
মাসুদ রানা মাসুম, পার্বত্য ব্যুরো: আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও টানা অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যাকবলিত ও পানিবন্দী পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী ও মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি। তিনি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পুনর্বাসন সহায়তার আশ্বাস দেন। ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় দুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আলু, শুকনো খাবার, জরুরি ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যার পর পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিমের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবাও প্রদান করা হয়। প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “পাহাড়ের মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকে। এই দুর্যোগের মুহূর্তে সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। রোয়াংছড়ির একটি পরিবারও যেন খাদ্য বা চিকিৎসা সংকটে না ভোগে, তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত শেষ পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসা পর্যন্ত সরকারের মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, সরকার শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট, ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবিকা ও কৃষি খাত পুনর্গঠনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, রোয়াংছড়ির দুর্গম ইউনিয়নগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে জেলা পরিষদের স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকারী দল সমন্বিতভাবে কাজ করে প্রতিটি দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের এই তাৎক্ষণিক সহায়তায় বন্যার্ত পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রতিবেদকের নাম 



















