
শাকিব আহম্মেদ.লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে তিনজনের পদায়ন থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। পদায়ন থাকা তিনজনের মধ্যে আতিকুর রহমান প্রেষণে জয়পুরহাট ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁর বেতন-ভাতা লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই দেওয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। ফলে কাগজে-কলমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকলেও বাস্তবে কাজ করছেন দুজন। এতে হাসপাতালের ল্যাবরেটরি সেবায় জনবলসংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সকালবেলার অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে বেলা ১২টার পর নতুন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে দেখা যায় আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নেন। এসব রোগীর একটি বড় অংশকে রোগ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালের ল্যাবরেটরি এসব পরীক্ষার অন্যতম প্রধান ভরসা।
কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় দুপুরের পর নমুনা সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগীদের একটি অংশকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে ল্যাবসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দুজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক রোগীর পরীক্ষার চাপ সামলানো কঠিন। সকালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের পর নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করাতে এসে অনেক রোগীকে ফিরে যেতে হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, চিকিৎসকের পরামর্শের পর ল্যাবে পরীক্ষা করাতে গেলে অনেক সময় নমুনা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। আবার সকালে নমুনা দিতে পারলেও রিপোর্ট পেতে দুপুর হয়ে যায়। এতে একই দিনে রিপোর্ট চিকিৎসককে দেখানো সম্ভব হয় না। ফলে চিকিৎসা নিতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, আতিকুর রহমানের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। অতীতে তিনি বাড়ি থেকে নিয়মিত অফিস করতেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকি জোরদার হওয়ায় বাড়ি থেকে নিয়মিত যাতায়াত করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এরপর প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে নিয়মিত বদলির পরিবর্তে তিনি বাড়ির কাছাকাছি জয়পুরহাটে প্রেষণে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আতিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়টিকে ‘গোপনীয় ইস্যু’ উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান, আতিকুর রহমান প্রেষণে থাকায় লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পদটি শূন্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে না। ফলে ওই পদে নতুন কোনো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদায়নের সুযোগও তৈরি হচ্ছে না। তাঁদের মতে, তাঁকে লালপুর থেকে নিয়মিত বদলি করা হলে পদটি শূন্য হবে এবং সেখানে নতুন টেকনোলজিস্ট পদায়ন করা সম্ভব হবে। এতে ল্যাবের সেবা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও কমানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান বলেন, “ল্যাবে টেকনোলজিস্টদের রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একজন প্রেষণে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কাউকে নতুন করে পদায়নও করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের ল্যাবরেটরি স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল নিশ্চিত করে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সময় বাড়ানো গেলে রোগীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর তাঁদের নির্ভরতা আরও কার্যকর হবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















