Dhaka ০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার অধিকার লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা মনপুরায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার, পাঠানো হলো শিশু আদালতে বিস্ফোরক মামলায় ভাঙ্গুড়া পৌরসভার কর্মকর্তা ও আ.লীগ নেতা কালু গ্রেপ্তার নন্দীগ্রামে পানিতে ভেসে উঠল শিশুর নিথর দেহ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে তাজকিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মিষ্টান্ন বিতরণ লালপুরে পৃথক অভিযানে ১০টি স্মার্ট ফোন ও ৪০ হাজার টাকাসহ ৫ হ্যাকার আটক বগুড়ায় ড্রেন নির্মাণকাজের সময় মাটির নিচে মিলল এসএমজির ৩৩৪ রাউন্ড গুলি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধামরাই খাদ্য গোডাউন পরিদর্শনে খাদ্যমন্ত্রী গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করাই আমাদের দায়িত্ব: ইশরাক

গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করাই আমাদের দায়িত্ব: ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, “গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করা, সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতিকার ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬-এর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সালে এই জাতি একবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাতের অন্ধকারে মানুষকে তুলে নিয়ে যেত। বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছিল। বাঙালির স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বিচারহীন আটক, নির্যাতন ও নির্মম দমন চালানো হয়েছিল। সেদিনও রাষ্ট্রীয় শক্তি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করেছিল। সেদিনও মায়েরা সন্তানের খোঁজে ঘুরেছেন। অনেক পরিবার আর কখনো তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পায়নি।”

আরও পড়ুনঃ  ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক থাকবে না: শামা ওবায়েদ

তিনি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা পরবর্তী প্রজন্মকে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে যে দীর্ঘ সংগ্রাম চলেছে, তা এই চেতনা থেকেই শক্তি নিয়েছে। কারণ অত্যাচারের ধরন একই ছিল। ইশরাক হোসেন বলেন, “দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই ফ্যাসিবাদী শাসনে ২ হাজারেরও বেশি মানুষকে অবৈধভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, সাংবাদিক, ছাত্র—যারাই প্রতিবাদ করেছিলেন, তাদের অনেককে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শত শত মানুষ আর কখনো বাড়ি ফেরেননি। তাদের ভাগ্য আজও অজানা।” তিনি বলেন, তাদের পরিবারগুলো আজ এই কক্ষে উপস্থিত। তাদের অপেক্ষা, তাদের নীরব কান্না কোনো বিমূর্ত ঘটনা নয়। এটা একটি জাতির ক্ষত। মৃত্যুর সংবাদ মানুষকে অন্তত শোক করার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু গুম একজন মানুষকে তার প্রিয়জনের জন্য শোক করার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়। এই অনিশ্চয়তা, এই অন্তহীন অপেক্ষা নিজেই এক ধরনের নির্মম নির্যাতন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু গুম হওয়া মানুষদের স্মরণ করতে আসিনি। আমরা এসেছি তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচারের অধিকার এবং রাষ্ট্রের কাছে জবাব পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করতে। তিনি বলেন, “গুম শুধু একটি অপরাধ নয়। গুম হলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর রূপ। মানুষকে আইনের আওতার বাইরে নিয়ে যাওয়া, তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা এবং পরিবারগুলোকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা—এটা ১৯৭১ এর হানাদার বাহিনীর পদ্ধতিরই পুনরাবৃত্তি। তখনও মানুষকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হতো। পরেও গোপন কক্ষে, আয়নাঘরে মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছিল। তখনও প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করা হয়েছিল। সত্য বলার সাহসকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শুধু ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। যেসব মানুষ গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার জন্য জীবন দিয়েছেন, যাদের গুম করা হয়েছে, যাদের পরিবার আজও অপেক্ষা করছে, তাদের ত্যাগও মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই অংশ।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপি কখনো জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেনি : রিজভী

 

তিনি বলেন, সেই চেতনাকে ধারণ করে আমরা নিখোঁজ, নির্যাতিত ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। রাষ্ট্র তাদের স্বীকৃতি দেবে, চিকিৎসা দেবে, আইনি সহায়তা দেবে এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে, ইনশাআল্লাহ। ইশরাক হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জাতিসংঘের গুমবিরোধী সনদে যোগ দিয়েছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য আইন প্রণয়নের কাজ জাতীয় সংসদে এগোচ্ছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সত্য উদ্ঘাটিত হবে, দায়ীরা বিচারের মুখোমুখি হবেন এবং এমন অন্ধকার আর ফিরে আসতে পারবে না। নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের কষ্ট আমরা অনুভব করি। আপনারা যে সাহস নিয়ে বছরের পর বছর প্রিয়জনের খোঁজ করেছেন, সেই সাহসই এই জাতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আজ আমাদের সামনে চারটি দায়িত্ব অত্যন্ত স্পষ্ট—সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতিকার ও পুনর্বাসন এবং এই অপরাধের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করা।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নিপুণ রায় চৌধুরী
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার অধিকার

গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করাই আমাদের দায়িত্ব: ইশরাক

আপডেটের সময়: ০৫:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, “গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করা, সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতিকার ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬-এর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সালে এই জাতি একবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাতের অন্ধকারে মানুষকে তুলে নিয়ে যেত। বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছিল। বাঙালির স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বিচারহীন আটক, নির্যাতন ও নির্মম দমন চালানো হয়েছিল। সেদিনও রাষ্ট্রীয় শক্তি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করেছিল। সেদিনও মায়েরা সন্তানের খোঁজে ঘুরেছেন। অনেক পরিবার আর কখনো তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পায়নি।”

আরও পড়ুনঃ  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেকে কী মনে করেন? তার ছাত্র হিসেবে সংসদে আসিনি: বিরোধীদলীয় নেতা

তিনি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা পরবর্তী প্রজন্মকে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে যে দীর্ঘ সংগ্রাম চলেছে, তা এই চেতনা থেকেই শক্তি নিয়েছে। কারণ অত্যাচারের ধরন একই ছিল। ইশরাক হোসেন বলেন, “দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই ফ্যাসিবাদী শাসনে ২ হাজারেরও বেশি মানুষকে অবৈধভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, সাংবাদিক, ছাত্র—যারাই প্রতিবাদ করেছিলেন, তাদের অনেককে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শত শত মানুষ আর কখনো বাড়ি ফেরেননি। তাদের ভাগ্য আজও অজানা।” তিনি বলেন, তাদের পরিবারগুলো আজ এই কক্ষে উপস্থিত। তাদের অপেক্ষা, তাদের নীরব কান্না কোনো বিমূর্ত ঘটনা নয়। এটা একটি জাতির ক্ষত। মৃত্যুর সংবাদ মানুষকে অন্তত শোক করার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু গুম একজন মানুষকে তার প্রিয়জনের জন্য শোক করার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়। এই অনিশ্চয়তা, এই অন্তহীন অপেক্ষা নিজেই এক ধরনের নির্মম নির্যাতন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু গুম হওয়া মানুষদের স্মরণ করতে আসিনি। আমরা এসেছি তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচারের অধিকার এবং রাষ্ট্রের কাছে জবাব পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করতে। তিনি বলেন, “গুম শুধু একটি অপরাধ নয়। গুম হলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর রূপ। মানুষকে আইনের আওতার বাইরে নিয়ে যাওয়া, তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা এবং পরিবারগুলোকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা—এটা ১৯৭১ এর হানাদার বাহিনীর পদ্ধতিরই পুনরাবৃত্তি। তখনও মানুষকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হতো। পরেও গোপন কক্ষে, আয়নাঘরে মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছিল। তখনও প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করা হয়েছিল। সত্য বলার সাহসকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শুধু ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। যেসব মানুষ গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার জন্য জীবন দিয়েছেন, যাদের গুম করা হয়েছে, যাদের পরিবার আজও অপেক্ষা করছে, তাদের ত্যাগও মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই অংশ।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপি কখনো জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেনি : রিজভী

 

তিনি বলেন, সেই চেতনাকে ধারণ করে আমরা নিখোঁজ, নির্যাতিত ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। রাষ্ট্র তাদের স্বীকৃতি দেবে, চিকিৎসা দেবে, আইনি সহায়তা দেবে এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে, ইনশাআল্লাহ। ইশরাক হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জাতিসংঘের গুমবিরোধী সনদে যোগ দিয়েছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য আইন প্রণয়নের কাজ জাতীয় সংসদে এগোচ্ছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সত্য উদ্ঘাটিত হবে, দায়ীরা বিচারের মুখোমুখি হবেন এবং এমন অন্ধকার আর ফিরে আসতে পারবে না। নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের কষ্ট আমরা অনুভব করি। আপনারা যে সাহস নিয়ে বছরের পর বছর প্রিয়জনের খোঁজ করেছেন, সেই সাহসই এই জাতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আজ আমাদের সামনে চারটি দায়িত্ব অত্যন্ত স্পষ্ট—সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতিকার ও পুনর্বাসন এবং এই অপরাধের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করা।

আরও পড়ুনঃ  শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশে হবে না: সারজিস