Dhaka ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাঁশখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তিন কন্যার পর সাগর মোল্লার ঘরে ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম ​ রায়পুরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমের উদ্বোধন, দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব লালপুর থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলামকে নাটোর জেলা পুলিশের সম্মাননা প্রদান জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‎ মান্দায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল এক মহল্লায় তিন মেয়র প্রার্থী নিয়ে গ্যাঁড়াকলে সমর্থকরা নির্মাণের নয় বছর তালাবদ্ধ বরিশাল শিশু হাসপাতাল সালাহউদ্দিন সাহেব সব মন্ত্রণালয়ের পারদর্শী লোক: বিরোধীদলীয় নেতা জামালপুরের বকশিগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ সহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

লাল ফিতায় বন্দি রংপুরের সম্ভাবনা: ২৮ কোটির শিল্প পার্ক ঝুলে আছে দুই বছর

মোঃ মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ

উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারতো ‘রংপুর কৃষিপণ্য ও ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প পার্ক’। কিন্তু বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর দীর্ঘসূত্রতায় প্রকল্পটি এখন কেবলই কাগজের দলিলে সীমাবদ্ধ। দুই বছর আগে পাঠানো পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবটি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কার্যালয়ে ধুলো জমলেও, তা এখনো পৌঁছায়নি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। ফলে থমকে আছে বিনিয়োগ, অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।

উদ্যোগ যখন ফাইলের ভেতর বন্দি

২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল রংপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোবাশ্বের হাসান বিসিক চেয়ারম্যানের কাছে এই প্রকল্পের একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা পাঠান। সেখানে সদর উপজেলার হরিদেবপুর ও রামনাথপুর মৌজায় ১০০ একর জমিতে এই শিল্প পার্ক গড়ে তোলার কথা বলা হয়। জমির অধিগ্রহণ মূল্য ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বাজেট ধরা হয়েছিল প্রায় ২৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দুই বছর পার হয়ে গেলেও বিসিক থেকে ফাইলটি পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রাম পটিয়ায় চালককে অজ্ঞান করে ১৬ লাখ টাকার চিনিসহ কাভার্ডভ্যান ছিনতাই

বঞ্চিত হচ্ছে রংপুর

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এই দীর্ঘসূত্রতা উত্তরাঞ্চলের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ। ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০২৪ সালে প্রস্তাব গেল, এখন ২০২৬ সাল চলছে। অথচ কোনো অগ্রগতি নেই। এটি আমাদের অঞ্চলের উন্নয়নবঞ্চনার একটি বড় উদাহরণ। এভাবে চলতে থাকলে নতুন বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলবেন।’

আরও পড়ুনঃ  জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‎

নারী উদ্যোক্তা রহিমা বেগমের কণ্ঠেও ঝরল হতাশা। তিনি বলেন, ‘আমরা পণ্য উৎপাদন করি ঠিকই, কিন্তু সঠিক বাজার বা বিক্রয়কেন্দ্রের অভাবে পিছিয়ে পড়ছি। এই প্রকল্পে একটি সুনির্দিষ্ট সেলস সেন্টারের পরিকল্পনা ছিল, যা আমাদের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিল। কিন্তু এখন সব অনিশ্চিত।’

অপেক্ষার প্রহর ও সম্ভাবনা

প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ১০০ একর জমির মধ্যে ২০ একর রয়েছে সরকারি খাস জমি, আর বাকি ৮০ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন। প্রতি শতক জমির দাম মাত্র ৫ হাজার টাকা হওয়ায় সরকারের জন্য এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী একটি প্রকল্প হতে পারতো। বিসিকের রংপুর জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক এহেছানুল হক জানান, ‘জায়গাটি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি, শিল্প নগরী করার জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী। এটি বাস্তবায়িত হলে পুরো উত্তরবঙ্গের শিল্পায়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।’

আরও পড়ুনঃ  সিলেট সীমান্তে ২২ লাখ টাকার চোরাচালান জব্দ

কেন এই বিলম্ব?

