Dhaka ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চন্দ্রগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতির সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল কাজীর দেউড়ির ১৫৫ কেজি ওজনের কোরাল মাছ যেভাবে বিক্রি মাদক ছেড়ে তরুণদের খেলার মাঠে আসার আহ্বান জানালেন মো: পিন্টু রহমান যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ ইজারাদারদের দ্বন্দ্বে চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক চবি জামাল নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের এনেক্স ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন গাবতলীতে তকির বকুল তলা সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা মোকামতলায় চুরির প্রস্তুতিকালে চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার পবায় দ্বীনি শিক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ‘মথুরা মারকাযুল হুদা মাদ্রাসা ইলিশা-দক্ষিণ আইচা রুটে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ভোলায় বাস মালিকদের সংবাদ সম্মেলন

যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ ইজারাদারদের দ্বন্দ্বে চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৩০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৩৫ সময় দেখুন

সামায়ুন আহমদ,তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ জেলার ​যাদুকাটা নদীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি দুই ইজারাদারের অভ্যন্তরীণ ও দখল সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন লাখো সাধারণ মানুষ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। ঘাটের দখল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে পারাপার বন্ধ থাকায় তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরসহ পার্শ্ববর্তী তিনটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, অন্যদিকে বিখ্যাত সব পর্যটন কেন্দ্রে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইজারাদারদের দ্বন্দ্ব ও হঠাৎ খেয়া বন্ধ যাদুকাটা নদীর মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি এই দ্বন্দ্বে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে দেবোত্তর স্টেটের ইজারার দাবিদার শিশির মনির যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাড় মিয়ারচড় এলাকায় ও জেলা পরিষদ থেকে আনা ইজারাদার ওয়াহিদ মিয়া পশ্চিম পাড় পাঠানপাড়া এলাকায় বসে ঘাটের টোল আদায়ের চেষ্টা করে দুই পক্ষ। পরে দুই পক্ষের টোল আদায়ের করার সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে একপর্যায়ে ঘাটের স্বাভাবিক খেয়া পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ​কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ খেয়া চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদীর দুই পাড়ে হঠাৎ করেই আটকে পড়ে শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় মোবাইল কোর্টে ৬৫টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ ও ধ্বংস

 

ইজারাদারদের নিজস্ব স্বার্থের লড়াইয়ে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ​স্থবির ৩ উপজেলার জীবনযাত্রা ​মিয়ারচর-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি মূলত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর এবং আশপাশের তিন উপজেলার প্রধান সংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ​সাধারণ মানুষের ভোগান্তি: প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, হাট-বাজারের ব্যবসায়ী, জরুরি রোগী ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষ যাতায়াত করেন। খেয়া বন্ধ থাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে ঘাট বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে যেমন অতিরিক্ত সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি কয়েকগুণ বেশি পরিবহন ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ​পর্যটন খাতে মারাত্মক প্রভাব ​প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকে মুখরিত থাকে। কিন্তু এই খেয়াঘাটটি বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ​পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো অনিশ্চিত: দর্শনার্থীরা মূলত তাহিরপুরের শিমুল বাগান, বারিক্কার টিলা, নীলাদ্রি লেক, লাকমাছড়া এবং টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এই পথ ব্যবহার করে থাকেন। খেয়া পারাপার বন্ধ থাকায় যাদুকাটা নদীর পাড়ে এসে হাজার হাজার পর্যটক আটকা পড়ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই দর্শনীয় স্থানগুলো না দেখেই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ​জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি ​দুই ইজারাদারের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও পর্যটন খাত জিম্মি হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জানাযায়, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে ইজারা প্রাপ্ত হয়ে গত ১৮/২০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের মৃত দেওয়ান আলীর ছেলে ইজারা ওয়াহিদ মিয়া(৪৫)। আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার শিশির মনির নামের একজন ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ নিয়ে দেবোত্তর স্টেটের ইজারাদার দাবি করে ঘাটের দখলে আসে। এই নিয়ে দেবোত্তর স্টেট ও জেলা পরিষদ আনা দুই ইজারাদারের দ্বন্দ্বে সকাল থেকেই বন্ধ থাকে খেয়া পারাপার। যার ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে নাঈম হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

 

