
আনছারুল হক, স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী:
নীলফামারীর নবনিযুক্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জিয়া উদ্দিন মাহমুদ-কে সংবর্ধনা এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১১টায় জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতি।
অনুষ্ঠানে নবাগত বিচারককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ (এমপি), সাধারণ সম্পাদক, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, প্রবীণ ও নবীন আইনজীবীরা। পরে বিচার বিভাগের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, মামলাজট কমানো, আদালতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিচারসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় নীলফামারীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিচার বিভাগের বিভিন্ন স্তরের বিচারক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ (এমপি), সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সোয়েম, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা সজিব এবং সমিতির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।
বক্তারা বলেন, আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় মামলাজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার ও বসার জায়গার অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এসব সংকট দ্রুত সমাধান করা গেলে বিচার কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সেবাবান্ধব হবে।
তারা আদালতের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, নতুন এজলাস নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিচারব্যবস্থা চালু এবং বিচারক, আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীরা যাতে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে দ্রুত ও ন্যায়বিচার পান, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবর্ধনার জবাবে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জিয়া উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন। দ্রুত ও মানসম্মত বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিচারক ও আইনজীবীরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অভিন্ন অংশীদার। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পেশাগত সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। আদালতের বিদ্যমান সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 



















