
জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের পদটি দীর্ঘ ২০ দিন ধরে খালি পড়ে আছে। উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক পদে কোনো কর্মকর্তা না থাকায় ই-নামজারি (খারিজ), ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভূমি-সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো সাধারণ মানুষ। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে উপজেলা ভূমি অফিসের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রমও। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলা ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এসিল্যান্ড না থাকায় অনলাইনে জমা পড়া নামজারির আবেদনগুলো সময়মতো নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। জমি কেনাবেচা, ব্যাংকে ঋণ বা বন্ধক রাখা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে নামজারি করাতে আসা সেবাগ্রহীতারা প্রতিদিন অফিসে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে ফিরে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জানান, এসিল্যান্ড না থাকায় গত ২০ দিন ধরে নামজারি ও জমাখারিজের সব ধরনের কার্যক্রম থমকে আছে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়ন থেকে নামজারির কাজ করাতে আসা আব্দুল খালেক আক্ষেপ করে বলেন, “বেশ কিছুদিন আগে অনলাইনে এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিয়েছি। কিন্তু এসিল্যান্ড না থাকায় ফাইল অনুমোদন হচ্ছে না। আমার জরুরি একটি কাজে জমি বন্ধক দেওয়ার কথা ছিল, যা আটকে থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় আছি। এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ. বি. এম. মশিউজ্জামান জানান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার এসিল্যান্ড পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। তবে নতুন কর্মকর্তা যোগদানের আগ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এসিল্যান্ডের যাবতীয় দাপ্তরিক ও জরুরি কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এই পদে নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন করা হবে বলে আশা করছি। পদটি শূন্য থাকলেও নাগরিকদের ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
প্রতিবেদকের নাম 


