স্থানীয়দের ধারণ, ঘাট দখল নিয়ে দুই ইজারাদারের লোকজনের সংঘর্ষে জড়িয়ে ঘটতে পারে যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন ২৭৪০/২০২৪ নং মামলায় থাকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিন্নাকুলি,লাউড়েরগড়, বড়ণ্ডপটিলাগাঁও ও মিয়ারচর খেয়াঘাটগুলো ইজারা দেয়া যায়নি বিধায়,জেলা পরিষদের রাজস্ব আদায় খেয়াঘাটগুলোর দখল বজায় রাখা, স্থানীয় জনসাধারণের খেয়া পারাপারের সুবিধা এবং জেলা পরিষদ চলতি বছরের ২৪ জুন মাসিক সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য মোঃ ওয়াহিদ মিয়াকে ৪২ লক্ষ টাকায় টোল খাস আদায়ের অনুমতি প্রদানের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ২ জুলাই ২০২৬ হতে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক খেয়াঘাটগুলো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য খেয়াঘাটগুলো টোল খাস আদায়ে জন্য নির্দেশক্রমে অনুমতি দেয়া হয়। এদিকে,দেবোত্তর ষ্টেটের মালিকানা দাবী করে শিশির আহমেদ জানান,আমি দেবোত্তর ষ্টেটের মালিক কালী চরণ ভজন এর কাছ থেকে এই ঘাটের ইজারা এনেছি। আমি বৈধ্য ইজারাদার। আরেকটি পক্ষ যারা জেলা পরিষদ থেকে এনে ইজারাদার দাবী করছে তারা অবৈধ। মামলা জড়িত থাকার পরেও জেলা পরিষদ কিভাবে হাইকোর্টের আদেশ অন্য করে ইজারা দেয়। কারন এই ঘাট জেলা পরিষদের না। ইজারাদার মোঃ ওয়াহিদ মিয়া জানান,আমরা জেলা পরিষদ থেকে ইজারা এনেছি। শুধু এই বছরেই নয় গত দুই যুগ ধরে আমরা জেলা পরিষদ থেকে এনে এই ঘাট দিয়ে মানুষসহ বিভিন্ন যানবাহন পাড়াপার করছি। আজ হঠাৎ করে একটি পক্ষ দেবোত্তর ষ্টেটের মালিকানা দাবী করে নৌকা পাড়াপাড়ে বাঁধা সৃষ্টি করছে আর আমাদেরকে অবৈধ ইজারাদার বলছে। আমরা জেলা পরিষদ থেকে দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর ধরেই ইজারা এনে বৈধভাবেই ঘাট পরিচালনা করছি। এ বিষয়ে দেবোত্তর ষ্টেটের মালিক কালী চয়ণ দত্ত চৌধুরী ভজন জানান,আমি কোনো কাগজ শিশির কে দেই নি,তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তবে ওই সব ঘাটের মালিক আমি,জেলা পরিষদ ওই সব ঘাট খাশকালেকশন দিতে পারে না। এই বিষয়ে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল এর সাথে এই বিষয়ে বার বার মোটোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায় নি।

আরও পড়ুনঃ  প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চন্দ্রগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ ইজারাদারদের দ্বন্দ্বে চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক

আপডেটের সময়: ০৮:৩০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সামায়ুন আহমদ,তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ জেলার ​যাদুকাটা নদীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি দুই ইজারাদারের অভ্যন্তরীণ ও দখল সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন লাখো সাধারণ মানুষ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। ঘাটের দখল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে পারাপার বন্ধ থাকায় তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরসহ পার্শ্ববর্তী তিনটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, অন্যদিকে বিখ্যাত সব পর্যটন কেন্দ্রে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইজারাদারদের দ্বন্দ্ব ও হঠাৎ খেয়া বন্ধ যাদুকাটা নদীর মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি এই দ্বন্দ্বে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে দেবোত্তর স্টেটের ইজারার দাবিদার শিশির মনির যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাড় মিয়ারচড় এলাকায় ও জেলা পরিষদ থেকে আনা ইজারাদার ওয়াহিদ মিয়া পশ্চিম পাড় পাঠানপাড়া এলাকায় বসে ঘাটের টোল আদায়ের চেষ্টা করে দুই পক্ষ। পরে দুই পক্ষের টোল আদায়ের করার সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে একপর্যায়ে ঘাটের স্বাভাবিক খেয়া পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ​কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ খেয়া চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদীর দুই পাড়ে হঠাৎ করেই আটকে পড়ে শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।

আরও পড়ুনঃ  পবায় দ্বীনি শিক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ‘মথুরা মারকাযুল হুদা মাদ্রাসা

 