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিসিকের অনুমোদনের পর তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র হয়ে একনেক সভায় পাস হতে হয়। কিন্তু রংপুরের এই প্রকল্পটি প্রথম ধাপেই আটকে থাকায় প্রশ্ন উঠছে বিসিকের সদিচ্ছা নিয়ে।

রংপুরের শিল্পায়নের চাকা সচল করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই কৃষি শিল্প পার্কের কোনো বিকল্প নেই। এখন দেখার বিষয়, বিসিকের ফাইল থেকে মুক্তি পেয়ে কবে আলোর মুখ দেখে এই স্বপ্নের প্রকল্প। দ্রুত একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে রংপুরের পিছিয়ে পড়া অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাঁশখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

লাল ফিতায় বন্দি রংপুরের সম্ভাবনা: ২৮ কোটির শিল্প পার্ক ঝুলে আছে দুই বছর

আপডেটের সময়: ০১:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মোঃ মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ

উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারতো ‘রংপুর কৃষিপণ্য ও ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প পার্ক’। কিন্তু বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর দীর্ঘসূত্রতায় প্রকল্পটি এখন কেবলই কাগজের দলিলে সীমাবদ্ধ। দুই বছর আগে পাঠানো পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবটি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কার্যালয়ে ধুলো জমলেও, তা এখনো পৌঁছায়নি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। ফলে থমকে আছে বিনিয়োগ, অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।

উদ্যোগ যখন ফাইলের ভেতর বন্দি

২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল রংপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোবাশ্বের হাসান বিসিক চেয়ারম্যানের কাছে এই প্রকল্পের একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা পাঠান। সেখানে সদর উপজেলার হরিদেবপুর ও রামনাথপুর মৌজায় ১০০ একর জমিতে এই শিল্প পার্ক গড়ে তোলার কথা বলা হয়। জমির অধিগ্রহণ মূল্য ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বাজেট ধরা হয়েছিল প্রায় ২৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দুই বছর পার হয়ে গেলেও বিসিক থেকে ফাইলটি পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

বঞ্চিত হচ্ছে রংপুর

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এই দীর্ঘসূত্রতা উত্তরাঞ্চলের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ। ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০২৪ সালে প্রস্তাব গেল, এখন ২০২৬ সাল চলছে। অথচ কোনো অগ্রগতি নেই। এটি আমাদের অঞ্চলের উন্নয়নবঞ্চনার একটি বড় উদাহরণ। এভাবে চলতে থাকলে নতুন বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলবেন।’

আরও পড়ুনঃ  রায়পুরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমের উদ্বোধন, দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব

নারী উদ্যোক্তা রহিমা বেগমের কণ্ঠেও ঝরল হতাশা। তিনি বলেন, ‘আমরা পণ্য উৎপাদন করি ঠিকই, কিন্তু সঠিক বাজার বা বিক্রয়কেন্দ্রের অভাবে পিছিয়ে পড়ছি। এই প্রকল্পে একটি সুনির্দিষ্ট সেলস সেন্টারের পরিকল্পনা ছিল, যা আমাদের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিল। কিন্তু এখন সব অনিশ্চিত।’

অপেক্ষার প্রহর ও সম্ভাবনা

প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ১০০ একর জমির মধ্যে ২০ একর রয়েছে সরকারি খাস জমি, আর বাকি ৮০ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন। প্রতি শতক জমির দাম মাত্র ৫ হাজার টাকা হওয়ায় সরকারের জন্য এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী একটি প্রকল্প হতে পারতো। বিসিকের রংপুর জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক এহেছানুল হক জানান, ‘জায়গাটি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি, শিল্প নগরী করার জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী। এটি বাস্তবায়িত হলে পুরো উত্তরবঙ্গের শিল্পায়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।’

আরও পড়ুনঃ  এক দোকানে বেড়া কেটে ২০ লাখ টাকার ঘড়ি চুরি

কেন এই বিলম্ব?

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিসিকের অনুমোদনের পর তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র হয়ে একনেক সভায় পাস হতে হয়। কিন্তু রংপুরের এই প্রকল্পটি প্রথম ধাপেই আটকে থাকায় প্রশ্ন উঠছে বিসিকের সদিচ্ছা নিয়ে।

রংপুরের শিল্পায়নের চাকা সচল করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই কৃষি শিল্প পার্কের কোনো বিকল্প নেই। এখন দেখার বিষয়, বিসিকের ফাইল থেকে মুক্তি পেয়ে কবে আলোর মুখ দেখে এই স্বপ্নের প্রকল্প। দ্রুত একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে রংপুরের পিছিয়ে পড়া অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।