Dhaka ০৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বগুড়ার ধুনটে এলাঙ্গী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে চোখের ছানি পরীক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন দক্ষতা বিকাশে মেরিটাইম মুট কোর্ট কম্পিটিশনে চিলমারীর আল বাশার মোঃ বিধানের অংশগ্রহন কাউনিয়ায় সামাজিক মূল্যবোধ বিষয়ে পিএফজি কমিটির সভা বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের ২০২৬-২৭ নির্বাচনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী হলেন ভোলার কামাল বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতুর দাবিতে ২০ জেলা পায়ে হেঁটে ঢাকায় বাবা-ছেলে: ১৯ দিনের পদযাত্রা শেষে স্মারকলিপির প্রস্তুতি মুরাদনগরে জন্মসনদ জালিয়াতির দায়ে ইউপি কর্মকর্তা বরখাস্ত মেধা মূল্যায়নে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বদলগাছী উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর দেশে ৫৮ হাজারের বেশি চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতুর দাবিতে ২০ জেলা পায়ে হেঁটে ঢাকায় বাবা-ছেলে: ১৯ দিনের পদযাত্রা শেষে স্মারকলিপির প্রস্তুতি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ সময় দেখুন

মোঃ রাসেল মিয়া, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার বালাসীঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক ও রেলসেতু নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে রাজধানীতে পৌঁছেছেন এক বাবা ও তার ছেলে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে গত ১৬ আগস্ট শুরু হওয়া তাদের ব্যতিক্রমী এই ‘লং মার্চ’ ১৯তম দিনে শনিবার রাজধানী ঢাকার জিরো পয়েন্টে এসে পৌঁছায়। দেশের ২০টি জেলা অতিক্রম করে ঢাকায় আসা এই পদযাত্রীদ্বয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করবেন।

​পদযাত্রাকারী বাবা ও ছেলে গাইবান্ধা থেকে যাত্রা শুরু করে বগুড়া, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও মুন্সিগঞ্জ হয়ে ঢাকার সীমানায় প্রবেশ করেন। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে ক্লান্তি উপেক্ষা করে প্রতিদিন গড়ে মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন তারা। বিভিন্ন জেলা সদর ও গ্রামীণ জনপদে সাধারণ পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতুর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এবং এই দাবির পক্ষে জনমত গঠন করেন।

আরও পড়ুনঃ  পলাশবাড়ীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৩ লক্ষ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

​বাবা-ছেলের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল ঐতিহ্যবাহী বালাসী-বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ-রুট। যমুনা নদীর নাব্যসংকট এবং বিকল্প সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বন্ধ রয়েছে। ফলে রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রামসহ সংলগ্ন জেলাগুলোর মানুষকে যমুনা সেতু হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে ঢাকায় আসতে হচ্ছে। বালাসী ও বাহাদুরাবাদের মধ্যে সড়ক ও রেল সংযোগসহ একটি সেতু নির্মিত হলে রংপুর বিভাগ থেকে জামালপুর, ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকার দূরত্ব নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

আরও পড়ুনঃ  নাটোর জেলা পুলিশ লাইন্সে কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত

​লং মার্চে অংশ নেওয়া বাবা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে উত্তর জনপদের মানুষ এই সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে। আশ্বাসের পর আশ্বাস এলেও প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের শাকসবজি ও ফসল দ্রুত রাজধানীতে পাঠাতে এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতে এই সেতু বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ আকর্ষণ এবং বিষয়টিকে গণদাবিতে রূপ দিতেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নেমেছি।”

আরও পড়ুনঃ  উলিপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি সালেহীর মতবিনিময়

​পদযাত্রী বাবা-ছেলে আরো জানান, ঢাকায় পৌঁছানোর পর তাদের মূল লক্ষ্য সেতু ভবনে গিয়ে সেতু বিভাগের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা এবং সরকারের শীর্ষ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

পদযাত্রাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও ব্যাপক সহমর্মিতা তৈরি করেছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বগুড়ার ধুনটে এলাঙ্গী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতুর দাবিতে ২০ জেলা পায়ে হেঁটে ঢাকায় বাবা-ছেলে: ১৯ দিনের পদযাত্রা শেষে স্মারকলিপির প্রস্তুতি

আপডেটের সময়: ০৬:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ রাসেল মিয়া, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার বালাসীঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক ও রেলসেতু নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে রাজধানীতে পৌঁছেছেন এক বাবা ও তার ছেলে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে গত ১৬ আগস্ট শুরু হওয়া তাদের ব্যতিক্রমী এই ‘লং মার্চ’ ১৯তম দিনে শনিবার রাজধানী ঢাকার জিরো পয়েন্টে এসে পৌঁছায়। দেশের ২০টি জেলা অতিক্রম করে ঢাকায় আসা এই পদযাত্রীদ্বয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করবেন।

​পদযাত্রাকারী বাবা ও ছেলে গাইবান্ধা থেকে যাত্রা শুরু করে বগুড়া, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও মুন্সিগঞ্জ হয়ে ঢাকার সীমানায় প্রবেশ করেন। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে ক্লান্তি উপেক্ষা করে প্রতিদিন গড়ে মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন তারা। বিভিন্ন জেলা সদর ও গ্রামীণ জনপদে সাধারণ পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতুর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এবং এই দাবির পক্ষে জনমত গঠন করেন।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের ২০২৬-২৭ নির্বাচনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী হলেন ভোলার কামাল

​বাবা-ছেলের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল ঐতিহ্যবাহী বালাসী-বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ-রুট। যমুনা নদীর নাব্যসংকট এবং বিকল্প সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বন্ধ রয়েছে। ফলে রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রামসহ সংলগ্ন জেলাগুলোর মানুষকে যমুনা সেতু হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে ঢাকায় আসতে হচ্ছে। বালাসী ও বাহাদুরাবাদের মধ্যে সড়ক ও রেল সংযোগসহ একটি সেতু নির্মিত হলে রংপুর বিভাগ থেকে জামালপুর, ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকার দূরত্ব নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

আরও পড়ুনঃ  জনসেবার মনোন্নয়নে মাটিন্দরে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক মডেল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন

​লং মার্চে অংশ নেওয়া বাবা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে উত্তর জনপদের মানুষ এই সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে। আশ্বাসের পর আশ্বাস এলেও প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের শাকসবজি ও ফসল দ্রুত রাজধানীতে পাঠাতে এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতে এই সেতু বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ আকর্ষণ এবং বিষয়টিকে গণদাবিতে রূপ দিতেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নেমেছি।”

আরও পড়ুনঃ  স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নবনিযুক্ত সচিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন রাসিক প্রশাসক

​পদযাত্রী বাবা-ছেলে আরো জানান, ঢাকায় পৌঁছানোর পর তাদের মূল লক্ষ্য সেতু ভবনে গিয়ে সেতু বিভাগের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা এবং সরকারের শীর্ষ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

পদযাত্রাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও ব্যাপক সহমর্মিতা তৈরি করেছে।