ইজারাদারদের নিজস্ব স্বার্থের লড়াইয়ে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ​স্থবির ৩ উপজেলার জীবনযাত্রা ​মিয়ারচর-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি মূলত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর এবং আশপাশের তিন উপজেলার প্রধান সংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ​সাধারণ মানুষের ভোগান্তি: প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, হাট-বাজারের ব্যবসায়ী, জরুরি রোগী ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষ যাতায়াত করেন। খেয়া বন্ধ থাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে ঘাট বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে যেমন অতিরিক্ত সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি কয়েকগুণ বেশি পরিবহন ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ​পর্যটন খাতে মারাত্মক প্রভাব ​প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকে মুখরিত থাকে। কিন্তু এই খেয়াঘাটটি বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ​পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো অনিশ্চিত: দর্শনার্থীরা মূলত তাহিরপুরের শিমুল বাগান, বারিক্কার টিলা, নীলাদ্রি লেক, লাকমাছড়া এবং টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এই পথ ব্যবহার করে থাকেন। খেয়া পারাপার বন্ধ থাকায় যাদুকাটা নদীর পাড়ে এসে হাজার হাজার পর্যটক আটকা পড়ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই দর্শনীয় স্থানগুলো না দেখেই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ​জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি ​দুই ইজারাদারের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও পর্যটন খাত জিম্মি হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জানাযায়, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে ইজারা প্রাপ্ত হয়ে গত ১৮/২০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের মৃত দেওয়ান আলীর ছেলে ইজারা ওয়াহিদ মিয়া(৪৫)। আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার শিশির মনির নামের একজন ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ নিয়ে দেবোত্তর স্টেটের ইজারাদার দাবি করে ঘাটের দখলে আসে। এই নিয়ে দেবোত্তর স্টেট ও জেলা পরিষদ আনা দুই ইজারাদারের দ্বন্দ্বে সকাল থেকেই বন্ধ থাকে খেয়া পারাপার। যার ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।

আরও পড়ুনঃ  নাচোলে নানা আয়োজনে দূর্ণীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত

 

স্থানীয়দের ধারণ, ঘাট দখল নিয়ে দুই ইজারাদারের লোকজনের সংঘর্ষে জড়িয়ে ঘটতে পারে যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন ২৭৪০/২০২৪ নং মামলায় থাকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিন্নাকুলি,লাউড়েরগড়, বড়ণ্ডপটিলাগাঁও ও মিয়ারচর খেয়াঘাটগুলো ইজারা দেয়া যায়নি বিধায়,জেলা পরিষদের রাজস্ব আদায় খেয়াঘাটগুলোর দখল বজায় রাখা, স্থানীয় জনসাধারণের খেয়া পারাপারের সুবিধা এবং জেলা পরিষদ চলতি বছরের ২৪ জুন মাসিক সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য মোঃ ওয়াহিদ মিয়াকে ৪২ লক্ষ টাকায় টোল খাস আদায়ের অনুমতি প্রদানের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ২ জুলাই ২০২৬ হতে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক খেয়াঘাটগুলো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য খেয়াঘাটগুলো টোল খাস আদায়ে জন্য নির্দেশক্রমে অনুমতি দেয়া হয়। এদিকে,দেবোত্তর ষ্টেটের মালিকানা দাবী করে শিশির আহমেদ জানান,আমি দেবোত্তর ষ্টেটের মালিক কালী চরণ ভজন এর কাছ থেকে এই ঘাটের ইজারা এনেছি। আমি বৈধ্য ইজারাদার। আরেকটি পক্ষ যারা জেলা পরিষদ থেকে এনে ইজারাদার দাবী করছে তারা অবৈধ। মামলা জড়িত থাকার পরেও জেলা পরিষদ কিভাবে হাইকোর্টের আদেশ অন্য করে ইজারা দেয়। কারন এই ঘাট জেলা পরিষদের না। ইজারাদার মোঃ ওয়াহিদ মিয়া জানান,আমরা জেলা পরিষদ থেকে ইজারা এনেছি। শুধু এই বছরেই নয় গত দুই যুগ ধরে আমরা জেলা পরিষদ থেকে এনে এই ঘাট দিয়ে মানুষসহ বিভিন্ন যানবাহন পাড়াপার করছি। আজ হঠাৎ করে একটি পক্ষ দেবোত্তর ষ্টেটের মালিকানা দাবী করে নৌকা পাড়াপাড়ে বাঁধা সৃষ্টি করছে আর আমাদেরকে অবৈধ ইজারাদার বলছে। আমরা জেলা পরিষদ থেকে দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর ধরেই ইজারা এনে বৈধভাবেই ঘাট পরিচালনা করছি। এ বিষয়ে দেবোত্তর ষ্টেটের মালিক কালী চয়ণ দত্ত চৌধুরী ভজন জানান,আমি কোনো কাগজ শিশির কে দেই নি,তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তবে ওই সব ঘাটের মালিক আমি,জেলা পরিষদ ওই সব ঘাট খাশকালেকশন দিতে পারে না। এই বিষয়ে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল এর সাথে এই বিষয়ে বার বার মোটোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায় নি।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে ইউসুফ ফকির হত্যাকাণ্ডে দোষীদের শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসকের ও পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি