প্রভাবশালীদের আধিপত্য, প্রশ্নবিদ্ধ তদারকি মৌলভীবাজারের রাজনগরে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিসহ ৭ জন গ্রেফতার বগুড়ায় উন্নয়নের নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী: মীর শাহে আলম হোসেনপুরে বিজ্ঞান মেলায় চ্যাম্পিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, প্রথম স্থান অর্জন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক নিরাপত্তা, জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারলে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব: এমপি মিলন মাদকবিরোধী অভিযানে বিরামপুরে তিন কারবারি আটক বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে পিআইও মিল্টন দস্তিদারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ ভোলা হলি চাইল্ড একাডেমির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বাউফলে শিক্ষার্থীদের স্টার্টআপ ও ইনোভেশন আইডিয়া শেয়ারিং সেমিনার অনুষ্ঠিত জামালপুরের সরিষাবাড়িতে, দৈনিক আজকের জনবাণীর নতুন যাত্রা.

৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৫:২৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ৪০ সময় দেখুন

​জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার​

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
​ঘটনার প্রেক্ষাপট

​ঈদুল আজহার আগের দিন, গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে (সকাল ৬টা থেকে ৯টা) ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
​তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে ​ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে হাসপাতালের পক্ষ থেকে চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে:
​ভেন্টিলেশন সংকট: সংশ্লিষ্ট কক্ষটিতে দীর্ঘসময় এসি বন্ধ ছিল। পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
​* ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোকসমাগম:* ৯০০ বর্গফুটের ছোট ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ৫০ জন) মানুষের উপস্থিতি ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তোলে।
​জরুরি সেবায় ঘাটতি: নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও হাসপাতালে কোনো সক্রিয় ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স’ ব্যবস্থা ছিল না।
​দায়িত্বে চরম অবহেলা: ঘটনার সময় সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া দায়িত্বরত সেবিকাদের অসহযোগিতা ও দায়িত্বে চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
​তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ নোটিশ প্রদান করে। ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘনের দায়ে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতর চূড়ান্তভাবে লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দিল।

আরও পড়ুনঃ  রাজধানীর মৌচাকে সন্ত্রাসীদের ছুড়িকাঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা খুন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সরইয়ের বালু ঘিরে প্রভাবশালীদের আধিপত্য, প্রশ্নবিদ্ধ তদারকি

৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

আপডেটের সময়: ০৫:২৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

​জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার​

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
​ঘটনার প্রেক্ষাপট

​ঈদুল আজহার আগের দিন, গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে (সকাল ৬টা থেকে ৯টা) ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
​তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে ​ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে হাসপাতালের পক্ষ থেকে চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে:
​ভেন্টিলেশন সংকট: সংশ্লিষ্ট কক্ষটিতে দীর্ঘসময় এসি বন্ধ ছিল। পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
​* ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোকসমাগম:* ৯০০ বর্গফুটের ছোট ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ৫০ জন) মানুষের উপস্থিতি ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তোলে।
​জরুরি সেবায় ঘাটতি: নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও হাসপাতালে কোনো সক্রিয় ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স’ ব্যবস্থা ছিল না।
​দায়িত্বে চরম অবহেলা: ঘটনার সময় সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া দায়িত্বরত সেবিকাদের অসহযোগিতা ও দায়িত্বে চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
​তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ নোটিশ প্রদান করে। ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘনের দায়ে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতর চূড়ান্তভাবে লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দিল।

আরও পড়ুনঃ  বুড়িগঙ্গায় কুমির আতঙ্ক কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় সতর্কতা জারি