Dhaka ১১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ফাইনাল নিশ্চিত দক্ষিণ আফ্রিকার তারাগঞ্জে ১০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার ১, মামলা প্রক্রিয়াধীন ধামইরহাটে দুইশত টাকার জন্য প্রতিবেশীর আঘাতে যুবকের মৃত্যু চন্দনাইশে ভূমি বিরোধ নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন চটকাপোতা গ্রামে দুই শিশুসন্তানসহ কামালের জানাজায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ধামইরহাটে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ রাজীব বাসের রোড পারমিট বাতিল ও চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ধুনটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেশের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যয়ের শঙ্কা বাড়াচ্ছে আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিতে কঠোর নির্দেশনা ডিসি ফরিদার

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভূমি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দালালের দৌরাত্ম্যের শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা জেলার প্রশাসক ফরিদা খানম। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি। জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত ভূমিসেবা নিশ্চিত করাই হবে জেলা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি। ফরিদা খানম বলেন, একজন নাগরিক ভূমি অফিসে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, রাষ্ট্রের কাছে সেবা নিতে আসেন। তাই তাকে যথাযথ সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। ভূমি সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জে নজরুলবর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

 

তিনি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন। নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা, অযথা হয়রানি কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি ও সেবা প্রদানের সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে। নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরিদা খানম বলেন, একজন সাধারণ মানুষের কাছে তার জমি হয়তো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই কোনো নাগরিক যেন ভূমি অফিস থেকে অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান।

আরও পড়ুনঃ  বাস্তবের সঙ্গে কাগজে-কলমেও কমছে ইলিশ

 

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে সাফল্য: সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা, যা দাবির ১১০.৬ শতাংশ। এ ছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে এ সাফল্যের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসিলদার ও সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, এ অর্জন তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। জনগণ যেন দালাল ছাড়াই স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা পান এবং হয়রানি ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে। সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমিসেবা সহজীকরণ ও নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুনঃ  এই স্বাধীন দেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ফাইনাল নিশ্চিত দক্ষিণ আফ্রিকার

হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিতে কঠোর নির্দেশনা ডিসি ফরিদার

আপডেটের সময়: ০৪:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভূমি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দালালের দৌরাত্ম্যের শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা জেলার প্রশাসক ফরিদা খানম। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি। জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত ভূমিসেবা নিশ্চিত করাই হবে জেলা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি। ফরিদা খানম বলেন, একজন নাগরিক ভূমি অফিসে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, রাষ্ট্রের কাছে সেবা নিতে আসেন। তাই তাকে যথাযথ সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। ভূমি সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুনঃ  গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করাই আমাদের দায়িত্ব: ইশরাক

 

তিনি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন। নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা, অযথা হয়রানি কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি ও সেবা প্রদানের সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে। নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরিদা খানম বলেন, একজন সাধারণ মানুষের কাছে তার জমি হয়তো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই কোনো নাগরিক যেন ভূমি অফিস থেকে অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নিপুণ রায় চৌধুরী

 

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে সাফল্য: সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা, যা দাবির ১১০.৬ শতাংশ। এ ছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে এ সাফল্যের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসিলদার ও সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, এ অর্জন তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। জনগণ যেন দালাল ছাড়াই স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা পান এবং হয়রানি ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে। সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমিসেবা সহজীকরণ ও নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুনঃ  বাস্তবের সঙ্গে কাগজে-কলমেও কমছে ইলিশ