
অপু দাস,রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর পুঠিয়া থানার একটি আলোচিত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. স্বাধীনকে (২০) কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) দুটি ইউনিটের যৌথ অভিযানিক দল। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৫ মিনিটে কুষ্টিয়া সদর থানার ৪ নম্বর বটতলা ইউনিয়নের বরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে এসআরবি-৫, রাজশাহী ও এসআরবি-১২, কুষ্টিয়ার সদস্যরা অংশ নেন।
এসআরবির দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, অস্ত্রধারী অপরাধী গ্রেপ্তার, ভেজাল পণ্য, ছিনতাই, ধর্ষণ, অপহরণ এবং মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজশাহীর পুঠিয়া এলাকায় বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে মো. রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, এ ঘটনায় মো. স্বাধীন ও তার বাবা মো. শাহিন জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তারা হাতুড়ি ও কাঠের টুকরা দিয়ে রুহুল আমিনের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় পুঠিয়া থানায় ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর ১১। দণ্ডবিধির ৪৪৭/৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা এ মামলায় মো. স্বাধীন ও তার বাবা মো. শাহিনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক ছিলেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান পরিচালনার ধারাবাহিকতায় এসআরবি-৫-এর রাজশাহী সদর কোম্পানি এবং এসআরবি-১২-এর কুষ্টিয়া সিপিসি-১-এর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া জেলার সদর থানাধীন ৪ নম্বর বটতলা ইউনিয়নের বরিয়া গ্রামে জনৈক আসাদুল আলমের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকেই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি মো. স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. স্বাধীন রাজশাহীর পুঠিয়া থানার বারুইপাড়া এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. শাহিন। এসআরবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুহুল আমিন হত্যা মামলার ঘটনা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. স্বাধীনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুষ্টিয়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় মামলার অপর আসামি মো. শাহিনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। হত্যা মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















