Dhaka ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তি এক হয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভেদরগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির র‍্যালি ও আলোচনা সভা ফরিদগঞ্জে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত লামায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার বন্যহাতি তাড়ানোর বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক ফাঁদ নিয়ে উদ্বেগ শহীদ জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: জিএম সিরাজ জিয়াউর রহমান দেশের ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে গেছেন বিদ্যুৎ,খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রী,টুকু ধামইরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক একাডেমিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কা বিতরণ গণসংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিশাল র‍্যালি ‎ ‎ লক্ষ্মীপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

প্রবাসী রিপন সরকারের কেনা জমি প্রতারণার মাধ্যমে মালিকানা নেওয়ার অভিযোগ রুপন দাশের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি: দীর্ঘ ১৮ বছর প্রবাসে জীবন কাটিয়ে তিলে তিলে সঞ্চয় করেছিলেন কিছু অর্থ। দেশে ফিরে জীবিকা নির্বাহের আশায় সেই কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে জমি কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন দুবাইপ্রবাসী রিপন সরকার। খাগড়াছড়িতে তাঁর অর্থে জমি ক্রয় করে একটি অংশ নিজের নামে মালিকানা নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে খাগড়াছড়ির গঞ্জপাড়ার বাসিন্দা রুপন কান্তি দাশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। জানা যায়, দুবাইপ্রবাসী রিপন সরকার খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার উত্তর টিএনটি এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বিশ্বাসের সূত্র ধরে খাগড়াছড়িতে জমি কেনার উদ্যোগ নেন তিনি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ২৬২ নম্বর গোলাবাড়ী মৌজার আলুটিলা রাবার বাগান এলাকার ২ একর ২৫ শতক বাগান উপযোগী পাহাড়ি জমি। রিপন সরকারের পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি জমিটি কেনা হয়। জমিটির প্রকৃত মূল্য ছিল ১০ লাখ টাকা। তবে রিপন সরকারকে জমির মূল্য ১৮ লাখ টাকা জানানো হয়। তাঁদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, জমির ১ একর ৫০ শতক বা দুই-তৃতীয়াংশের জন্য রিপন সরকার ১২ লাখ টাকা দেন এবং অবশিষ্ট ০.৭৫ একর বা এক-তৃতীয়াংশ রুপন কান্তি দাশের অংশ হিসেবে ৬ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

 

এ ছাড়া বাগান পরিচর্যা ও দেখভালের কথা বলে রিপন সরকারের কাছ থেকে আরও ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে জমির প্রকৃত মূল্য ও মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ছল ও প্রতারণা করে নেওয়া অর্থ ফেরত না দিয়ে উল্টো রুপন কান্তি দাশের ০. ৭৫ একর জমি ৭ লাখ টাকায় কিনে নিতে রিপন সরকারকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যথায় জমিটি অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি। একপর্যায়ে নিজের ক্রয়কৃত জমি হারানোর আশঙ্কায় এ বাবদ আরও ৩ লাখ টাকা দিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। সর্বশেষ জমির বাবদ আরও ৪ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে মামলা ও হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রিপন সরকার ও তাঁর পরিবার। তাঁদের দাবি, জমি ক্রয়, বাগান পরিচর্যা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতসহ মিলিয়ে সম্পূর্ণ ২ একর ২৫ শতক জমির প্রকৃত মূল্য ১০ লক্ষ টাকার বিপরীতে প্রতারণার মাধ্যমে রিপন সরকার মোট ১৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা দিয়েছেন। জমির প্রকৃত মালিক নবীনা ত্রিপুরা ও তাঁর ছেলে কৌশিক চাকমা প্রতিবেদককে জানান, তাঁরা পুরো ২ একর ২৫ শতক জমি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। প্রথমে তাঁরা জানতেন, রুপন কান্তি দাশ জমিটি কিনেছেন। পরে জানতে পারেন, জমিটি রিপন সরকার ও রুপন কান্তি দাশের যৌথ নামে ১৮ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  শহীদ জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: জিএম সিরাজ

 

