
অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো: মায়ের চরণে অঞ্জলি নিবেদন, ঢাকের বোল, কাঁসর-ঘণ্টার ধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর থাকা রাজশাহী অঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলোতে এখন কেবলই বিষাদের সুর। আজ বিজয়া দশমী—সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন। মর্ত্যলোক ছেড়ে দেবী দুর্গার স্বামীালয় বা কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পালা।
আজ বুধবার দিনভর নানা আনুষ্ঠানিকতা ও শোভাযাত্রা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটছে ছয় দিনব্যাপী এই উৎসবের।
রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও আজ বিজয়ার সকালে ভক্তদের মনে এক ধরনের না পাওয়ার বেদনা কাজ করছে। সকালে দেবীর দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আজকের আনুষ্ঠানিকতা।
এরপর বিবাহিত নারীদের অংশগ্রহণে মণ্ডপগুলোতে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী ‘সিঁদুর খেলা’। একে অপরের কপাল ও চিবুকে সিঁদুর মাখিয়ে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগামী বছরের আগমনী বার্তা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন ভক্তরা। এ সময় অনেককেই চোখের কোণে জল মুছতে দেখা যায়, কারণ মা উমা যে আজই বিদায় নিচ্ছেন।
এ বছর রাজশাহী জেলা ও মহানগরে অত্যন্ত শান্তিপূর্র্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি, জেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের যৌথ ব্যবস্থাপনায় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিটি মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল রাজশাহী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও মন্দির প্রাঙ্গণ। আলোকসজ্জা আর বর্ণিল তোরণে সেজেছিল পুরো রাজশাহী মহানগরী।
দুপুরের পর থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমাগুলো ট্রাক বা ভ্যানে করে নির্দিষ্ট বিসর্জন ঘাটের দিকে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। পদ্মার পাড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজক কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে শোভাযাত্রা ও বিসর্জন ঘাটগুলোতে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজশাহী জেলার নেতৃবৃন্দ জানান, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাজশাহীর আপামর জনসাধারণ যেভাবে এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন, তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় অত্যন্ত আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হচ্ছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে পঞ্জিকা মতে মা দুর্গার প্রতি বিদায় জানিয়ে ভক্তরা উচ্চারণ করবেন— “আসছে বছর আবার হবে।”
প্রতিবেদকের নাম 



















