
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল কিংবা প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে ঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। তার মতে, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদের নিয়মিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর উপায়। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ফরিদা খানম বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হাসপাতাল থেকে নয়, শুরু করতে হবে পরিবার ও নিজেদের বসবাসের জায়গা থেকে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা আশপাশে সামান্য পানি জমে থাকলেও সেখানে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প সময় ব্যয় করে এসব স্থান পর্যবেক্ষণ এবং জমে থাকা পানি অপসারণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে বা একদিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্নতাকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করতে হবে। প্রতিটি পরিবারকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে। একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা পরিবার ও সমাজের অন্যদের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ফরিদা খানম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি। একটি পরিবারের সচেতনতা ওই পরিবারের সদস্যদের এডিস মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সংবাদ, প্রতিবেদন ও বিভিন্ন প্রচারের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা সম্ভব। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
প্রতিবেদকের নাম 






