আলুটিলা এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল ত্রিপুরাও জানান, নবীনা ত্রিপুরার কাছ থেকে রুপন কান্তি দাশ পুরো জমি ১০ লাখ টাকায় কিনেছিলেন দুবাইপ্রবাসী রিপন সরকার বলেন, “জমি কেনার আগে প্রকৃত মালিকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনা করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু রুপন কান্তি দাশ জমির মালিক অসুস্থ বলে অজুহাত দেখিয়ে যোগাযোগ করিয়ে দেননি। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বিশ্বাসের কারণে তাঁকে জমি কেনার জন্য অর্থ দিয়েছিলাম। আমাদের উভয়ের শেয়ারে জমি কেনার কথা ছিল ১৮ লাখ টাকায়। কিন্তু জমি কেনার ক্ষেত্রে রুপন কান্তি দাশের নিজস্ব কোনো অর্থ বিনিয়োগ ছিল না। আমার দেওয়া অর্থেই সম্পূর্ণ ২ একর ২৫ শতক জমি কেনা হয়। ১০ লক্ষ টাকা জমির মূল্যে আমার ১ একর ৫০ শতক অংশের দাম পড়ে ৬ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা প্রায়। অথচ জমির ৭৫ শতক অংশ তাঁর নিজের নামে দলিলভুক্ত করা হয়েছে বলে আমার অভিযোগ। তিনি আরও বলেন, “জমির প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে মালিকপক্ষের কাছ থেকে ভিন্ন তথ্য জানার পর সন্দেহ ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে জমি বিক্রিসহ বিভিন্ন অজুহাতে আমার কাছ থেকে মোট ১৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন তিনি নিজেকে অভিযোগ থেকে আড়াল করতে নানা ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন এবং আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুনঃ  পানি ছাড়লেও মাছশূন্য কালভার্ট এলাকা,টাঙ্গন নদীতে অবাধ্য রিং ও কারেন্ট জালের কারণে।

 

এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে রিপন সরকারের বাবা তপন সরকার সনাতন সমাজ কল্যাণ পরিষদ, খাগড়াছড়ি সদর কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেন এবং বিচারকার্য কালে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে রুপন দাশ ১০ লক্ষ টাকায় জায়গায় ক্রয় করার বিষয়টি স্বীকার করেন। কিন্তু দুঃখের সহিত তপন সরকার জানান, সনাতন সমাজ কল্যাণ সহ সামাজিকভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ন্যায়বিচার ও পাওনা অর্থ ফিরে পাওয়ার আশায় তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান দাবি করেন অন্যদিকে, রুপন কান্তি দাশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পত্রিকার পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও বন্ধুত্ত্বের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এমন প্রতিারণা সবাইকে সতর্ক হওয়ার বার্তা দেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির দলিল, ব্যাংক লেনদেনের রসিদ, আইনি নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট ভিডিও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় ৩০ শিক্ষার্থীকে কোরআন ছবক প্রদান
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তি এক হয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রবাসী রিপন সরকারের কেনা জমি প্রতারণার মাধ্যমে মালিকানা নেওয়ার অভিযোগ রুপন দাশের বিরুদ্ধে

আপডেটের সময়: ০৫:৩৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি: দীর্ঘ ১৮ বছর প্রবাসে জীবন কাটিয়ে তিলে তিলে সঞ্চয় করেছিলেন কিছু অর্থ। দেশে ফিরে জীবিকা নির্বাহের আশায় সেই কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে জমি কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন দুবাইপ্রবাসী রিপন সরকার। খাগড়াছড়িতে তাঁর অর্থে জমি ক্রয় করে একটি অংশ নিজের নামে মালিকানা নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে খাগড়াছড়ির গঞ্জপাড়ার বাসিন্দা রুপন কান্তি দাশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। জানা যায়, দুবাইপ্রবাসী রিপন সরকার খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার উত্তর টিএনটি এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বিশ্বাসের সূত্র ধরে খাগড়াছড়িতে জমি কেনার উদ্যোগ নেন তিনি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ২৬২ নম্বর গোলাবাড়ী মৌজার আলুটিলা রাবার বাগান এলাকার ২ একর ২৫ শতক বাগান উপযোগী পাহাড়ি জমি। রিপন সরকারের পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি জমিটি কেনা হয়। জমিটির প্রকৃত মূল্য ছিল ১০ লাখ টাকা। তবে রিপন সরকারকে জমির মূল্য ১৮ লাখ টাকা জানানো হয়। তাঁদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, জমির ১ একর ৫০ শতক বা দুই-তৃতীয়াংশের জন্য রিপন সরকার ১২ লাখ টাকা দেন এবং অবশিষ্ট ০.৭৫ একর বা এক-তৃতীয়াংশ রুপন কান্তি দাশের অংশ হিসেবে ৬ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

 

