
বিশেষ প্রতিনিধি(চট্টগ্রাম দক্ষিণ):- দক্ষিণ চট্টগ্রামের বৃহত্তর দোহাজারীকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দোহাজারীর রাজপথ। শনিবার ১০ অক্টোবর বিকেলে বৃহত্তর দোহাজারীর সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে এই দাবিতে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে দোহাজারীর সর্বস্তরের হাজার হাজার জনতা অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা অনশন, সড়কপথ ও রেলপথ অবরোধসহ কঠোর ও ধারাবাহিক আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকে। মানববন্ধনে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে আন্দোলন আয়োজকরা জানান, অবহেলিত দোহাজারীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি নিকার অনুমোদিত দোহাজারী সাঙ্গু উপজেলা না হওয়া পর্যন্ত শান্ত হবে না রাজপথ। দাবি আদায়ে পর্যায়ক্রমে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি, কালো পতাকা মিছিল, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ ব্লকেড কর্মসূচি এবং আমরণ অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা এবং বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় দোহাজারী অনেক আগেই উপজেলা হওয়ার যোগ্য ছিল। প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘদিনের উপেক্ষার কারণে অঞ্চলটি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবিলম্বে দোহাজারীকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা না করা হলে ব্লকেড কর্মসূচির মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। মানববন্ধনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি সহ রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে দোহাজারীর সর্বস্তরের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, গত ১৮ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে “দোহাজারী সাঙ্গু” নামে একটি নতুন থানা গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে দোহাজারী একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদিত ‘দোহাজারী সাঙ্গু’ থানা/উপজেলা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে।
সম্প্রতি আরও পরিলক্ষিত হয় যে, গত ১০/০৯/২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারিকৃত চিঠিতে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়ি ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে কেবল সাতকানিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে একটি পৃথক উপজেলা গঠনের প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশ চাওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত সরকারের পূর্বগৃহীত নীতিগত অবস্থান ও প্রশাসনিক নির্দেশনার সরাসরি পরিপন্থী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ইতিপূর্বের সম্মতি ও প্রশাসনিক নির্দেশনা বহাল থাকা সত্ত্বেও দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়িকে বাদ দিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে, তা স্থানীয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং এলাকাটির অধিবাসীদের প্রতি চরম বৈষম্যের শামিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত “দোহাজারী সাঙ্গু” থানা/উপজেলা অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হোক এখন এটিই এ অঞ্চলের গণমানুষের দাবী।
প্রতিবেদকের নাম 


