এ ছাড়া বাগান পরিচর্যা ও দেখভালের কথা বলে রিপন সরকারের কাছ থেকে আরও ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে জমির প্রকৃত মূল্য ও মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ছল ও প্রতারণা করে নেওয়া অর্থ ফেরত না দিয়ে উল্টো রুপন কান্তি দাশের ০. ৭৫ একর জমি ৭ লাখ টাকায় কিনে নিতে রিপন সরকারকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যথায় জমিটি অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি। একপর্যায়ে নিজের ক্রয়কৃত জমি হারানোর আশঙ্কায় এ বাবদ আরও ৩ লাখ টাকা দিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। সর্বশেষ জমির বাবদ আরও ৪ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে মামলা ও হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রিপন সরকার ও তাঁর পরিবার। তাঁদের দাবি, জমি ক্রয়, বাগান পরিচর্যা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতসহ মিলিয়ে সম্পূর্ণ ২ একর ২৫ শতক জমির প্রকৃত মূল্য ১০ লক্ষ টাকার বিপরীতে প্রতারণার মাধ্যমে রিপন সরকার মোট ১৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা দিয়েছেন। জমির প্রকৃত মালিক নবীনা ত্রিপুরা ও তাঁর ছেলে কৌশিক চাকমা প্রতিবেদককে জানান, তাঁরা পুরো ২ একর ২৫ শতক জমি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। প্রথমে তাঁরা জানতেন, রুপন কান্তি দাশ জমিটি কিনেছেন। পরে জানতে পারেন, জমিটি রিপন সরকার ও রুপন কান্তি দাশের যৌথ নামে ১৮ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চিলমারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

 

আলুটিলা এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল ত্রিপুরাও জানান, নবীনা ত্রিপুরার কাছ থেকে রুপন কান্তি দাশ পুরো জমি ১০ লাখ টাকায় কিনেছিলেন দুবাইপ্রবাসী রিপন সরকার বলেন, “জমি কেনার আগে প্রকৃত মালিকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনা করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু রুপন কান্তি দাশ জমির মালিক অসুস্থ বলে অজুহাত দেখিয়ে যোগাযোগ করিয়ে দেননি। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বিশ্বাসের কারণে তাঁকে জমি কেনার জন্য অর্থ দিয়েছিলাম। আমাদের উভয়ের শেয়ারে জমি কেনার কথা ছিল ১৮ লাখ টাকায়। কিন্তু জমি কেনার ক্ষেত্রে রুপন কান্তি দাশের নিজস্ব কোনো অর্থ বিনিয়োগ ছিল না। আমার দেওয়া অর্থেই সম্পূর্ণ ২ একর ২৫ শতক জমি কেনা হয়। ১০ লক্ষ টাকা জমির মূল্যে আমার ১ একর ৫০ শতক অংশের দাম পড়ে ৬ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা প্রায়। অথচ জমির ৭৫ শতক অংশ তাঁর নিজের নামে দলিলভুক্ত করা হয়েছে বলে আমার অভিযোগ। তিনি আরও বলেন, “জমির প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে মালিকপক্ষের কাছ থেকে ভিন্ন তথ্য জানার পর সন্দেহ ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে জমি বিক্রিসহ বিভিন্ন অজুহাতে আমার কাছ থেকে মোট ১৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন তিনি নিজেকে অভিযোগ থেকে আড়াল করতে নানা ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন এবং আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুনঃ  জিয়াউর রহমান দেশের ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে গেছেন বিদ্যুৎ,খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রী,টুকু

 

এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে রিপন সরকারের বাবা তপন সরকার সনাতন সমাজ কল্যাণ পরিষদ, খাগড়াছড়ি সদর কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেন এবং বিচারকার্য কালে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে রুপন দাশ ১০ লক্ষ টাকায় জায়গায় ক্রয় করার বিষয়টি স্বীকার করেন। কিন্তু দুঃখের সহিত তপন সরকার জানান, সনাতন সমাজ কল্যাণ সহ সামাজিকভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ন্যায়বিচার ও পাওনা অর্থ ফিরে পাওয়ার আশায় তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান দাবি করেন অন্যদিকে, রুপন কান্তি দাশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পত্রিকার পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও বন্ধুত্ত্বের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এমন প্রতিারণা সবাইকে সতর্ক হওয়ার বার্তা দেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির দলিল, ব্যাংক লেনদেনের রসিদ, আইনি নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট ভিডিও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে অবৈধ ক্লিনিক প্রতিষ্ঠানে সিলগালা, রাইস মিলকে জরিমানা